কায়সারের দণ্ড কার্যকরে মৃত্যু পরোয়ানা জারি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:৫৪ পিএম, ২২ অক্টোবর ২০২০

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জাতীয় পার্টির (জাপা) নেতা ও সাবেক কৃষি প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার সাঈদ আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‌‌‘বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে আমরা রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি হাতে পেয়েছি। আজ তা প্রস্তুত করে মৃত্যু পরোয়ানা সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠিয়েছি।’

ট্রাইব্যুনালের লাইব্রেরিয়ান তাপস রায় ও ডেসপাস শাখার রাসেল ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার কেরানীগঞ্জ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সচিব, আইন মন্ত্রণালয় সচিব ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর এ পরোয়ানা পাঠান।

এর আগে আজ বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পৌঁছায় কায়সারের মৃত্যু পরোয়ানা।

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে গত ১৪ জানুয়ারি সংক্ষিপ্ত রায় ঘোষণা করেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

২০১৪ সালের ২৩ জানুয়ারি সৈয়দ কায়সারকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রায়ে সাতটি অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ড, চারটিতে যাবজ্জীবন ও তিনটিতে মোট ২২ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন সৈয়দ কায়সার। পরে আপিল বিভাগ তার মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে তিনটি অভিযোগে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন আদালত। এছাড়া চারটি অভিযোগ থেকে খালাস পান তিনি।

সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সার এখন মৃত্যুদণ্ডের রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করতে পারবেন। তবে, পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে আবেদন না করলে যেকোনো দিন রায় কার্যকর হতে পারে।

কায়সারের আইনজীবী তানভীর আহমেদ আলামিন বলেছেন, রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি আমরা হাতে পাওয়ার পরে তারা রিভিউ আবেদন করবেন। রিভিউ পিটিশন করার জন্য আমার মক্কেল আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন। রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি পাওয়ার জন্য দরখাস্ত করা আছে। হয়তো কয়েক দিনের মধ্যেই আমরা হাতে পেয়ে যাব।

২০১৩ সালের ১৫ মে ট্রাইব্যুনাল কায়সারের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করার পর ওই রাতেই তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে বয়স ও স্বাস্থ্যগত পরিস্থিতি বিবেচনায় ট্রাইব্যুনালে তাকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দিয়েছিল।

২০১৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ১৬টি ঘটনায় অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে পরের বছরই সৈয়দ কায়সারের বিরুদ্ধে বিচার শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। সেই বিচার শেষে ২০১৪ সলের ২৩ ডিসেম্বর তার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ের পর তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর তিনি ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে সৈয়দ কায়সারের খালাস চেয়ে তার আইনজীবীর মাধ্যমে আপিল আবেদন করেন। ২০২০ সালের ১৪ জানুয়ারি সর্বোচ্চ আদালতের চূড়ান্ত রায়েও তার মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রাখেন আপিল বিভাগে।

কায়সার ছিলেন পাকিস্তানি বাহিনীর বিশ্বস্ত সহযোগী। ‘কায়সার বাহিনী’ নামে দল গড়ে তিনি যেসব অপরাধের ঘটনা ঘটিয়েছেন, সেজন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও হবিগঞ্জের মানুষ তাকে একজন কুখ্যাত কায়সার বাহিনীর প্রধান ব্যক্তি হিসাবেই চেনেন। স্বাধীন বাংলাদেশে জিয়াউর রহমানের আমলে বিএনপি, হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সময় জাতীয় পার্টির দল বদলের পর তিনি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

২০১৪ সলের ২৩ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনালের রায়ে বলেছিল, ‘কায়সার এতো নগ্নভাবে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পক্ষ নিয়েছিলেন যে নিজের গ্রামের নারীদের ভোগের জন্য পাকিস্তানিদের হাতে তুলে দিতেও কুণ্ঠাবোধ করেননি।’

রায়ে সাতটি অভিযোগে ট্রাইব্যুনাল কায়সারকে মৃত্যুদণ্ড দেয়, যার মধ্যে দুই নারীকে ধর্ষণের ঘটনা রয়েছে। এই দুই বীরাঙ্গনার মধ্যে একজন এবং তার গর্ভে জন্ম নেয়া এক যুদ্ধশিশু এ মামলায় সাক্ষ্যও দেন। আর একটি ঘটনায় ছিল নির্বিচারে হত্যার অভিযোগ। এছাড়া অপহরণ, আটকে রেখে নির্যাতন ও হত্যায় সংশ্লিষ্টতার চারটি অভিযোগে তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং তিনটি অভিযোগে আরও ২২ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

আপিলের রায়ে তিনটি অভিযোগে কায়সারের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়। তিনটি অভিযোগে তার মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়া হয়। তিনটি অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং একটি অভিযোগে ৭ বছরের কারাদণ্ড বহাল রাখা হয়। এছাড়া মৃত্যুদণ্ড, আমৃত্যু কারাদণ্ড, ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ৫ বছরের কারাদণ্ডের পাঁচটি অভিযোগ থেকে কায়সারকে খালাস দেয় আপিল বিভাগ।

এফএইচ/এসআর/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]