আজ সুপ্রিম কোর্টের সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ আইনজীবীর জন্মদিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:২৪ পিএম, ২১ অক্টোবর ২০২০

সুপ্রিম কোর্টের সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ আইনজ্ঞ ও বরেণ্য ব্যক্তিত্ব টিএইচ খানের ১০১তম জন্মদিন আজ। দেশবরেণ্য এ আইনবিদ ১৯২০ সালের ২১ অক্টোবর ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট উপজেলাধীন ঔটি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৭ সালে আইন পেশায় যোগ দেন এবং বর্তমানে তিনি দেশের প্রবীণতম আইনজীবী।

জানা গেছে, ১০১তম জন্মদিন উপলক্ষে মোহাম্মদপুরে নিজ বাসভবনে অনাড়ম্বরপূর্ণভাবেই পরিবার-পরিজন, ঘনিষ্ঠ আইনজীবী, রাজনৈতিক ব্যক্তি, নিকটাত্মীয় ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে নিয়ে জন্মদিন পালন করেন।

এ বিষয়ে বিচারপতি টিএইচ খানের ছেলে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আফজাল এইচ খান বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতে জাগো নিউজকে জানিয়েছেন, করোনাভাইরাসের কারণে ওনার জন্মদিন পারিবারিকভাবে পালন করা হচ্ছে। এখানে আমরা ভাইবোন, তার নাতি-নাতনিদের নিয়ে ঘরোয়া অনুষ্ঠান করা হবে। করোনার কারণে পারিবারিকভাবে জন্মদিনের অনুষ্ঠান করা হয়নি। কাউকে দাওয়াত দিলে তাদের এবং আমাদেরও সমস্যা হতে পারে তাই ঘরোয়াভাবে অনুষ্ঠান করা হচ্ছে।

তার পুরো নাম মো. তাফাজ্জাল হোসেন খান। তিনি ১৯৬৮ সালে তদানীন্তন পূর্বপাকিস্তান হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ তিনি হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। এরপর ১৯৭৩ সালের জুলাই মাস থেকে পুনরায় আইন পেশায় ফিরে আসেন। ১৯৭৪ সালে তিনি প্রথমবারের মতো সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (বার অ্যাসোসিয়েশন) সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৭৯ সালে তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

১৯৮১ সালের ১৫ নভেম্বর আইন, শিক্ষা, ধর্ম, ভূমি ও রাজস্ব এবং ক্রীড়া মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এরপর ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ এরশাদের নেতৃত্বে নতুন সামরিক আইন জারি করা হয়। তখন তিনি আবার আইন পেশায় ফিরে যান। ১৯৮৬ সালে এরশাদের নির্বাচনে বিরোধিতা করার জন্য গ্রেফতার হন।

বিচারপতি টিএইচ খান ১৯৯২ সালে বিএনপির জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের প্রতিষ্ঠা করেন এবং প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নির্বাচিত হন। এই পদে তিনি ২০১১ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বিএনপির প্রথম ভাইস চেয়ারম্যান।

১৯৯২ সনে তিনি সুইজারল্যান্ডের জেনেভার জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস কমিশনের মেম্বার এবং একই বছর জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৯৪ সালে তিনি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (বার অ্যাসোসিয়েশন) দ্বিতীয় বারের মতো সভাপতি নির্বাচিত হন।

১৯৯৫ সালে বিচারপতি টিএইচ খান এশিয়া জোন থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত রুয়ান্ডা ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি নির্বাচিত হন। ১৯৯৯ সালের ১৯ জুন মাস পর্যন্ত জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল পদে বিচারকার্য পরিচালনা করেন।

১৯৪০ সালে বিচারপতি টিএইচ খান ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন এবং ১৯৪২ সালে তৎকালীন কলকাতা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ইন্টারমিডিয়েট পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএ অনার্সে ভর্তি হন। ১৯৪৫ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ অনার্স এবং ১৯৪৬ সালে এমএ পাস করেন। ১৯৫১ সালের ১৪ মার্চ তিনি হাইকোর্টের আইনজীবী হন।

আইন পেশা ছাড়াও বিচারপতি টিএইচ খান পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ, ঢাকার জগন্নাথ কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শন ও আইন বিষয়ে অধ্যাপনা করেন।

সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ এই আইনবিদ বিচারপতি টিএইচ খান বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার কারণে এখন নিয়মিত আদালতে আসানে না। তবে, এই বয়েসেও তার স্মরণশক্তি এবং চিন্তা করার শক্তি স্বাভাবিক আছে বলে ছেলে আফজাল এইচ খান জানান।

এফএইচ/এফআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]