ওকালতনামায় স্বাক্ষর ছাড়া মুক্তি, আসামিকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:৫৫ পিএম, ১৯ অক্টোবর ২০২০

ওকালতনামায় ডেপুটি জেলারের স্বাক্ষর ছাড়া জামিনে মুক্ত পাওয়া আসামিকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে আসামিকে পুনরায় বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে। পাশাপাশি এ মামলার আইনজীবী ও ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের ডেপুটি জেলারকে ভবিষ্যতে এমন কাজ না করার জন্য সতর্ক করে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে আজ দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক ও সহকারী অ্যাটর্নি মাহজাবিন রাব্বানী দীপা। ডেপুটি জেলারের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন মোহাম্মদ আলী আজম। আসামিপক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল ও শামীমা আক্তার।

আদালত তার আদেশে দেশের সব জেল সুপারকে আসামির ওকালতনামায় স্বাক্ষরের জন্য আসামি ভেতরে কি বাইরে আছেন, তা ভেরিফাইড করে ওকালতনামায় স্বাক্ষর ও রেজিস্ট্রিভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে, ওকালতনামায় সংশ্লিষ্ট ডেপুটি জেলারের পূর্ণনামসহ স্বাক্ষর করতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে এসব আদেশ কার্যকরের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, পুলিশের আইজি, আইজিপ্রিজন ও সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

এর আগে করোনা পরিস্থিতিতে ওকালতনামায় ডেপুটি জেলারের স্বাক্ষর ছাড়া হাইকোর্ট থেকে জামিন এবং পরবর্তীতে আসামি জামিনে থাকা অবস্থায় আসামি জেলে আছেন বলে ডেপুটি জেলার স্বাক্ষর দেন। পরে ওই ঘটনায় গত ১৮ অক্টোবর ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের ডেপুটি জেলার খন্দকার মো. আল মামুন আদালতে হাজির হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, করোনা পরিস্থিতিতে যখন দেশের সব আদালত ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে চলছিল, তখন প্রত্যেকটি মামলা ইমেইলের মাধ্যমে সব ডকুমেন্ট পাঠাতে হতো। সেই সময়ে এনআরবি ব্যাংকেরও জাল দলিল সৃজন, অতিমূল্যায়ন দেখিয়ে প্রায় ১১ কোটি টাকা ঋণ জালিয়াতির দুই মামলায় জিওলোজাইজ সার্ভে করপোরেশনের প্রোপাইটর ও চিফ মো. মিজানুর রহমান কনক গত ১৫ জুন জামিনপ্রাপ্ত হন। তখন শর্ত দেয়া হয়, নিয়মিত কোর্ট খোলার এক সপ্তাহের মধ্যে জামিন রেগুলার (পুনরায় আবেদন করে) করে নিতে হবে। কেননা, তখন হাইকোর্টে এভিডেভিট করে ইমেইলে আবেদন করা হতো না।

এরপর যখন আংশিক শারীরিক উপস্থিতিতে কোর্ট চালু হলো ও এভিডেভিট করা চালু হলো তখন এভিডেভিট সেকশন দেখতে পেল আসামির দুটি মামলার একটিতে ওকালতনামায় ডেপুটি জেলারের স্বাক্ষর নেই। এভিডেভিট সেকশন এভিডেভিট না করায় আসামিপক্ষের আইনজীবী শামীমা আক্তার বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন।

পরে আইনজীবী আদালতে ওকালতনামা স্বাক্ষর নিয়ে এভিডেভিটের জন্য নিয়ে আসলে আদালত দেখতে পান, আসামি জামিনে বাইরে থাকা অবস্থায় জেলের ভেতরে আছেন বলে ডেপুটি জেলার স্বাক্ষর করেন এবং তারিখও জেলে থাকার সময়ের দেন। পরে গত ৫ অক্টোবর আদালত এক আদেশে সংশ্লিষ্ট ডেপুটি জেলারকে ১১ অক্টোবর সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে আদালতে উপস্থিত হয়ে এর কারণ ব্যাখ্যা করতে নির্দেশ দেন। সেদিন ডেপুটি জেলার খোন্দকার মো. আল মামুন আইনজীবীর মাধ্যমে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য সময় প্রার্থনা করেন।

এফএইচ/জেএইচ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]