ভিয়েতনামে মানবপাচার: মূলহোতাসহ তিনজন কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:৩২ পিএম, ১৪ জুলাই ২০২০

অবৈধভাবে বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিয়েতনামে পাঠানো পাচারচক্রের মূলহোতাসহ ৩ জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। তারা হলেন- মানবপাচারকারী চক্রের মূলহোতা জামাল উদ্দিন সোহাগ (৩৪), কামাল হোসেন (৩৯) ও জামাল হোসেন (৩৭)।

তিনদিনের রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) তাদের ঢাকা মাহনগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ। মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্টন থানার থানার উপ-পরিদর্শক শাহ আলম। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর হাকিম দেবব্রত বিশ্বাস তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে শুক্রবার (১০ জুলাই) তাদের তিনজনকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ। পল্টন থানায় তাদের বিরুদ্ধে মানবপাচারের অভিযোগে করা মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওই থানার উপ-পরিদর্শক শাহ আলম।

শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম আবু সুফিয়ান মোহাম্মদ নোমান প্রত্যেককে তিনদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। সম্প্রতি ভিয়েতনাম থেকে ১১ বাংলাদেশি অভিবাসী দেশে ফেরেন। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব অনুসন্ধানের পর বুধবার (৮ জুলাই) রাতে রাজধানীর পল্টন এলাকা থেকে অবৈধভাবে বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিয়েতনামে পাঠানো পাচারচক্রের মূলহোতাসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করে।

এ সময় জব্দ করা হয় বিভিন্ন নামীয় ২৫৪টি বাংলাদেশি পাসপোর্ট। বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটায় কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৩ অধিনায়ক (সিও) লে. কর্নেল রকিবুল হাসান বলেন, গত ৩ জুলাই বিশেষ ফ্লাইটে (ফ্লাইট নম্বর-ভিজে ৬৯৫৮) ভিয়েতনাম থেকে ১১ বাংলাদেশি অভিবাসী ফেরেন।

এছাড়া আরও ২৭ জন অভিবাসী ভিয়েতনামে আটক অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ভিয়েতনামফেরত ১১ জনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে র‌্যাব প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে ঘটনার সঙ্গে মাশ ক্যারিয়ার সার্ভিস, দি জেকে ওভারসিস লিমিটেড, অ্যাডভেন্ট ওভারসিস লিমিটেড, মেসার্স সন্ধানী ওভারসিস লিমিটেড এবং আল নোমান হিউম্যান রিসোর্স লিমিটেডসহ স্থানীয় দালাল ও ভিয়েতনামে বাংলাদেশি দালাল আব্দুল জব্বার, মোস্তফা, গোলাম আজম সুমন, কল্পনা, আজমির, মিলন, শোভন ও আতিকের সংশ্লিষ্টতার সত্যতা পাওয়া যায়।

এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-৩ এর একটি বিশেষ দল মাশ ক্যারিয়ার সার্ভিস ও দি জেকে ওভারসিস লিমিটেডের ওই তিনজন মানবপাচারকারীকে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, গ্রেফতাররা একাধিকবার ভিয়েতনামে গিয়ে সেখানকার দালালদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

ওই বৈঠকে ভিয়েতনামের দালালরা জানায়, বাংলাদেশ থেকে ব্যবসায়িক উদ্যোক্তাদের ভিয়েতনামে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। এরপর উল্লিখিত এজেন্সিগুলো বাংলাদেশের সাধারণ লোকজনকে স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে মাসে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা আয়ের প্রলোভন দেখায়। এতে প্রলুব্ধ হয়ে বিভিন্ন লোকজন ভিয়েতনামে যেতে আগ্রহ দেখায়। আগ্রহী প্রতিজনের কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা করে নেয়। ওই টাকার বিনিময়ে পাসপোর্ট বানানো এবং পাসপোর্টের তথ্যসমূহ ভিয়েতনামের দালালদের কাছে পাঠানো হয়।

ভিয়েতনামের দালালরা পাসপোর্টের তথ্য অনুযায়ী ভিয়েতনাম থেকে অফার লেটার (ভিয়েতনামের ভাষায়) বাংলাদেশের এজেন্সিগুলোতে প্রেরণ করে। ওই অফার লেটারের মাধ্যমে ভিয়েতনাম অ্যাম্বাসি থেকে ভিসা সংগ্রহ করা হয়। সাধারণত বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে ভিয়েতনাম সরকার স্বল্প মেয়াদে (সর্বোচ্চ ১ বছরের জন্য) বিনিয়োগকারীকে ডিএন ভিসা দিয়ে থাকে।

জেএ/এমআরএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]