বুড়িগঙ্গা দূষণকারী কারখানাগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নই থাকছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৪২ এএম, ১৪ আগস্ট ২০২০
ফাইল ছবি

বুড়িগঙ্গার পানি দূষণ ও পরিবেশ নষ্ট করায় বেশ কয়েকটি শিল্প কারখানা থেকে বিচ্ছিন্ন করা বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরায় ফিরে পাওয়ার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এর ফলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নই থাকবে। আদেশের বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

হাইকোর্টে খারিজ করে আদেশের বিরুদ্ধে সীবা টেক্সটাইলসহ ১১ জনের করা আপিল আবেদনের শুনানি নিয়ে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন ভার্চুয়াল আপিল বিভাগ এই রায় দেন।

আদালতে সীবা টেক্সটাইলসহ অন্য ১১ জন আপিলকারীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন এবং এ এম আমিনউদ্দিন। পরিবেশ অধিদফতরের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

এর আগে ঢাকার শ্যামপুরে পরিচালিত বিভিন্ন শিল্প কারখানা থেকে বর্জ্য নিঃসরণে বুড়িগঙ্গা নদীর পানি দূষণ ও পরিবেশের ধ্বংস প্রতিরোধে জনস্বার্থে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) একটি রিট পিটিশন দায়ের করে। পরে ২০১৪ সালে হাইকোর্ট রুল জারির পাশাপাশি তার এক আদেশে শিল্প কারখানা কর্তৃক বর্জ্য নিঃসরণের মাধ্যমে পরিবেশ বিধ্বংসী অবৈধ কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশনা দেন।

পরবর্তীতে পরিবেশ অধিদফতর মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে অনেকগুলো শিল্প কারখানার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে। পরে আরেকটি আবেদনের প্রেক্ষিতে বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য আদালত পুনরায় আদেশ দিলে রিটকারী পক্ষ এইচআরপিবি সে আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করে। সে আবেদনের শুনানি নিয়ে হইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে রুল নিষ্পত্তির জন্য নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ।

পরে বিদ্যুৎ সংযোগ ফিরে পেতে সীবা টেক্সটাইলসহ ১১ জন ২০১৮ সালে পৃথক একটি রিট পিটিশন দায়ের করলে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ বিদ্যুৎ সংযোগ ফিরিয়ে দিতে আদেশ দেন। তবে আপিল বিভাগের পূর্ববর্তী আদেশের বিষয়ে অবহিত করে রিট পিটিশনটি শুনানির জন্য আবেদন জানালে, বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি মোহম্মদ উল্লাহের আদালতে শুনানি হয় এবং শুনানি শেষে ২০১৯ সালেল ১০ ডিসেম্বর রুল খারিজ করে আদেশ দেয়া হয়। পরে ওই আদেশের বিরুদ্ধে সীবা টেক্সটাইলসহ ১১ জন লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) দায়ের করে।

এফএইচ/এমএসএইচ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]