বুড়িগঙ্গার দূষণ রোধে ওয়াসা এমডির পদক্ষেপে আদালতের উষ্মা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৫৯ পিএম, ১৩ জানুয়ারি ২০২১
ফাইল ছবি

বুড়িগঙ্গার দূষণ রোধে আদালতের রায় ও আদেশ বাস্তবায়ন না করায় ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাকসিম এ খানের পদক্ষেপ নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। এর প্রেক্ষিতে আদালতের রায় ও আদেশ বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ-পরিকল্পনা প্রণয়ন করে আগামী ২১ জানুয়ারির মধ্যে তাকে হলফনামা দাখিল করতে বলা হয়েছে।

এক রিটের প্রেক্ষিতে বুড়িগঙ্গার পানি দূষণ রোধে হাইকোর্টের দেয়া নির্দেশনা বাস্তবায়নের সংক্রান্ত চলমান (কন্টিনিউয়াস মেন্ডামাস) একটি মামলায় রায় বাস্তবায়নের অগ্রগতি বিষয়ক শুনানি শেষে বুধবার (১৩ জানুয়ারি) হাইকোর্টের বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আদালতে আজ রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। ওয়াসার এমডির পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট উম্মে সালমা।

আদালত বলেছেন, ‘রায় বাস্তবায়নে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদক্ষেপ খুবই ধীরগতিসম্পন্ন। এভাবে চলতে থাকলে বুড়িগঙ্গার দূষণ কোনোদিন বন্ধ হবে না। বরং রায় অকার্যকর হয়ে যাবে।’

এর আগে আদালতে ওয়াসার আইনজীবী গত ১১ জানুয়ারি দাখিল করা রায় বাস্তবায়নের প্রতিবেদন তুলে ধরেন। এ প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ টেনে শুনানিতে মনজিল মোরসেদ বলেন, সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রায়ে থাকলেও বুড়িগঙ্গার পানি দূষণের জন্য দায়ী শিল্পকারখানা বর্জ্য ও গৃহস্থালি বর্জ্য নদীতে নিঃসরণ বন্ধে ওয়াসার এমডি কার্যকরী পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। তিনি যে হলফনামা দাখিল করেছেন তার সাথে আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নের সরাসরি সম্পৃক্ততা নেই। রায় বাস্তবায়নে সুনির্দষ্ট সময়সীমা না থাকলে কোনোদিন বুড়িগঙ্গার দূষণ বন্ধ হবে না। পরে ওয়াসার এমডির আইনজীবী উম্মে সালমা পরে বলেন, ‘উনারা (ওয়াসা) যেসব কানেকশন ডিসকানেক্ট করেছে তা কমপ্লাইনস আকারে সাবমিট করেছি। সর্বশেষ গত ১১ জানুয়ারি একটি প্রতিবেদন দিয়েছি।’

আদালতের এই আদেশ ওয়াসা কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে ওয়াসার এমডি নির্ধারিত তারিখের মধ্যে হলফনামা দেবেন বলেও জানিয়েছেন আইনজীবী উম্মে সালমা।

মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) জনস্বার্থে করা রিটের প্রেক্ষিতে বুড়িগঙ্গার পানি দূষণ রোধে ২০১০ সালের ১ জুন কয়েক দফা নির্দেশনা দিয়ে রায় দেন হাইকোর্ট।

রায়ে ছয় মাসের মধ্যে ওয়াসার এমডিকে বুড়িগঙ্গার সংযুক্ত বিভিন্ন রাইন থেকে বর্জ্য নিঃসরণ মুখ বন্ধ করে দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়। রায়টি চলমান মামলা হিসেবে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বুড়িগঙ্গার পানি দূষণরোধে কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে সে বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিল করতে ২০১৯ সালের ২ মে আদেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। এরপরও প্রতিবেদন দাখিল না করায় ২০২০ সালে ওয়াসার এমডিকে কয়েকদফা সতর্ক করেছিল হাইকোর্ট। এর পরে ওয়াসার এমডির বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনেন রিটকারীপক্ষের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। আদালতের নির্দেশে ওই বছর স্বশরীরে হাজির হয়ে রায় বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন ওয়ারাস এমডি।

কিন্তু রায় পুরোপুরি বাসস্তবায়ন না হওয়ায় আবারও আদারত রায় বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেন এবং হলফনামা দাখিল করার পর আজ বুধবার আবারও শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

শুনানি শেষে হাইকোর্ট ২০১০ সালের ওই রায় বাস্তবায়নে সুনির্দ্দিষ্ট পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ সম্পর্কে লিখিত হলফনামা আকারে আগামী ২১ জানুয়ারির মধ্যে আদালতে দাখিলের নির্দেশ দেন।

এফএইচ/এমএসএইচ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]