ঢাকা ওয়াসা এমডির নিয়োগ প্রক্রিয়া চ্যালেঞ্জ করে রিট

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:২০ পিএম, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

ঢাকা ওয়াসার বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে প্রকৌশলী তাকসিম এ খানকে নিয়োগের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো প্রস্তাবের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করা হয়েছে। আবেদনে প্রকৌশলী তাকসিম এ খানকে এমডি হিসেবে নিয়োগের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো প্রস্তাব সংক্রান্ত ১৯ সেপ্টেম্বর ওয়াসা বোর্ডের নেওয়া সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ হবে না এ মর্মে রুল জারির আর্জি জানানো হয়েছে।

একইসঙ্গে, প্রকৌশলী তাকসিম এ খানকে এমডি হিসেবে নিয়োগের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো প্রস্তাব সংক্রান্ত ১৯ সেপ্টেম্বর ওয়াসা বোর্ডের নেওয়া সিদ্ধান্তের কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।

এছাড়া ওয়াসা বোর্ডের সচিব কোন ক্ষমতাবলে ১৯ সেপ্টেম্বরের বোর্ড সভার জন্য ১৭ সেপ্টেম্বর নোটিশ ইস্যু করেছেন সে বিষয়ে ২ সপ্তাহের মধ্যে একটি প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ওয়াসার সাবেক প্রধান প্রকৌশলী ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বাসিন্দা খন্দকার মনজুর মোরসেদের পক্ষে আইনজীবী মো. তানভীর আহমেদ রিটটি দায়ের করেন।

রিটে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রণালয় সচিব, অতিরিক্ত সচিব (পানি সরবরাহ শাখা), ঢাকা ওয়াসা (পক্ষে এমডি) চারজনকে বিবাদী করা হয়েছে।

আগামী সপ্তাহে হাইকোর্টের বিচারপতি জে বিএম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে রিট আবেদনটির ওপর শুনানি হতে পারে বলে জানান রিটকারী আইনজীবী তানভীর আহমেদ।

রিট আবেদনকারীর আইনজীবী তানভীর আহমেদ বলেন, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খানের নিয়োগ প্রক্রিয়া চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সংবিধানের ২৯ (১) এ বলা হয়েছে, যেকোনো সরকারি পদে সমান সুযোগ থাকতে হবে। কিন্তু এখানে সমান সুযোগ দেওয়া হয় নাই। একজনকে বার বার নিয়োগ দিচ্ছে। এটাতে রিট আবেদনকারী সংক্ষুব্ধ।

ওয়াসার আইনে বলা আছে, কোনো ধরনের মিটিং ডাকতে গেলে চেয়ারম্যান বা ভাইস চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে হতে হবে। তারা এটা আহ্বান করবেন। আমরা জানি ১১ সেপ্টেম্বর ওয়াসার চেয়ারম্যান মারা গেছেন। এখানে কোনো ভাইস চেয়ারম্যান নাই। তাহলে প্রশ্ন হলো মিটিংটা ডাকলো কে? মিটিং আহ্বান করার আইনগত কোনো বৈধতা নাই, যতক্ষণ পর্যন্ত চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান নিয়োগ না হয়।

ওয়াসার এমডির নিয়োগ সরকার দিতে পারবে। তবে প্রক্রিয়া হলো বিজ্ঞাপন দিতে হবে। কোনো ধরনের বিজ্ঞাপন আমরা পাইনি। বিজ্ঞাপনের পর যারা আবেদন করবে তাদের জন্য যাচাই বাছাই কমিটি লাগবে। কোনো ধরনের কমিটি করা হয় নাই। আমরা এমডি নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়া চালেঞ্জ করে আবেদন করেছি বলে জানান তানভীর আহমেদ।

এর আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত ঢাকা ওয়াসার অনলাইন বোর্ড সভায় একটি প্রস্তাব পাস হয়। ১৯ সেপ্টেম্বর এর প্রস্তাবে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে প্রকৌশলী তাকসিম এ খানের মেয়াদ আরও তিন বছর বাড়ানোর বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর সুপারিশ করা হয়। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিলে ষষ্ঠবারের মতো এই পদে বসতে যাচ্ছেন তিনি।

২০০৯ সালে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে প্রথম নিয়োগ পান তাকসিম এ খান। এরপর চার দফায় তার মেয়াদ বাড়ানো হয়। আগামী ১৪ অক্টোবর তার পঞ্চমবারের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তার আগে গত বৃহস্পতিবারের এক নোটিশে আজ বিশেষ বোর্ড সভার আয়োজন করা হয়। সভার একমাত্র আলোচ্য বিষয় ছিল তাকসিম এ খানকে আরও তিন বছরের জন্য নিয়োগ দিতে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো।

বোর্ড সভায় সভাপতিত্ব করেন ওয়াসার বোর্ড সদস্য ও সরকারদলীয় সাবেক সংসদ সদস্য মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন। সভায় তাকসিম এ খানসহ এক ঘণ্টার জুম মিটিংয়ে ৯ জন অংশ নেন।

ওইদিন বোর্ড সদস্য ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব শাবান মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, তাকসিম এ খানের মেয়াদ আরও তিন বছর বাড়ানোর প্রস্তাব ওয়াসার বোর্ড সভায় সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়েছে। এ প্রস্তাব এখন স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হবে। এরপর এই প্রস্তাবনার সারসংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাবে। প্রধানমন্ত্রী স্বাক্ষর করলে তাকসিম এ খানের তিন বছরের মেয়াদ চূড়ান্ত অনুমোদন হবে।

তিনি আরও বলেন, সন্ধ্যায় শুরু হওয়া আজকের বোর্ড সভায় সভাপতিত্ব করেন ওয়াসার বোর্ড সদস্য ও সরকার দলীয় সাবেক সাংসদ ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন। অনলাইন সভায় মোট ৯ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর ঢাকা ওয়াসার সচিব প্রকৌশলী শারমিন হক আমীর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে সভার আহ্বান করা হয়। সভার একমাত্র আলোচ্য বিষয় ছিল, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে প্রকৌশলী তাকসিম এ খানকে তিন বছরের জন্য নিয়োগের প্রস্তাব স্থানীর সরকার বিভাগে প্রেরণ।

এফএইচ/এসআর/পিআর/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]