পালিয়ে বিয়ে করায় ধর্ষণ মামলা : স্বামীর জিম্মায় যাবেন মেহজাবিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:৪৯ পিএম, ১৪ জানুয়ারি ২০২১
ফাইল ছবি

পালিয়ে বিয়ে করার পরে স্বামীর বিরুদ্ধে নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় আড়াই মাস বয়সী শিশুসহ উন্নয়ন কেন্দ্রে থাকা এক কিশোরী মাকে তার স্বামীর জিম্মায় দিতে চাদঁপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের প্রতি হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছেন। কিশোরী গাজীপুরের শিশু কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে (বালিকা) অবস্থান করার সময় ২০২০ সালের অক্টোবরে জন্ম নেয় ওই শিশু।

কিশোরীর স্বামীর এ সংক্রান্ত আবেদনের ওপর শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার (১৪ জানুয়ারি) হাইকোর্টের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে আজ আবেদনকারীর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী শেখ আলী আহমেদ খোকন। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. তারেক আজিজ ও সজল আহমেদ। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন।

ওই কিশোরীর মতামত নিয়েই এ আদেশ দেয়া হয়েছে বলে আদালতের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করে আইনজীবী সাংবাদিকদের বলেন, ‘চাঁদপুরের সেগুফতা ইয়াসমিন মেহজাবিন ও কামাল মজুমদার ২০১৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। তবে বিয়ের কাবিনে মেয়েটির বয়স দেখানো হয়েছে ১৮ বছর।

এ ঘটনায় ওই বছরের ৭ ডিসেম্বর হাজীগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অপহরণ ও ধর্ষণের মামলা করেন মেয়েটির মা। মামলায় মেয়েটির বয়স দেখানো হয়েছে ১৩ বছর ১১ মাস। যদিও জন্ম নিবন্ধন অনুযায়ী তার বয়স ২১ বছর। আবার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে মেয়েটি তার বয়স ১৬ বছর বলে উল্লেখ করেছেন।

এ মামলায় ২০২০ সালের ২৬ মে ওই মেয়ের স্বামীকে গ্রেফতার করে মেয়েটিকেও তার সাথে নেয়া হয়। মেয়েটি তখন পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। তার স্বামীকে চাঁদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে ট্রাইব্যুনাল তাকে কারাগারে পাঠায়।

সেদিন মেয়েটিকে তার মা নিজের জিম্মায় নেয়ার আবেদন করেন। এতে মেয়ে রাজি না হওয়ায় আদালত তাকে সেফ কাস্টডিতে (গাজীপুরের শিশু কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে) গাজীপুর পাঠিয়ে দেয়।

পরবর্তীতে ট্রাইব্যুনালে জামিন চেয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর হাইকোর্টে মেয়েটির স্বামী জামিন চেয়ে আবেদন করেন। পরে তাকে ২০ অক্টোবর জামিন দেন হাইকোর্ট। এ অবস্থায় ২০২০ সালের ২৭ অক্টোবর গাজীপুরের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে ওই কিশোরী সন্তান জন্ম দেন।

এদিকে জামিনে মুক্তি পেয়ে কিশোরীর স্বামী স্ত্রী ও সন্তানকে নিজের জিম্মায় পেতে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেন। এরপর ওই বছরের ১০ নভেম্বর সেই আবেদন না মঞ্জুর করে ট্রাইব্যুনাল। তবে, ওই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়।

শুনানি নিয়ে গাজীপুরের শিশু কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রের (বালিকা) তত্ত্বাবধায়ককে কিশোরী ও তাদের সন্তানকে আদালতে নিয়ে আসতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এ আদেশ অনুসারে বৃহস্পতিবার কিশোরী ও নবজাতক সন্তানকে হাজির করা হয়। তখন আদালত কিশোরী ও তার স্বামীর মতামত নেন।

শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট মেয়েটিকে তার স্বামীর জিম্মায় দেয়ার জন্য নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল চাদঁপুরকে নির্দেশ দেন।

শেখ আলী আহমেদ খোকন সাংবাদিকদের বলেন, ‘উচ্চ আদালতের আদেশ চাঁদপুরের ট্রাইব্যুনালে যাবে। এরপর ট্রাইব্যুনাল আদেশটি শিশু কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রকে পাঠাবেন। তখন মেয়েটি তার স্বামীর জিম্মায় যেতে পারবেন।’

এফএইচ/এমএইচআর/ইএ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]