‘টাকা পাচার করে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থাকবে, মগের মল্লুক নাকি?’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৫৪ পিএম, ১৯ নভেম্বর ২০২০
ফাইল ছবি

‘দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করে কেউ ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থাকবে, মগের মল্লুক নাকি? কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। তাকে অবশ্যই দেশে ফিরিয়ে নিয়ে আনতে হবে। জবাবদিহি করতে হবে।’

হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ মাথায় নিয়ে কানাডায় পালিয়ে থাকা পি কে হালদারের বিষয়ে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এক আদেশের সময় বৃহস্পতিবার (১৯ নভেম্বর) এমন মন্তব্য করে রুল জারি করেন বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ভার্চুয়াল বেঞ্চ।

এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ও পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আইএলএফএসএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন পি কে হালদার।

তাকে গ্রেফতার করতে এবং দেশে ফেরাতে সরকার কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।

স্বরাষ্ট্র সচিব, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যান ও ঢাকা জেলা প্রশাসককে ১০ দিনের মধ্যে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। ১০ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে দুদক চেয়ারম্যানকে। এ বিষয়ে আগামী ২ ডিসেম্বর পরবর্তী আদেশের জন্য দিন ধার্য করেছেন আদালত।

‘পি কে হালদারকে ধরতে ইন্টারপোলের সহায়তা চাইবে দুদক’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদন নজরে নিয়ে এ রুল জারি করা হয়।

আদেশের সময় আদালতে ছিলেন দুদকের আইনজীবী মো. খুরশিদ আলম খান। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মাহজাবিন রাব্বানী দীপা ও আন্না খানম কলি।

শুনানিতে খুরশীদ আলম খান আদালতে বলেন, ‘আসার কথা বলেও সে (পিকে) দেশে আসে নাই। সর্বশেষ অবস্থা হলো আমরা ইন্টারপোলের মাধ্যমে চেষ্টা করছি।’

এ সময় আদালত পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের একটি অংশ পড়ে শোনান। আদালত বলেন, আত্মসাৎ করে টাকা দেশের বাইরে পাঠিয়েছে কি?

জবাবে খুরশীদ আলম খান বলেন, ‘সেটাই তদন্ত চলছে। এখানে মানিলন্ডারিং হয়েছে। অনেক টাকাই বিদেশে পাঠিয়েছে। সেটার তদন্ত চলছে।’

প্রসঙ্গত, বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থেকে প্রশান্ত কুমার হালদার অন্তত সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা লোপাট করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে দুই বিনিয়োগকারীর করা আবেদনের শুনানি নিয়ে গত ১৯ জানুয়ারি এক আদেশে প্রশান্ত কুমার হালদারসহ সংশ্লিষ্ট ২০ জনের ব্যাংক হিসাব ও পাসপোর্ট জব্দের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।

এরপর পিকে হালদার নিরাপদে দেশে ফিরে আদালতের হেফাজতে যেতে পারেন সেজন্য হাইকোর্টের নির্দেশনা চেয়ে গত ৭ সেপ্টেম্বর আবেদন করে নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সার্ভিসেস লিমিটেড (আইএলএফএসএল)।

আবেদনে বলা হয়, টাকা উদ্ধারে সহযোগিতা করতে নিরাপদে দেশে ফিরতে চান তিনি। পরবর্তীতে গত ২১ অক্টোবর আইএলএফএসএল-এর পক্ষে আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহফুজুর রহমান মিলন আদালতকে জানান, পিকে হালদার ২৫ অক্টোবর দুবাই থেকে অ্যামিরেটস এয়ারলাইনস এর একটি ফ্লাইটে করে দেশে ফিরতে টিকিট কেটেছেন।

ওইদিন বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টায় ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা রয়েছে। তিনি এ আবেদনের সঙ্গে বিমানের টিকিটের ফটোকপি দাখিল করেন। এ আবেদনে আদালত গত ২১ অক্টোবর এক আদেশে দেশের বিমানবন্দরে পা রাখা মাত্রই পিকে হালদারকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। পুলিশের আইজি, দুদক ও ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের প্রতি এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

কিন্তু পিকে হালদার নির্ধারিত দিনে দেশে ফেরেননি। তিনি গত ২৩ অক্টোবর আইএলএফএসএল-কে জানান যে, তিনি করোনা উপসর্গে আক্রান্ত। এ কারণে দেশে ফিরতে পারছেন না। দেশে ফেরার পরবর্তী তারিখ ও সময় পরে জানানো হবে। এই চিঠির কপি আইএলএফএসএল তার আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহফুজুর রহমান মিলনের মাধ্যমে গত ২৪ অক্টোবর দুদক ও অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়কে জানানো হয়। ২৪ অক্টোবর ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সার্ভিস লিমিটেডের আইনজীবী দুর্নীতি দমন কমিশন এবং রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীকে জানিয়েছেন-পি কে হালদার ২৫ অক্টোবর দেশে ফিরছেন না।

হাইকোর্ট গত ১৯ জানুয়ারি এক আদেশে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান, এমডি, বহুল আলোচিত পিকে হালদারসহ ১৩ পরিচালকের ব্যাংক হিসাব ও পাসপোর্ট জব্দ, সকল সম্পদ ক্রোক করার নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে পিকে হালদারের মা, স্ত্রী, ভাইসহ ২০ জনের ব্যাংক হিসাব ও পাসপোর্ট জব্দ, সকল সম্পদ ক্রোক করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া পিকে হালদারসহ এই ২০ জনের দেশত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয় এবং তাদের গত ৫ বছরের আয়কর রিটার্ন হাইকোর্টে দাখিল করতে নির্দেশ দেয়া হয়।

ওই প্রতিষ্ঠানের ৭জন আমানতকারীর করা এক আবেদনে এ আদেশ দেন হাইকোর্টের কম্পানি আদালতের বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার। এই আদেশ স্থগিত চেয়ে আইএলএফএসএল-এর দুইজন পরিচালক আপিল বিভাগে আবেদন করলেও আপিল বিভাগ হাইকোর্টের আদেশ বহাল রাখেন।

এরইমধ্যে পিকে হালদার দেশ থেকে পালিয়ে যান। এ অবস্থায় পিকে হালদারের বিরুদ্ধে প্রায় ২৭৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেছে দুদক।

এফএইচ/এসএস/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]