অ্যাটর্নি জেনারেলের মৃত্যুতে প্রধান বিচারপতির শোক

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:০৬ পিএম, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০

রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) এক শোকবার্তায় অ্যাটর্নি জেনারেলের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান তিনি।

শোকবার্তায় প্রধান বিচারপতি বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের সঙ্গে আমার ২৮ বছরের সুসম্পর্ক ছিল। তিনি অত্যন্ত সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। একজন আইনজীবী হিসেবে তিনি ছিলেন সর্বজনশ্রদ্ধেয়।

সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেন, মাহবুবে আলম অত্যন্ত গুণী, নির্লোভ ও নির্মোহ একজন ব্যক্তি ছিলেন। আইনের শাসন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় তার অবদান অনস্বীকার্য। আইন অঙ্গনে তার অবদান জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে। তার মৃত্যুতে আইন অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হলো।

উল্লেখ্য, রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর।

জ্বর ও গলাব্যথা নিয়ে গত ৪ সেপ্টেম্বর সিএমএইচে ভর্তি হন রাষ্ট্রের প্রধান এই আইন কর্মকর্তা। ওইদিনই করোনা পরীক্ষা করালে রিপোর্ট পজিটিভ আসে। ১৮ সেপ্টেম্বর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে মাহবুবে আলমকে আইসিইউতে নেয়া হয়। ২০ সেপ্টেম্বর করোনা (কোভিড-১৯) পরীক্ষায় তার রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। তবে শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় রাখা হয় আইসিইউতে।

তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এক বার্তায় শেখ হাসিনা বলেন, দেশের আইন অঙ্গনে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি মাহবুবে আলমের অবদান জাতি সবসময় শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

এছাড়া রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এক শোকবার্তায় বলেন, ‘মরহুম মাহবুবে আলম বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা পরিচালনায় অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তিনি ছিলেন একজন প্রথম সারির যোদ্ধা। তার মৃত্যু বাংলাদেশের আইন অঙ্গনে এক অপূরণীয় ক্ষতি।’

মাহবুবে আলম ১৯৪৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মৌছামান্দ্রা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৮ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স ও ১৯৬৯ সালে লোকপ্রশাসনে ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭২ সালে এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে (এলএলবি) ডিগ্রি অর্জন করেন মাহবুবে আলম।

আইন পেশা পরিচালনার জন্য ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে তালিকাভুক্ত হয়ে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য হন। পরবর্তীতে ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে এবং ১৯৮০ সালে আপিল বিভাগে আইনপেশা পরিচালনার অনুমতি পান। ১৯৯৮ সালে আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন মাহবুবে আলম। তিনি ১৯৭৯ সালে ভারতের নয়াদিল্লির ‘ইনস্টিটিউট অব কনস্টিটিউশনাল অ্যান্ড পার্লামেন্টারি স্টাডিজ’ থেকে সাংবিধানিক আইন ও সংসদীয় প্রতিষ্ঠান এবং পদ্ধতি বিষয়ে ডিপ্লোমা ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৯৮ সালের ১৫ নভেম্বর থেকে ২০০১ সালের ৪ অক্টোবর পর্যন্ত রাষ্ট্রের অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মাহবুবে আলম। তার আগে ১৯৯৩-৯৪ সালে তিনি দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আইনজীবীদের সংগঠন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০০৫-২০০৬ সালে সভাপতিও নির্বাচিত হন। মাহবুবে আলম ২০০৪-২০০৭ মেয়াদে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাচিত সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের মামলায় যুক্ত ছিলেন। এছাড়া সংবিধানের পঞ্চম, সপ্তম, ত্রয়োদশ ও ষোড়শ সংশোধনী মামলা পরিচালনা ছাড়াও আব্দুল কাদের মোল্লা, মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, মো. কামারুজ্জামান, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী, মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীসহ অনেক মানবতাবিরোধী অপরাধীর মামলায় লড়েছেন মাহবুবে আলম।

এফএইচ/বিএ/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]