নারীদের জিম্মি করে অপকর্ম চরিতার্থ করতো দেলোয়ার বাহিনী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:১৫ এএম, ৩০ অক্টোবর ২০২০
দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ার হোসেন

শ্লীলতাহানির শিকার নারীকে জিম্মি করে তাদের অপকর্ম চরিতার্থ করতো নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের দেলোয়ার বাহিনী। যৌন লিপ্সা পূরণের জন্য হুমকির মাধ্যমে অনেক নারীকে জিম্মি করেছে এই বাহিনী। নিয়মিত ভিডিও ধারণ ও নারী জিম্মির ঘটনা তারই ধারাবাহিকতা। সম্প্রতি নির্যাতনের শিকার ওই নারীকে এর আগেও ধর্ষণ করেছে অপরাধীরা, যেটি অত্যন্ত অমানবিক ও নারীর প্রতি চূড়ান্ত অবমাননা বলে অভিহিত করে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।

বেগমগঞ্জ উপজেলায় স্বামীকে বেঁধে রেখে গৃহবধূকে নিজ ঘরে ধর্ষণচেষ্টা ও বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে থাকা ভিডিও ফুটেজের বিষয়ে অনুসন্ধান করতে হাইকোর্টের নির্দেশনায় গঠিত তদন্ত প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনটি হাইকোর্টে জমা দিয়েছে তদন্ত কমিটি।

এ সময় নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় স্বামীকে বেঁধে রেখে গৃহবধূকে নিজ ঘরে ধর্ষণচেষ্টা ও বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় ফেসবুকে থাকা ভিডিও ফুটেজের একটি কপি সংরক্ষণ করে বাকিগুলো সরানো হয়েছে বলে হাইকোর্টকে জানিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) আইনজীবী।

এছাড়া বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় পুলিশের সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি), বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), চেয়ারম্যান, মেম্বার ও চৌকিদার ও দফাদারের অবহেলা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানি ও আদেশের জন্যে আগামী ২৯ নভেম্বর দিন ধার্য করেন হাইকোর্ট।

প্রতিবেদনে তুলে ধরা পর্যবেক্ষণে বলা হয়, গ্রাম পুলিশিং, বিট পুলিশিংয়ের কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হলে এ ধরনের অপরাধ প্রবণতা কমবে। এটি নারীর প্রতি সহিংতা ও অবমাননার নৃশংস ও নিকৃষ্ট উদাহরণ বলেও তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

আদালতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) পক্ষে ভিডিও ফুটেজ সরানোর বিষয়টি উপস্থাপন করে শুনানিতে ছিলেন ব্যারিস্টার খন্দকার রেজা-ই-রাকিব। অন্যদিকে আইনজীবী জেড আই খান পান্না ও আব্দুল্লাহ আল মামুন শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ রাসেল চৌধুরী।

বিটিআরসির পক্ষ থেকে জানানো হয়, আদালতের আদেশ মতো একটি কপি সংরক্ষণ করা হয়েছে। একটি অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে দেয়া হয়েছে। এছাড়া ফেসবুক বিটিআরসিকে ফুটেজ সরানোর কথা ই-মেইলের মাধ্যমে জানিয়েছে।

এরপর আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন সাংবাদিকদের বলেন, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় প্রশাসনের অবহেলা পেয়েছে হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি। যেটি সুপ্রিম কোর্ট রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে আসার পর আদালতে উপস্থাপন করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ঘটনায় নারীর স্বামীর সম্পৃক্ততা ছিল। গত ১০-১২ বছর ধরে তার কোনো যোগাযোগ ছিল না। কিন্তু তিনি ঘটনার ৫-৬ দিন আগে ওই নারীর সঙ্গে যোগাযোগ করে এসেছিলেন।

এর আগে গত ৫ অক্টোবর ঘটনাটি আদালতের নজরে আনার পর ফুটেজ সরানো নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। সিডি বা পেনড্রাইভে কপি রেখে ভিডিও ফুটেজ সরাতে বিটিআরসির চেয়ারম্যানকে এ নির্দেশ দেয়া হয়।

এছাড়া ওই নারীর পরিবারকে সব ধরনের নিরাপত্তা দিতে নোয়াখালীর পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেয়া হয়। একইসঙ্গে, ঘটনার বিষয়ে ভুক্তভোগীর বক্তব্য নিতে পুলিশের কোনো অবহেলা আছে কিনা, তা অনুসন্ধান করতে একটি কমিটি করে দিয়েছেন আদালত। নোয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে কমিটিতে থাকবেন জেলা সমাজসেবা অফিসার এবং চৌমুহনী সরকারি এস এ কলেজের অধ্যক্ষ। কমিটি এ বিষয়ে অনুসন্ধান করে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে হাইকোর্টের রেজিস্ট্রারের কাছে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।

ওই ঘটনায় করা ফৌজদারি মামলার সবশেষ অবস্থা জানিয়ে ২৮ অক্টোবরের মধ্যে আদালতকে প্রতিবেদন দিতে বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে প্রতিবেদনটি দাখিল করা হয়েছে বলে আদালতকে জানান ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল।

গত ২ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে এক গৃহবধূর (৩৫) বসতঘরে ঢুকে তার স্বামীকে পাশের কক্ষে বেঁধে রেখে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন স্থানীয় বাদলসহ একদল বখাটে যুবক। ওই সময় গৃহবধূ বাঁধা দিলে তারা তাকে বিবস্ত্র করে বেধড়ক মারধর করে মোবাইল ফোনে ভিডিওচিত্র ধারণ করে তারা।

ঘটনার ৩২ দিন পর ৪ অক্টোবর দুপুরের দিকে গৃহবধূকে নির্যাতনের ভিডিও ফেসবুকে প্রকাশ পেলে তা ছড়িয়ে পড়ে। এতে টনক নড়ে স্থানীয় প্রশাসনের। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্থানীয় দেলোয়ার, বাদল, কালাম ও তাদের সহযোগীরা ভুক্তোভোগী গৃহবধূর পরিবারকে কিছুদিন অবরুদ্ধ করে রাখেন। একপর্যায়ে তার পুরো পরিবারকে বসতবাড়ি ছাড়তে বাধ্য করেন তারা। এ কারণে ঘটনাটি দীর্ঘদিন স্থানীয় জনগণ ও পুলিশ প্রশাসনের অগোচরে ছিল।

এফএইচ/এমএসএইচ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]