বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবি : দায় স্বীকার করল ঘাতক ময়ূরের মাস্টার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৪০ পিএম, ১৬ জুলাই ২০২০

বুড়িগঙ্গা নদীতে লঞ্চডুবিতে ৩৪ জনের মৃত্যুর ঘটনার মামলার অন্যতম আসামি ময়ূর-২ লঞ্চের মাস্টার আবুল বাশার মোল্লা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অপরদিকে, লঞ্চের সুকানি মো. নাসির মৃধাকে (৪০) তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সুকানি নাসিরকে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর ঘাট নৌ থানার উপ-পরিদর্শক শহিদুল আলম। শুনানি শেষে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মিশকাত শুকরানা তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন

অপরদিকে ময়ূর-২ লঞ্চের মাস্টার আবুল বাশারকে তিন দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করে নৌ পুলিশ। তিনি স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর ঘাট নৌ থানার উপ-পরিদর্শক শহিদুল আলম। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মিশকাত শুকরানা তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

এর আগে বুধবার (১৫ জুলাই) ভোরে বাগেরহাট জেলার বন্দর এলাকায় অবস্থানরত এমভি রাজিব-২ কার্গো জাহাজ থেকে নাসিরকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার নাসির মৃধা বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার ভবানীপুর এলাকার মো. শাহজাহান মৃধার ছেলে ও ময়ূর-২ লঞ্চের সুকানি। দুর্ঘটনার সময় লঞ্চটির মাস্টার আবুল বাশার মোল্লার জায়গায় সুকানি নাসির লঞ্চটি চালাচ্ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

অপরদিকে, রোববার (১২ জুলাই) রাতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে র‍্যাব-১০ এর একটি দল আবুল বাসারকে গ্রেফতার করে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এ এফ এম মারুফ চৌধুরী তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গত ২৯ জুন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ফরাশগঞ্জ ঘাটের কাছে ময়ূর-২ লঞ্চের ধাক্কায় মর্নিং বার্ড নামের ছোট একটি লঞ্চ ডুবে যায়। এতে ৩৪ জনের মৃত্যু হয়। পরদিন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় এ ঘটনায় মামলা হয়।

এমএল মর্নিং বার্ডকে ধাক্কা দিয়ে ডুবিয়ে দেয়ার সময় ‘ময়ূর-২’ এর মূল মাস্টার নয়-এমন একজন শিক্ষানবিশ চালাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া লঞ্চের কোনো ত্রুটি নয়, মাস্টারের ভুলে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

লঞ্চডুবির ঘটনায় অবহেলাজনিত হত্যার অভিযোগ এনে সাতজনের বিরুদ্ধে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি মামলা হয়েছে।

মামলার আসামিরা হলেন- এমভি ময়ূর-২ এর মালিক মোসাদ্দেক হানিফ সোয়াদ, লঞ্চের মাস্টার আবুল বাশার মোল্লা ও জাকির হোসেন, চালক শিপন হাওলাদার ও শাকিল হোসেন এবং সুকানি নাসির মৃধা ও মো. হৃদয়।

জেএ/এফআর/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]