সাহেদের জামিন নিয়ে আইনজীবীর ‘নাটক’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:০৯ পিএম, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০
সাহেদের আইনজীবী মনিরুজ্জামান

চেক প্রতারণার একটি মামলায় রিজেন্ট গ্রুপ ও হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহেদ করিমের জামিন নিয়ে দ্বিমত সৃষ্টি হয়েছে। সাহেদের আইনজীবীর দাবি ওপেন আদালতে সাহেদের জামিন মঞ্জুর করেছেন বিচারক। আর রাষ্ট্রপক্ষ বলছেন ওকালাতনামায় সাহেদের স্বাক্ষর না থাকায় আদালত আবেদন নথিভুক্ত করেন। তবে মামলার নথিতে দেখে যায়, সাহেদের আইনজীবীর দাখিলকৃত ওকালতনামায় সাহেদের কোনো স্বাক্ষর নেই। স্বাক্ষরবিহীন ওকালতনামা আদালতের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকার তৃতীয় যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আল আমিনের আদালতে এই মামলার চার্জ গঠন শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। এদিন সাহেদকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।

সাহেদের আইনজীবী মনিরুজ্জামান তার জামিন ও চার্জ গঠনের বিষয় পৃথক দু’টি আবেদন করেন। ওকালতনামায় সাহেদের স্বাক্ষর না থাকায় বিচারক আবেদন দু’টি নথিভুক্ত করে চার্জ গঠনের ৪ অক্টোবর দিন ধার্য করেন।

আদালত আদেশে বলেন, সাহেদের আইনজীবী জামিন আবেদন ও চার্জ গঠন বিষয় পৃথক দু’টি আবেদন দাখিল করেন।সাহেদের পক্ষে দাখিলকৃত ওকালতনামা পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, সেখানে আসামি সাহেদের কোনো স্বাক্ষর নেই।এমতাবস্থায় আসামি পক্ষকে জেলকর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ওকালতনামা স্বাক্ষর গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেওয়া হলো। সাহেদের উপস্থিতিতে ৪ অক্টোবর চার্জ শুনানির জন্য দিন ধার্য করা হলো। ওকালতনামায় সাহেদের স্বাক্ষর না থাকায় দাখিলকৃত দরখাস্ত নথিভুক্ত করা হলো।

সাহেদের আইনজীবী মনিরুজ্জামান বলেন, আমরা আজ সাহেদের পক্ষে জামিনের আবেদন করি। আদালত ওপেন আদালতে তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। আমরা আদালতে জামিননামাও দাখিল করি।

তিনি আরো বলেন, আমাদের অসতর্কতার জন্য ওকালতনামায় সাহেদের স্বাক্ষর নেওয়া হয়নি। তবে ওপেন আদালতে বিচারক সাহেদের জামিন মঞ্জুর করেন।

jagonews24

অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ হারিছ উদ্দিন বলেন, আজ সাহেদের আইনজীবী তার জামিনের আবেদন করেন। কিন্তু ওকালতনামায় সাহেদের স্বাক্ষর না থাকায় আবেদনটি নথিভুক্ত করা হয়েছে।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, গুলশান শাখার ফারমার্স ব্যাংকের দুই কোটি টাকা চেক প্রতারণার অভিযোগে ২০১৭ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর সাহেদ ও ইব্রাহীমের নামে একটি মামলা করে ব্যাংক। দুই আসামিকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেন আদালত। আদালতে হাজির না হওয়ায় ২০১৯ সালের ১৬ নভেম্বর তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। মামলায় ইব্রাহীম এখনও পলাতক রয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ১৫ জুলাই সাতক্ষীরার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে সাহেদকে গ্রেফতার করে র্যাব। পরে হেলিকপ্টারে করে তাকে ঢাকায় আনা হয়। পরদিন করোনা পরীক্ষার নামে ভুয়া রিপোর্টসহ বিভিন্ন প্রতারণার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাহেদের ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এরপর তাকে নিয়ে উত্তরায় অভিযানে যায় ডিবি পুলিশ। ওই অভিযানে অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় ডিবি পুলিশের পরিদর্শক এস এম গাফফারুল আলম তার বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

৩০ জুলাই ঢাকা মহানগর হাকিম মোর্শেদ আল মামুন ভূঁইয়ার আদালতে আসামি সাহেদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মো. শায়রুল। ২৭ আগস্ট ঢাকা মহানগর দায়রা জজকে এম ইমরুল কায়েশ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। ২০ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য ২৮ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ। মামলায় সাহেদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড আশা করছেন রাষ্ট্রপক্ষ। আর সাহেদের আইনজীবীর আশা মামলায় সাহেদ খালাস পাবেন।

জেএ/এসএইচএস/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]