মৃত দিলীপের জীবিত ফেরা : সিএমএমকে অনুসন্ধানের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৫৫ পিএম, ২২ অক্টোবর ২০২০

গাঁজা খাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামে ‘নিহত’ দিলীপ রায় নামের এক ব্যক্তির জীবিত ফেরত আসার ঘটনায় আসামিকে নির্যাতন করে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে কিনা, সার্বিক বিষয়ে অনুসন্ধানের জন্যে চট্টগ্রামের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

একইসঙ্গে ওই মামলার আসামি দূর্জয় আচার্যকে জামিন দিয়েছেন আদালত। মামলার ঘটনায় ফেরত আসা দিলীপ, দুই আসামি এবং মামলার দুই তদন্ত কর্মকর্তার বক্তব্য শোনার পর এমন আদেশ দেন আদালত।

এ বিষয়ে শুনানির নির্ধারিত দিনে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবের) হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আসামি দূর্জয় আচার্যের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন জাহিদুল আলম চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন বাপ্পী।

অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধারের ঘটনায় ২০১৯ সালের ২৩ এপ্রিল পুলিশ বাদী হয়ে হালিশহর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এ ঘটনায় ২৫ এপ্রিল জীবন চক্রবর্তী ও দূর্জয় আচার্যকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের মধ্যে জীবন চক্রবর্তী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। গাঁজা খাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিলীপ রায় নামের এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছে বলে জবানবন্দিতে জানান জীবন চক্রবর্তী।

কিন্তু এর কিছুদিন পরে দিলীপ রায়কে জীবিত অবস্থায় আদালতের সামনে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। এরপর ম্যাজিস্ট্রেট দিলীপকে নিজ জিম্মায় ছেড়ে দেন এবং পুলিশকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেন। পরে দূর্জয় চক্রবর্তী হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করেন।

ফেরত আসা দিলীপ, নথিসহ তদন্ত কর্মকর্তা এবং দুই আসামিকে হাজিরে নির্দেশ দেন। সে অনুসারে ২ আসামি জীবন চক্রবর্তী ও দূর্জয় আচার্যকে হাজির করে কারা কর্তৃপক্ষ। হাজির হন দিলীপও। নথি নিয়ে আসেন তদন্ত কর্মকর্তাও।

এ বিষয়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন বাপ্পী সাংবাদিকদের বলেন, দুই জন আসামি জীবন চক্রবর্তী ও দূর্জয় আচার্য, ভিকটিম দিলীপ এবং আইও আজ কোর্টে এসেছিলেন। আদালতের সামনে হাজির করার পর তাদের বক্তব্য শুনেছেন।

আসামিরা এক পর্যায়ে আদালতে বলেন, তাদেরকে অনেক আগে গ্রেফতার করেছেন। তাদেরকে (আদালতে) প্রডিউস করার তিন চার দিন আগে পুলিশ তাদেরকে ধরেছেন। তাদেরকে টর্চার করে নাকি এ জিনিসটা (স্বীকারোক্তি) করা হয়েছে। সব কিছু শুনে আসামি দূর্জয় আচার্যকে জামিন দিয়েছেন। চট্টগ্রামের সিএমএমকে নির্দেশনা দিয়েছেন, টোটাল জিনিসটাকে ইনকোয়ারি করে একটা রিপোর্ট দেয়ার জন্য।

এফএইচ/এসএইচএস/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]