ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মারা গেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:২১ পিএম, ২৯ নভেম্বর ২০২০

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান খান আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

রোববার (২৯ নভেম্বর) দুপুর পৌনে ১টার দিকে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তদন্ত সংস্থার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এম সনাউল হক।

সানাউল হক বলেন, এম আব্দুল হান্নান খানকে গত শুক্রবার (২৭ নভেম্বর) ঢাকার সিএমএইচে ভর্তি করা হয়। করোনা পরীক্ষায় তার ‘পজিটিভ’ আসে। আজ সকালে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। বেলা পৌনে একটার দিকে তিনি মারা যান।

মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় ২০১১ সালের ১২ জানুয়ারি যুক্ত হন এম আব্দুল হান্নান খান। তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ক হিসেবে নিয়োগ পাওয়া পদটি ছিল চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে পাওয়া। তাকে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) পদ মর্যাদা দেয়া হয়েছিল।

এর আগে শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণে গত ৯ সেপ্টেম্বর আব্দুল হান্নানকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেয়া হলে সেখান থেকে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সিএমএইচে স্থানান্তর করা হয়। এরপর তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে তাকে বাসায় পাঠানো হয়। পেরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ফের হাসপাতালে নেয়া হয়, সেখানে তিনি মারা যান।

ওই সময় তদন্ত সংস্থার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এম সানাউল হক জাগো নিউজকে বলেছিলেন, আব্দুল হান্নান খানের ব্রেন স্ট্রোক, হৃদরোগসহ অন্যান্য শারীরিক জটিলতা ভুগছিলেন।

অতিরিক্ত ডিআইজি পদ থেকে অবসর গ্রহণকারী এই পুলিশ কর্মকর্তা এর আগে বঙ্গবন্ধু হত্যা ও জেলহত্যা মামলার তদন্তেও প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে যুদ্ধাপরাধের বিচার করা হবে বলে অঙ্গীকার ছিল।

সংসদের প্রথম অধিবেশনে এ ব্যাপারে সর্বসম্মতিক্রমে একটি আইনও পাস হয়। কিন্তু আন্তর্জাতিক (অপরাধ) আদালত গঠিত হয় ২০১০ সালের ২৫ মার্চ। এ প্রেক্ষাপটে তদন্ত সংস্থায় ২০১১ সালের ১২ জানুয়ারি তদন্ত সংস্থার সমন্বয়কারী হিসেবে যোগ দেন তিনি।

নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলায় এম আব্দুল হান্নান খানের জন্ম ১৯৪৭ সালে। তিনি পুলিশের এডিশনাল আইজি হিসেবে অবসরে যান। এরপর তাকে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) পদ মর্যাদায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুানালের প্রধান তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান গত একাদশ জাতীয় সংসদ নিবার্চনে নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

তার, নিজ এলাকা নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় স্কুল কলেজ প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন ও সমাজ সেবামূলক কাজ করেছেন তিনি। এছাড়া পুলিশের ডিআইজি থাকাকালীন তিনিই প্রথম বিদেশ থেকে বঙ্গবন্ধুর এক খুনিকে ধরে আনতে সক্ষম হয়েছিলেন।

নেত্রকোনার পূর্বধলা খলিশাউর খান পাড়ায় জন্ম নেয়া আব্দুল হান্নান খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ থেকে এম এ এবং এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি ভাষা আন্দোলনে অংশ নেন। হামুদুর রহমান শিক্ষা কমিশন আন্দোলনে কিশোরগঞ্জ মহকুমার ছাত্র সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ছিলেন। ১৯৬৪ সালে ডাকসু নির্বাচনে সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। একই বছর কার্জন হলে অনুষ্ঠিত কনভোকেশনে মোনায়েম খানের হাত থেকে সার্টিফিকেট গ্রহণ করতে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরা অস্বীকৃতির ঘটনায় ছয় মাস জেল খাটেন পুলিশের সাবেক এই কর্মকর্তা।

অধ্যয়ন শেষে ১৯৬৫ সাল থেকে ব্রাক্ষণবাড়িয়া কলেজ, মৌলভীবাজার কলেজ, ময়মনসিংহের নাসিরাবাদ কলেজ ও জামালপুরের আশেক মাহমুদ কলেজে অধ্যাপনা করেছিলেন।

১৯৭১ সালে ১১ নং সেক্টরের ঢালু সাব সেক্টরে সক্রিয় মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন তিনি। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে বিসিএস প্রথম ব্যাচে পুলিশ বিভাগে এএসপি হিসেবে যোগদান করেন আব্দুল হান্নান খান।

এফএইচ/বিএ/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]