তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ : চারজনের দায় স্বীকার, রিমান্ডে ২

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:০১ পিএম, ২০ নভেম্বর ২০২০

রাজধানীর মিরপুরে এক তরুণী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় চারজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। একই মামলায় আসামি রায়হান ওরফে নাঈম ও মো. ইমন হোসেনের তিনদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

শুক্রবার (২০ নভেম্বর) ঢাকা মহানগর হাকিম মো. মামুনুর রশিদের আদালত আসামি মো. ইমরান, জয় মিয়া ও আল আমিন এবং ঢাকা মহানগর হাকিম রাজেশ চৌধুরীর আদালত আসামি আবু সাঈদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারায় তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। একই মামলায় গ্রেফতার আসামি রায়হান ওরফে নাঈম ও মো. ইমন হোসেনের বিরুদ্ধে তিনদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

এর আগে আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় চার আসামি স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিতে সম্মত হন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার ইন্সপেক্টর সৈয়দ মোহাম্মদ আক্তার হোসেন তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন জানান। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

অপরদিকে, মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে দুই আসামি রায়হান ওরফে নাঈম ও মো. ইমন হোসেনের বিরুদ্ধে সাতদিন করে রিমান্ড নেয়ার জন্য আবেদন করা হয়। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাদের প্রত্যেকের তিনদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গত ১৮ নভেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে মিরপুর হাউজ বিল্ডিং এলাকায় এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে মিরপুর ও দারুস সালাম থানা এলাকায় পৃথক অভিযানে আসামিদের গ্রেফতার করা হয়।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, বাদিনীর সঙ্গে সাত মাস আগে আসামি রায়হান ওরফে নাঈম প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত এক মাস আগে বাদিনীর বাবা এই সম্পর্ক জানতে পেরে আসামি রায়হানের সঙ্গে বাদিনীর কথা বলতে নিষেধ করেন। এক মাস আগে বাদিনী আসামি রায়হানের সঙ্গে দেখা ও কথা বলা বন্ধ করে দেন। গত ১৮ নভেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাদিনী গার্মেন্টসে কর্মরত অবস্থায় আসামি রায়হান তাকে ফোনে কল দিয়ে দেখা করতে বলেন। রাত ৮টার দিকে গার্মেন্টস ছুটির পর বাসায় ফেরার পথে বমিরপুর এলাকায় আসামি রায়হান ও জয় মিয়ার সাথে বাদিনীর দেখা হয়। এরপর বাদিনীর সাথে জরুরি কথা আছে বলে আসামি রায়হান পেছনে হাঁটতে শুরু করেন। একপর্যায়ে আসামি রায়হান বাদিনীর মুখ চেপে ধরে মিরপুর মডেল থানাধীন কল্যাণপুরস্থ হাউজ বিল্ডিং রিসার্চ ইন্সটিটিউটের ডিসপ্লে সেন্টারের পেছনে ফাঁকা জায়গায় নিয়ে যায়। এ সময় আসামি মো. ইমরান, আল আমিন, আবু সাঈদ এসে হাজির হয়। তারা বাদিনীকে জোরপূর্বক জড়িয়ে ধরে। আসামি আল আমিন দুই পা চেপে ধরে এবং আসামি আবু সাঈদ মুখ চেপে ধরে। এরপর ইমরান ও রায়হান বাদিনীকে ধর্ষণ করে।

জেএ/এমএআর/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]