ন্যাশনাল ব্যাংকের ৮০ লাখ টাকা চুরি: কালা বাবুলের দায় স্বীকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:২২ পিএম, ০৩ জুন ২০২০

রাজধানীর কোতোয়ালি থানার ইসলামপুরে ন্যাশনাল ব্যাংকের একটি গাড়ি থেকে ৮০ লাখ চুরির ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন বাবুল ওরফে কালা বাবুল।

বুধবার (৩ জুন) ঢাকা মহানগর হাকিম ইলিয়াস মিয়ার আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারায় চুরির দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি।

তিন দিনের রিমান্ড চলাকালীন আজ প্রথম দিন কালা বাবুল স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক মনিরুল ইসলাম মৃধা। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর হাকিম ইলিয়াস মিয়া তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

কোতোয়ালি থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক হেলাল উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে মঙ্গলবার (২ জুন) ঢাকা মহানগর হাকিম আবু সুফিয়ান নোমান চার আসামির তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তারা হলেন- হান্নান ওরফে রবিন (৫০), মোহাম্মদ মোস্তফা (৫২), বাবুল মিয়া ওরফে কালা বাবুল (৫৫) ও মোছা. পারভীন (৩১)।

অপরদিকে গ্রেফতার অপর আসামি আলমগীরকে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

গত সোমবার রাতে ৬০ লাখ টাকা উদ্ধার ও বিদেশি অস্ত্রসহ ওই চারজনকে গ্রেফতার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

উল্লেখ্য, গত ১০ মে রাজধানীর পুরান ঢাকায় বিভিন্ন শাখা থেকে উত্তোলন করা  ন্যাশনাল ব্যাংকের ৮০ লাখ টাকার একটি বস্তা গাড়ি থেকে খোয়া যায়। দিনেদুপুরে ঘটে যাওয়া ওই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করে ন্যাশনাল ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

দায়ের করা একটি মামলায় চারজনকে আটক করে পুলিশ। আটকরা হলেন- ওই গাড়ির দায়িত্বে থাকা ন্যাশনাল ব্যাংকের একজন নির্বাহী কর্মকর্তা, গাড়িচালক ও দুজন নিরাপত্তাকর্মী। তবে প্রাথমিক তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে ঢাকা মহানগর পুলিশের লালবাগ বিভাগ জানতে পারে, ন্যাশনাল ব্যাংকের ৮০ লাখ টাকার বস্তাটি গাড়ি থেকে খোয়া যায়নি, ওই টাকা চুরি করা হয়েছে। টাকা উত্তোলনের কোনো একপর্যায়ে ওই টাকার বস্তাটি গাড়ি থেকে চুরি করা হয়।

মামলায় টাকার গাড়ির দায়িত্বে থাকা চারজনকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছিল। আদালতের নির্দেশে তাদের একদিন রিমান্ডের পর ব্যাংকের একজন নির্বাহী কর্মকর্তা, একজন গাড়িচালক ও দুজন নিরাপত্তাকর্মীকে কারাগারে পাঠানো হয়।

কোতোয়ালি থানা পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের প্রধান কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা, দুজন সশস্ত্র নিরাপত্তাকর্মী নিয়ে সুরক্ষিত গাড়িতে ব্যাংকটির পুরান ঢাকার বিভিন্ন শাখা থেকে টাকা তোলেন। ব্যাংকের বিভিন্ন শাখা থেকে টাকা সংগ্রহ করে মতিঝিলে প্রধান কার্যালয়ের দিকে রওনা হন। পুরান ঢাকার বাবুবাজারে পৌঁছানোর পরই গাড়িতে থাকা নিরাপত্তাকর্মীরা চিৎকার করে বলেন, টাকার একটি বস্তা পাওয়া যাচ্ছে না। তাতে ৮০ লাখ টাকা ছিল।

জেএ/এমএসএইচ/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]