যৌতুকের টাকা না পেয়ে নিজের সন্তানকে হত্যার দায় স্বীকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:২৯ পিএম, ০২ জুলাই ২০২০

 

যৌতুকের টাকা না পেয়ে নিজের তিন বছর সাত মাসের সন্তান মাহিমকে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন বাবা জুলহাস ওরফে ফারুক ওরফে গুড্ডা (৩১)। এছাড়া মাহিমের অপহরণকারী জুয়েল ব্যাপারীও (২০) এ ঘটনার দায় স্বীকার করেছন।

বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর হাকিম হাবিবুর রহমানের আদালতে তারা ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। আজ তাদের দুজনকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ। তারা স্বেচ্ছায় ঘটনার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার উপ-পরিদর্শক জহিরুল ইসলাম। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

গত মঙ্গলবার (৩০ জুন) সন্ধ্যায় যাত্রাবাড়ী থানার মাতুয়াইল মৃধাবাড়ি এলাকায় র‍্যাব-১০ এর একটি অভিযানে জুয়েল ব্যাপারীকে আটক করা হয়। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে ভুক্তভোগীর বাবা জুলহাসকে মাতুয়াইল দরবার শরীফ মোড় এলাকা থেকে আটক করে র‌্যাব-১০।

বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-১০ এর অধিনায়ক এডিশনাল ডিআইজি মো. কাইমুজ্জামান খান।

তিনি বলেন, নিজের পরিকল্পনায় তিন বছর সাত মাসের সন্তান মাহিমকে অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খাইয়ে হত্যার পর বালু চাপা দেন জুলহাস। এখানেই থামেননি তিনি। গত সোমবার (২৯ জুন) নিজেই র‌্যাবের কাছে সন্তান অপহরণের শিকার হয়েছে মর্মে যাত্রাবাড়ী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে র‌্যাবের তদন্ত ও অনুসন্ধানে নিজেই ফেঁসে যান জুলহাস।

কাইমুজ্জামান খান জানান, জুলহাস আগে থেকেই যৌতুকের টাকাসহ বিদেশে যাওয়ার জন্য শ্বশুরবাড়িতে চার লাখ টাকা দাবি করেন। যৌতুকের টাকা না পেয়ে বিভিন্ন সময় স্ত্রীকে নির্যাতন করে আসছিলেন তিনি। পারিবারিক কলহ এবং শ্বশুরবাড়ি থেকে টাকা না পেয়ে ক্ষোভে নিজের সন্তানকে হত্যার জন্য প্রতিবেশী জুয়েলকে নিয়ে পরিকল্পনা করেন।

র‌্যাব-১০ জানায়, মাহিমকে গত শনিবার (২৭ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টায় মাতুয়াইল বাসার সামনে থেকে অপহরণ করেন প্রতিবেশী জুয়েল। এরপর তারা ভুক্তভোগীকে ডেমরার দেইল্লা নির্জন এলাকায় নিয়ে জুসের সঙ্গে ৮টি ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে পান করান। শিশু মাহিমের মৃত্যু নিশ্চিত করে শনিবার সন্ধ্যায় মৃধাবাড়ি সংলগ্ন গ্রিন মডেল টাউন এলাকার কাশবনের ভেতর বালু চাপা দিয়ে রেখে আসেন জুলহাস ও জুয়েল। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা স্মৃতি আক্তার বাদী হয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

জেএ/এমএসএইচ/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]