নির্ধারিত দিনেই ‘আইনজীবী অন্তর্ভুক্তির’ লিখিত পরীক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৩২ পিএম, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০

দেশের আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রণকারী একমাত্র সংস্থা ‘বাংলাদেশ বার কাউন্সিল’র আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্তির লিখিত পরীক্ষা নির্ধারিত দিনেই অনুষ্ঠিত হবে।

দুই ধাপে এমসিকিউতে (বহুনির্বাচনী প্রশ্ন) উত্তীর্ণ প্রায় ১৩ হাজার শিক্ষার্থীর লিখিত পরীক্ষা করোনার কারণে আটকে যায়। পরে তারা লিখিত ও ভাইভা পরীক্ষা ছাড়াই সনদের জন্য আন্দোলনে সরব হন। এমন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বার কাউন্সিলের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত আসে যে, আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

এরই মাঝে খবর আসে, এমসিকিউতে উত্তীর্ণ অনেক শিক্ষার্থী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। একসঙ্গে ১৩ হাজার শিক্ষার্থীর লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলে আরও আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এমন আশঙ্কায় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের অনেকেই পরীক্ষা পেছানোর দাবি করেন।

কিন্তু বাংলাদেশ বার কাউন্সিল সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত আইনজীবীদের অন্তর্ভুক্তির পরীক্ষা পেছানোর বিষয়ে কোনো ধরনের আলোচনা বা সিদ্ধান্ত হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন সাংবাদিকদের জানান, বার কাউন্সিলে আইনজীবী তালিকাভুক্তির লিখিত পরীক্ষা পেছানোর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী এবং আইন মেনেই পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ হয়েছে। সেই হিসেবে ঘোষিত তারিখেই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, গুটিকয়েক পরীক্ষার্থী করোনার কারণ দেখিয়ে পরীক্ষা পেছানোর দাবি তোলেন। কিন্তু কিছুদিন আগেই করোনা প্রাদুর্ভাবের মধ্যেও তারা দ্রুত পরীক্ষা গ্রহণ অথবা লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা ছাড়াই সদন দেয়ার জন্য আন্দোলন করেন। এখন তাদের পরীক্ষা পেছানোর দাবি অযৌক্তিক।

গত ৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট কমিটি আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর আইনজীবী অন্তর্ভুক্তির লিখিত পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

এর আগে শুধুমাত্র মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) মাধ্যমে আইনজীবীদের সনদ দেয়া হতো। কিন্তু দিনদিন আইন পেশায় শিক্ষার্থীদের চাপ বাড়ায় বর্তমানে নৈর্ব্যক্তিক, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার বিধান করা হয়। ওই তিন ধাপের যেকোনো একটি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা একবার উত্তীর্ণ হলে পরবর্তী পরীক্ষায় তারা দ্বিতীয় ও শেষবারের মতো অংশগ্রহণের সুযোগ পান।

কিন্তু দ্বিতীয়বারের লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারলে পুনরায় তাদের এমসিকিউ দিয়ে শুরু করতে হয়। সেই হিসাবে ২০১৭ সালের ৩৪ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে লিখিত পরীক্ষায় দ্বিতীয় ও শেষবারের মতো বাদ পড়া তিন হাজার ৫৯০ শিক্ষার্থী এবং ২০২০ সালে প্রায় ৭০ হাজার শিক্ষানবিশ আইনজীবীর মধ্যে এমসিকিউ উত্তীর্ণ আট হাজার ৭৬৪ শিক্ষার্থীসহ মোট ১২ হাজার ৮৫৮ জন সনদপ্রত্যাশী লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবেন।

এফএইচ/এমএআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]