সামসুল হায়দার হত্যা : মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিসহ সবাই খালাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:৩৬ পিএম, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০

রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ টেলিকম অফিসের অফিস সহকারী (হিসাব বিভাগ) গোলাম সামসুল হায়দার হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতে দণ্ড পাওয়া সব আসামিকে খালাস দিয়ে রায় ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট।

বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ছয় আসামিসহ দুজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিলেন।

হাইকোর্টের রায়ে সব আসামিকে খালাস দেয়ার বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী সাইফুর রহমান রাহি।

রায়ের পর ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শাহীন আহমেদ খান বলেন, আদালত সব আসামিকে খালাস দিয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষ এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে।

ডেথ রেফারেন্স খারিজ করে আসামিদের করা আপিল আবেদন মঞ্জুর করে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ ও বিচারপতি এ এস এম আব্দুল মোবিনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালতে এদিন রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শাহীন আহমেদ খান। অন্যদিকে আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী এস এম শাহজাহান, এ কে এম ফজলুল হক খান ফরিদ, মাহমুদুল আল ভূইয়া, মো. আলী মর্তুজা, শাহ আব্দুল হতেম ও সাইফুর রহমান রাহি।

এছাড়া দুই আসমির পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রীয় খরচে নিযুক্ত আইনজীবী অমূল্য কুমার সরকার।

২০০৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকালে রাজধানীর মতিঝিলের এজিবি কলোনির সামনে দুষ্কৃতিকারীরা শামসুল হায়দারকে গলা কেটে হত্যা করে। ভুয়া বিল তৈরি করে এক কোটি ৪৫ হাজার টাকা আত্মসাতের ঘটনা জেনে যাওয়ায় আসামিরা তাকে খুন করে মর্মে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়।

২০০৬ সালের ১৯ মার্চ আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে মেসার্স হারুন এন্টারপ্রাইজের নামে এক কোটি ৪৫ হাজার টাকার একটি ভুয়া বিল তৈরি করে অফিসে জমা দেন। পরদিন ৯৪ লাখ ১৭ হাজার ১৮৭ টাকা ৫০ পয়সার একটি চেক হারুন এন্টারপ্রাইজের নামে প্রদান করেন। উক্ত টাকা আসামিরা তুলে পরস্পর ভাগ বাটোয়ারা করে নেন। ঘটনাটি জেনে যাওয়ায় অফিস সহকারী গোলাম শামসুল হায়দায়কে হত্যা করা হয়।

ওই ঘটনায় নিহতের বড় ভাই আবুল কালাম আজাদ মতিঝিল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এ মামলায় ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বাবুল, আব্দুল লতিফ, হাফিজুল হোসেন, আনোয়ার হোসেন, ওয়াসিম ও কাজল মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড দেন। রাজন মিয়া ও শামসুল আলমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

পরে নিয়ম অনুসারে ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে এবং আসামিরা আপিল করেন। ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানি শেষে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) এই রায় দেন হাইকোর্ট।

এফএইচ/বিএ/এমএআর/জেআইএম/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]