সরকারের কাছে করতে হবে খালেদার মুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:৫৮ এএম, ১৮ আগস্ট ২০২০

‘নির্বাহী আদেশে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ বাড়াতে সরকারের কাছে আবেদন করতে হবে’ বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম।

সোমবার (১৭ আগস্ট) তার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

এর আগে পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৫ মার্চ সরকারের নির্বাহী আদেশে ছয় মাসের জন্য মুক্তি পান সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। যিনি দুর্নীতির দুই মামলায় ১৭ বছরের সাজা মাথায় নিয়ে কারাবন্দি ছিলেন। এর মধ্যে ছয় মাসের মেয়াদও শেষ হওয়ার পথে।

খালেদা জিয়ার নির্বাহী আদেশে মুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে আসছে এ অবস্থায় তিনি কোথায় আবেদন করবেন- প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘যেহেতু সরকারের নির্বাহী আদেশে তাকে আপাতত মুক্তি দিয়েছেন, মুক্তি বলব না বাইরে থাকার অনুমতি দিয়েছেন। সুতরাং, এই সময়টা পার হলে সরকারের কাছে আবেদন করতে হবে।
এখানে আদালতের কোনো বিষয় না।’

দণ্ডিত হওয়ার পর ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয় খালেদা জিয়াকে। এরপর সেখান থেকে গত বছরের ১ এপ্রিল তাকে নিয়ে আসা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে। সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন কারাবন্দি অবস্থায় ছিলেন।

পরে তার পরিবার উন্নত চিকিৎসার জন্য মুক্তি চেয়ে সরকারের কাছে আবেদন করে। ২৪ মার্চ বিকেলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, ‘খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য মুক্তি চান। খালেদা জিয়ার ভাই শামীম এস্কান্দার, তার বোন সেলিমা ইসলাম, তার বোনের স্বামী রফিকুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একই বিষয়ে সাক্ষাৎ করেছিলেন। সেখানেও এই আবেদনের বিষয়ে কথা বলেছেন।’

আইনমন্ত্রী জানান, এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আইনি প্রক্রিয়ায় আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারায় খালেদা জিয়ার সাজা ছয় মাসের জন্য স্থগিত রেখে তাকে ঢাকার নিজ বাসায় থেকে চিকিৎসা নেয়ার শর্তে এবং উক্ত সময়ে তিনি দেশের বাইরের গমন না করার শর্তে মুক্তি দেয়া হবে।’

এর পরদিন (২৫ মার্চ) দীর্ঘ দু’বছর এক মাস ১৬ দিন পর মুক্তি পেয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল থেকে রাজধানীর গুলশান অ্যাভিনিউয়ের নিজের বাসভবন ‘ফিরোজায়’ যান খালেদা জিয়া। কিন্তু করোনার কারণে তার আর কোনো হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়া হয়নি।

ঈদের পরের দিন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের পর তার আইনজীবী ও দলের যুগ্ম-মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘খালেদা জিয়া খুবই অসুস্থ। বিদেশে তার হাঁটু রিপ্লেস করা হয়েছিল। সেখানে সারাক্ষণ ব্যথা থাকে। সেজন্য চিকিৎসা নিতে তার বিদেশে যেতে হবে।’

এদিকে পারিবারিক সূত্র বলছে, সরকারের অনুমতি নিয়ে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে পাঠাতে চাচ্ছেন তারাও। পরিবারের সদস্যরা এ জন্য সরকারের উচ্চ মহলে দেন-দরবারও করছেন। প্রয়োজনে তারা আবারও সরকার প্রধানের দ্বারস্থ হতে পারেন।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড পেয়ে বন্দি ছিলেন খালেদা জিয়া। ওই মামলায় আপিলের পর হাইকোর্টে দণ্ড বেড়ে ১০ বছর হয়েছে। পরে ২০১৮ সালের ১৮ নভেম্বর খালাস চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে খালেদা জিয়া জামিন আবেদন করেন। তবে সেই জামিন আবেদন এখনও আদালতে উপস্থাপন করেননি তার আইনজীবীরা।

এর মধ্যে ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের সাত নম্বর কক্ষে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মো. আখতারুজ্জামান (বর্তমানে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি) জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে তার ১০ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়। একই সাজা হয়েছে মামলার অপর তিন আসামিরও।

এরপর ওই বছরের ১৮ নভেম্বর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এর বিরুদ্ধে আপিল করা হয়। পরে ২০১৯ সালের ৩০ এপ্রিল জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাত বছরের দণ্ডের বিরুদ্ধে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে, অর্থদণ্ড স্থগিত ও সম্পত্তি জব্দ করার ওপর স্থিতাবস্থা দিয়ে ৬০ দিনের মধ্যে মামলার নথি তলব করেন। পরে ২০১৯ সালের ২০ জুন বিচারিক আদালত থেকে মামলার নথি আসার পরে ৩১ জুলাই হাইকোর্টের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামানের বেঞ্চ তার জামিন আবেদন খারিজ করে দেন।

হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে আবেদন করে জামিন চান খালেদা জিয়া। এ আবেদনের শুনানির পর ১২ ডিসেম্বর সেটি খারিজ হয়ে যায়। তখন আপিল বিভাগ বলেছিলেন, খালেদা জিয়া রাজি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসা দিতে।

এরপর আবারও হাইকোর্টে জামিন চান খালেদা জিয়া। ২৭ ফেব্রুয়ারি সে আবেদন খারিজ করে দিয়ে হাইকোর্ট আদেশ দিয়েছিলেন, সম্মতি দিলে দ্রুত তাকে (খালেদা জিয়া) চিকিৎসা দিতে হবে এবং মেডিকেল বোর্ড চাইলে নতুন চিকিৎসক অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন।

এফএইচ/এফআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]