স্বল্পসময়ে মানুষ ন্যায়বিচার পেলে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণ হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:১৮ পিএম, ১৫ আগস্ট ২০২০

মানুষ স্বল্প সময়ে ন্যায়বিচার পেলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।

বঙ্গবন্ধুর ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে শনিবার (১৫ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে আয়োজিত ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় বক্তৃতাকালে প্রধান বিচারপতি এ মন্তব্য করেন।

প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন বিষয়ক বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট জাজেস কমিটি।

প্রধান বিচারপতি বলেন, বাঙালি জাতি আজ গভীর শ্রদ্ধার সাথে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এমন এক মহান ব্যক্তিত্ব, যাকে কোনো বিশেষণে বিশেষায়িত করা যাবে না। ভাষা আন্দোলন, বাঙালি জাতির মুক্তি সনদ ছয় দফা আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম, মুক্তি সংগ্রাম, জয়বাংলা, বাঙালি জাতীয়তাবাদ, বাঙালির স্বাধিকার, বাঙালির স্বাধীনতা, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ— যাই বলি না কেন, এ শব্দগুলোর অন্য নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এই মহান নেতা আমাদের জাতীয় জীবনে এক জ্যোতির্ময় আলোকবর্তিকা।

প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি বলে তার জীবনের অনেকটা সময় কারাগারে কেটেছে। আদর্শ এবং মূল্যবোধ থেকে তিনি এক পা পিছু হটেননি। গণতন্ত্র এবং আইনের শাসনকে সুসংহত করতে বঙ্গবন্ধু জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত প্রাণান্তকর চেষ্টা করেছেন। তিনি বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের কথা শুধু ১৯৭২ সালের সংবিধানেই বলেননি, তারও আগে ১৯৫৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের গণপরিষদে আইনসভার সদস্য হিসেবে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের জোর দাবি উত্থাপন করেন। ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর তিনি আমাদের একটি সংবিধান উপহার দেন। দেশের মানুষ স্বল্প সময়ে ন্যায়বিচার পেলে জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে। বাংলাদেশের বিচার বিভাগ জাতির জনকের আদর্শকে ধারণ করে আইনের শাসন এবং সবার জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে এবং যাবে।

Chief-Jusctice

পরে ১৫ আগস্ট কালরাতে ঘাতকের বুলেটে প্রাণ হারানো বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম।

এরপর বাংলাদেশে সুপ্রিম কোর্ট জামে মসজিদে পবিত্র কোরআনখানি ও দোয়া করা হয় এবং দুস্থদের মধ্যে খাদ্য বিতরণ করা হয়।

সভায় আপিল বিভাগের চারজন এবং হাইকোর্ট বিভাগের ২৮ জন বিচারপতি বক্তব্য রাখেন। বিচারপতিরা ন্যায়বিচার এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধুর আজীবন সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন। ইতিহাসের এই ঘৃণ্য হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন করে বিচার বিভাগ জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করেছে বলেও তারা মন্তব্য করেন।

সভা শেষে দাঁড়িয়ে দুই মিনিট নীরবতা পালন করে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

এফএইচ/এইচএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]