শিক্ষানবিশদের অনশন ভাঙালেন কাজল

মুহাম্মদ ফজলুল হক
মুহাম্মদ ফজলুল হক মুহাম্মদ ফজলুল হক , নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:২০ পিএম, ১৪ জুলাই ২০২০

লিখিত পরীক্ষা ও ভাইভা ছাড়া সনদ গেজেটভুক্তের দাবিতে আমরণ অনশনে থাকা শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের অনশন ভাঙালেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল অনশনরত শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বললে তারা অনশন কর্মসূচি স্থগিত করেন।

ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল জাগো নিউজকে বলেন, লিখিত ও ভাইভা ছাড়া সনদ গেজেটভুক্তের দাবিতে শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনের চত্বরে অনশন কর্মসূচি করেন। দুপুরে তাদের সঙ্গে কথা বললে তারা অনশন স্থগিত করেন।

তাদের সঙ্গে কী নিয়ে কথা হয়েছে জানতে চাইলে ব্যারিস্টার কাজল বলেন, তাদের বলেছি আইনজীবী সনদ গেজেটভুক্ত করার এখতিয়ার বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের। হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট বা সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির কিছুই করার নেই। দাবি যৌক্তিক হলে বার কাউন্সিল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমরা কথা বলতে পারি। এছাড়া কিছু করার নেই; আপনারা যৌক্তিক দাবি নিয়ে আসুন। এসব বিষয় বোঝানোর পর তারা সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন।

শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা বলেন, সনদ গেজেটভুক্তের দাবিতে আমরণ অনশন কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। কিন্তু দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বার কাউন্সিলের অস্থায়ী কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেব। এরপর যদি দাবি মানা না হয় তাহলে ৬৪ জেলায় অনশন করবো। সনদ গেজেটভুক্তের দাবি বাস্তবায়নে আমরা প্রেস ক্লাবের সামনে আবারও আমরণ অনশনে যাব।

উল্লেখ্য, গত ৭ জুলাই প্রথমে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন শুরু করেন শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টেও অনশন করেন। পরদিন ৮ জুলাই থেকে সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে আমরণ অনশন শুরু করেন তারা।

২০১৭ ও ২০২০ সালের এমসিকিউ পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের লিখিত ও ভাইভা ছাড়াই বার কাউন্সিল কর্তৃক আইনজীবী সনদ গেজেটভুক্তের দাবিতে এর আগে প্রধানমন্ত্রী বরাবর এবং বার কাউন্সিলে স্মারকলিপি দেয়া হয়। পরে ৭ জুলাই অবস্থান কর্মসূচি এবং অনশন শুরু করেন তারা। অনশনে প্রথমে আটজন এবং ১৩ জুলাই একজন গুরুতর অসুস্থ হলে তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়।

শিক্ষানবিশ আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের প্রধান এ কে মাহমুদ ও অনশনরত রবিউল হোসাইন রবি বলেন, ‘বার কাউন্সিল আমাদের ন্যায্য দাবির প্রতি কর্ণপাত করছে না। এমনকি দাবি-দাওয়ার ব্যাপারেও কিছু বলছে না। এটি আমাদের ন্যায্য দাবি। প্রতি বছর বার কাউন্সিল পরীক্ষা সম্পন্ন করতে আপিল বিভাগের নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু বার কাউন্সিল এসব নিয়মের তোয়াক্কা করছে না। তাই আমরা আন্দোলনে নেমেছি।

‘২০১৭ সালের পর সর্বশেষ চলতি বছর আরেকটি এমসিকিউ অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু করোনাকে কেন্দ্র করে লিখিত পরীক্ষা আয়োজনের কোনো চেষ্টা বার কাউন্সিল করছে না। অথচ পরীক্ষার আশায় থেকে আমাদের সময় নষ্ট হচ্ছে। আমরা সনদ গেজেটভুক্তের দাবিতে ২০১৭ ও ২০২০ সালের এমসিকিউ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা অনশনে নেমেছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে।’

রবিউল হোসাইন রবি বলেন, অনশন করে মারা যাব তবু দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন বন্ধ হবে না। লিখিত পরীক্ষা না হওয়ায় করোনাকালে আমরা ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছি।

তিনি আরও বলেন, করোনাকালে বার কাউন্সিল থেকে আইনজীবীদের আর্থিক সহায়তা দেয়া হলেও আমাদের কেউ সহযোগিতা করেনি। এই মুহূর্তে অন্য পেশায় যাওয়াও সম্ভব নয়। মানবিক বিবেচনায় আমাদের সনদ গেজেটভুক্ত করে আইন পেশায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ চাচ্ছি।

উল্লেখ্য, চলতি বছর প্রিলিমিনারি (এমসিকিউ) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ১২ হাজার ৮৪৮ জন লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অপেক্ষায় আছেন। এছাড়া ৫০ হাজারেরও বেশি শিক্ষানবিশ আইনজীবী পরবর্তী এমসিকিউ পরীক্ষায় অংশ নেয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন।

এফএইচ/এএইচ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]