মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নে সরকারকে লিগ্যাল নোটিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৩২ পিএম, ১২ জুলাই ২০২০

মেডিকেল বর্জ্য (ব্যবস্থাপনা ও প্রক্রিয়াজাতকরণ) বিধিমালা ২০০৮ এর বিধি-বিধান পূর্ণাঙ্গরূপে বাস্তবায়নের জন্য পরিবেশ মন্ত্রণালয়সহ সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি আইনি (লিগ্যাল) নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় সচিব ছাড়াও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সচিব, স্বাস্থ্য বিভাগের মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদফতরের বিভাগীয় পরিচালক, বন ও পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়রসহ দেশের সব সিটি করপোরেশনের মেয়রের কাছে ইমেইলের মাধ্যমে এ নোটিশ পাঠানো হয়।

নোটিশ হাতে পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। গ্রহণ না করলে জনস্বার্থে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

জনস্বার্থে রোববার (১২ জুলাই) পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ড. আনিকা আলী এবং মানবাধিকার সংগঠন ল’ অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশনের পক্ষে ব্যারিস্টার মো. হুমায়ুন কবির পল্লব ও ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কাউছার এ নোটিশ পাঠান। নোটিশ পাঠানোর বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন আইনজীবী হুমায়ুন কবির পল্লব।

নোটিশে বলা হয়, ‘চিকিৎসা বর্জ্য (ব্যবস্থাপনা ও প্রক্রিয়াজাতকরণ) বিধিমালা ২০০৮ এর বিধি-বিধান পূর্ণাঙ্গরূপে বাস্তবায়নের জন্য বিবাদীদের অনুরোধ করা হয়েছে। উক্ত বিধিমালার বিধি ৩ অনুযায়ী দেশের প্রত্যেক বিভাগে স্বাস্থ্য অধিদফতরের বিভাগীয় পরিচালকের সভাপতিত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি কর্তৃপক্ষ গঠনের কথা বলা হয়েছে। এসব কর্তৃপক্ষ চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য উপযুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স প্রদান করতে পারবে। লাইসেন্সপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বিধি অনুযায়ী চিকিৎসাবর্জ্য এমনভাবে ব্যবস্থাপনা ও প্রক্রিয়াজাত করবে যাতে মানব স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর কোনো বিরূপ প্রভাব না পড়ে এবং এই বিধির তপসিল ৬ অনুযায়ী চিকিৎসা বর্জ্য পরিশোধনের যেই মানদণ্ড দেয়া হয়েছে তা অবশ্যই বজায় রাখতে হবে। চিকিৎসাবর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও প্রক্রিয়াজাতকরণের সাথে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ন্যূনতম তিন বছর সংরক্ষণ করতে হবে।’

‘এ ছাড়া বিধিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, চিকিৎসাবর্জ্য মজুত, পরিবহন, বিশোধন এবং বিনষ্ট করার আগেই তফসীল অনুযায়ী উৎপাদনের স্থানে পৃথক করে রাখতে হবে এবং বিধি ৪ অনুযায়ী ঢাকনাযুক্ত করতে হবে। বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, অশোধিত কোনো চিকিৎসা বর্জ্য ৪৮ ঘণ্টার বেশি মজুত করে রাখা যাবে না এবং কেবল সুনির্দিষ্ট এবং সুরক্ষিত এলাকায় এই চিকিৎসাবর্জ্য মজুত করা যাবে।’

নোটিশে বলা হয়, ‘আমরা আশঙ্কা ও গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি, কর্তৃপক্ষ বিধিমালা অনুযায়ী তেমন কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। ফলশ্রুতিতে অন্যান্য বর্জ্যের মতো চিকিৎসাবর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও অস্বাস্থ্যকর ও পরিবেশ দূষণ ঘটছে। বিশেষ করে বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে এই আশঙ্কা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ব্যাপক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে।’

‘সরকারিভাবে লাখ লাখ পিপিই সরবরাহ করা হয়েছে। এ ছাড়া ব্যক্তি উদ্যোগে কোটি কোটি মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস ব্যবহৃত হচ্ছে। একইসাথে করোনা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বিপুল পরিমাণ অন্যান্য মেডিকেল সরঞ্জামাদি সরবরাহ ও ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব চিকিৎসাবর্জ্যের যথাযথ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে না পারলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে।’

এফএইচ/জেডএ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]