রায়ের কপি জালিয়াতি : চারজনের নামে মামলা করার নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:৪২ পিএম, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০
ফাইল ছবি

ধর্ষণের এক মামলায় ঝিনাইদহের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের রায়ের সার্টিফায়েড কপি জালিয়াতি করে জামিন আবেদন করায় এক আসামি, দুই কারা কনস্টেবল ও এক তদবিরকারকের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

কনস্টেবল বিশ্বজিৎ, কনস্টেবল খায়রুল আলম, তদবিরকারক চাঁন্দ আলী বিশ্বাস (পিতা মৃত বজলু বিশ্বাস, গ্রাম উত্তরপাড়া, ঝিনাইদহ) এবং ওকালতনামা দেয়া কাদের আলীর (পিতা ইয়াকুব আলী) বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রারকে এ মামলা করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে, কোনো আইনজীবী এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মামলার আসামি কবির বিশ্বাসের করা আপিল ও জামিন আবেদনের সঙ্গে ওই রায়ের অনুলিপিতে জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়া সংক্রান্ত বিষয়ে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের বিচারপতি ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতে আজ রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন বাপ্পী।

হাইকোর্টে উপস্থাপিত জামিন আবেদনের নথিতে উল্লেখ করা হয়, আসামি কবির বিশ্বাসের সাজা হয়েছে সাত বছর। অথচ এই মামলায় একমাত্র সাজা যাবজ্জীবন। এতে আদালতের সন্দেহ হয়। শুনানি শেষে আসামি কবির বিশ্বাস, কারা কনস্টেবল বিশ্বজিত ও খাইরুল এবং তদবিরকারক চাঁন্দ আলীর বিরুদ্ধে জালিয়াতির মামলার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন বাপ্পী সাংবাদিকদের আরও জানান, ধর্ষণের মামলায় ঝিনাইদহের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। তবে সাতবছর কারাদণ্ড দেখিয়ে জাল নথি দাখিল করায় দুই কনস্টেবলসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রারের প্রতি এ নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

মামলার এক আসামি কবির বিশ্বাসের করা আপিল ও জামিন আবেদনের সঙ্গে ওই রায়ের অনুলিপিতে জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ায় আদালত এ আদেশ দেন আদালত। একইসঙ্গে আসামিপক্ষের আইনজীবী শেখ আতিয়ার রহমানকে মামলার তদন্তে সহযোগিতা করতে বলা হয়েছে।

এছাড়াও মামলার তদন্তে যদি অন্য কারও সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায় তবে তাকেও আসামি করা যাবে বলে আদেশ দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে, জাল নথির ভিত্তিতে দেয়া গত ১৬ সেপ্টেম্বরের আদেশ প্রত্যাহার করেছেন হাইকোর্ট।

জানা গেছে, মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে কবির বিশ্বাসের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০ এর ৯(১) ধারায় ২০১২ সালের ৮ নভেম্বর মামলা করেন বেলায়েত হোসেন। এ মামলায় তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দাখিলের পর বিচার শেষে ঝিনাইদহের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. রফিকুল ইসলাম ২০১৫ সালের ৮ জুলাই রায় দেন। রায়ে একমাত্র আসামি কবির বিশ্বাসকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২ লাখ টাকা জরিমানা করেন। এই রায় ঘোষণার সময় আসামির বয়স ছিল ৩২ বছর। এই রায়ের পর কারাবন্দি কবির বিশ্বাস হাইকোর্টে আপিল করেন।

আদালত তার আপিল গ্রহণ করেন। তখন তারপক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট হেলালউদ্দিন মোল্লা। যা বিচারাধীন। এ অবস্থায় কারাবন্দী কবির হোসেনের পক্ষে নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে নতুন করে গত ১৫ সেপ্টেম্বর আপিল করেন। এবার আইনজীবী হিসেবে আপিলটি দাখিল করেন অ্যাডভোকেট শেখ আতিয়ার রহমান।

এই আপিলের সঙ্গে নিম্ন আদালতের রায়ে যে কপি দাখিল করা হয় তাতে দেখা যায়, ঝিনাইদহের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক হিসেবে জেলা ও দায়রা জজ আবু আহসান হাবীব ২০১৯ সালের ২৫ নভেম্বর এক রায়ে কবির বিশ্বাসকে ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং আরও তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন।

রায়ে বলা হয়েছে, কবির বিশ্বাসের বয়স ৬৫ বছর হওয়ায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলেও বয়স বিবেচনায় তাকে সাজা কমিয়ে ৭ বছর দেয়া হলো। এই আপিলের পর আদালত গত ১৬ সেপ্টেম্বর আপিল গ্রহণ করেন। তবে আসামির সাজা কেন বাড়ানো হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। একইসঙ্গে অভিযোগ প্রমাণের পরও কেন সাজা কম দেয়া হয়েছে তার লিখিত ব্যাখ্যা দাখিল করতে বিচারক আবু আহসান হাবীবকে নির্দেশ দেন।

মো. সারওয়ার হোসেন বাপ্পী বলেন, গত ১৬ সেপ্টেম্বর আদেশের সময় আদালতের প্রশ্ন ছিল, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় অভিযোগ প্রমাণের পর আসামিকে যাবজ্জীবন সাজা না দিয়ে সাজা কম দেয়ার সুযোগ আছে কি না। জবাবে বলেছিলাম, সে সুযোগ নেই। আইনে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে যাবজ্জীবন সাজা দিতে হবে। অভিযোগ প্রমাণিত না হলে খালাস দিতে হবে। এর বাইরে কিছু করার নেই বিচারকের। পরবর্তীতে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন বাপ্পী ওই মামলার সব নথি জোগাড় করে জালিয়াতির বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন। এ অবস্থায় আদালত সব নথি দেখে আদেশ দেন।

এফএইচ/এসআর/এফআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]