জাহালম ক্ষতিপূরণ পাচ্ছে কিনা, জানা যাবে আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৩৬ এএম, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০
ফাইল ছবি

আসামি না হয়েও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় প্রায় তিন বছর কারাভোগ করা পাটকল শ্রমিক জাহালম ক্ষতিপূরণ পাবেন কিনা সে বিষয়ে আজ রায় ঘোষণা করবেন হাইকোর্ট।

রায় ঘোষণার নির্ধারিত দিন মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) কার্যতালিকায় (কজলিস্ট) থাকা মামলা আরও শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

সে অনুযায়ী নিরপরাধ হয়েও জাহালম ক্ষতিপূরণ পাবেন কি না, এ জন্য আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টায় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। জাহালমের কারাভোগ ও ক্ষতিপূরণ প্রশ্নে হাইকোর্ট থেকে স্বপ্রণোদিত হয়ে জারি করা রুলের রায় ঘোষণার জন্য (২৮ সেপ্টেম্বর) মঙ্গলবারের কজলিস্টের ১ নম্বরে ছিল। আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে পক্ষগুলোর আইনজীবীদের বক্তব্য শুনে রায়ের দিন ও সময় নির্ধারণ করেন হাইকোর্ট।

শুনানিতে জাহালমের মামলায় দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। সোনালী ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী শেখ জাকির হোসেন। ব্র্যাক ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আনিসুল হাসান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার ও এম সাইফুল আলম।

এর আগে গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর রায়ের জন্য দিন ঠিক করেন। চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি জাহালমের ক্ষতিপূরণ প্রশ্নে রুলের শুনানি শেষে যে কোনো দিন রায় ঘোষণা করবেন বলে অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন।

২০১৯ সালের জানুয়ারিতে একটি জাতীয় দৈনিকে ‘স্যার, আমি জাহালম, সালেক না...’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অমিতদাশ গুপ্ত। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের কর্মকর্তা, মামলার বাদীসহ চারজনকে তলব করেন হাইকোর্ট বেঞ্চ। এছাড়া রুলও জারি করেন আদালত।

একই বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি সংশ্লিষ্টরা হাজিরের পর হাইকোর্ট জাহালমকে মুক্তির নির্দেশ এবং দুদকের কাছে ঘটনার বিষয়ে হলফনামা আকারে জানতে চান। আদেশ অনুসারে দুদক হলফনামা আকারে তা উপস্থাপন করেন।

পরে জাহালম প্রশ্নে ব্যাংক ঋণ জালিয়াতির ৩৩ মামলার এফআইআর, চার্জশিট, সম্পূরক চার্জশিট ও সব ব্যাংকের এ সংক্রান্ত নথিপত্র দাখিল করতে দুদককে নির্দেশ দেন।

এর ধারাবাহিকতায় হাইকোর্ট গত ১৭ এপ্রিল জাহালমকাণ্ডে কে বা কারা দায়ী তা দেখার জন্য দুদকের প্রতিবেদন চেয়েছিলেন। পরবর্তীকালে এসব মামলায় দুদক, ব্র্যাক ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকের প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আবু সালেকের বিরুদ্ধে সোনালী ব্যাংকের প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকা জালিয়াতির ৩৩টি মামলা হয়েছে। কিন্তু আবু সালেকের বদলে জেল খেটেছেন, আদালতে হাজিরা দিয়ে চলেছেন জাহালম। তিনি পেশায় পাটকল শ্রমিক।

এফএইচ/এএইচ/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]