অর্থ আত্মসাৎ : ব্যাংক এশিয়ার সাবেক নারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:০৮ পিএম, ১৯ জানুয়ারি ২০২১

গ্রাহকের সঞ্চয়পত্রের বিপরীতে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ব্যাংক এশিয়ার সাবেক সিনিয়র এক্সকিউটিভ অফিসার সিলভিয়া আক্তার রিনির বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদক প্রধান কার্যালয়ে উপপরিচালক সৈয়দ তাহসিনুল হক বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

মঙ্গলবার (১৯ জানুয়ারি) দুদকের পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন।

দুদকের অনুসন্ধান থেকে জানা যায়, ২০১৩ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ব্যাংক এশিয়ার দিলকুশা শাখা থেকে বিভিন্ন ধরণের সঞ্চয়পত্রের বিপরীতে, সঞ্চয়পত্রের প্রকৃত মূল্য বা সুদের প্রাপ্য টাকা গ্রাহককে পরিশােধের পর উক্ত সঞ্চয়পত্র বা সুদের কুপনের বিপরীতে ৪৫৪টি লেনদেনের মাধ্যমে মােট ৪ কোটি ৪৫ লাখ ৯৯ হাজার ৫২০ টাকা সঞ্চয়পত্র জিএল হেড থেকে নগদ ও একাউন্ট ট্রান্সফারের মাধ্যমে অতিরিক্ত উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়েছে।

দুদক জানায়, সিলভিয়া আক্তার রিনি ব্যাংক থেকে আত্মসাতকৃত অর্থ একাই ভােগ করেছেন এবং তার উক্ত হিসাবে লেনদেন করেছেন। তিনি ২০১৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত আটবার বিদেশ ভ্রমণ করেছেন। তিনি এই হিসাবে বিপুল পরিমাণ অর্থের লেনদেনে আয়ের/অর্থের উৎস্য সংক্রান্তে কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা প্রদান করতে পারেননি।

মামলার এজহার থেকে জানা যায়, সিলভিয়া আক্তার রিনি ব্যাংক এশিয়া লিমিটেডের দিলকুশা শাখায় কর্মরত থাকাকালে অসৎ উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধমূলক অসদাচারণ ও অপরাধমূলকভাবে ৪৩৭টি নগদ লেনদেনের মাধ্যমে তিন কোটি ১৮ লাখ ৩৮ হাজার ৯২০ টাকা আত্মসাৎ করেন ও ১৭টি একাউন্ট স্থানন্তরের মাধ্যমে এক কোটি ২৭ লাখ ৬০ হাজার ৬০০ টাকা আত্মসাতের চেষ্টা করেন।

অনুসন্ধান থেকে আরো জানা যায়, তিনি ৪৫৪টি ভাউচার প্রস্তুত করে প্রস্তুতকারী হিসেবে স্বাক্ষর করেছেন এবং সফটওয়্যারে মেকার হিসাবে পােস্টিং দিয়েছেন। গ্রাহককে সঞ্চয়পত্র-কুপনের মূল্য পরিশােধের পর উক্ত সঞ্চয়পত্র কাস্টডিয়ান হিসেবে নিজের হেফাজতে রাখতেন।

দুদকের অনুসন্ধানে জানা গেছে, ব্যাংকটির গ্রাহকদের সঞ্চয়পত্র-কুপন ব্যবহার করে ভাউচার তৈরি করেছেন সিলভিয়া আক্তার রিনি। দিলকুশা শাখার কর্মকর্তাদের ভাউচারে ও কম্পিউটার সিস্টেমে অনুমােদন নিয়েছেন এবং ক্যাশ কাউন্টার থেকে অর্থ গ্রহণ করেছেন। সিলভিয়া আক্তার রিনি ক্যাশ ডেবিট ভাউচারে গ্রাহকের স্বাক্ষর ভেরিফাই করলেও সেখানে অধিকাংশ ক্ষেত্রে গ্রাহকের স্বাক্ষরের কোনো মিল পাওয়া যায়নি। তিনি ক্যাশ ডেবিট ভাউচার তৈরি করে প্রস্তুতকারী হিসেবে নিজেই স্বাক্ষর করেছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সিলভিয়া আক্তার রিনি দিলকুশা শাখায় সঞ্চয়পত্রের কাস্টডিয়ান ছিলেন এবং গ্রাহকের টাকা একবার প্রদানের পর বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা করার জন্য প্রদানকৃত সঞ্চয়পত্র-কুপন তার হেফাজতে রাখতেন। সুতরাং গুপ্ত সঞ্চয়পত্র-কুপন একাধিকবার ব্যবহার করা শুধুমাত্র তার পক্ষেই সম্ভব ছিল।

দুদকের অসুন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাংক এশিয়ায় সিলভিয়া আক্তার রিনি এবং তার ছেলে সাফি আজ জামানের নামে পরিচালিত হিসাব বিবরণী পর্যালােচনায় দেখা গেছে, তার হিসাবটিতে ২০১২ সালের ২৬ জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে মােট দুই হাজার ৩৬১টি লেনদেনের মাধ্যমে ৫ কোটি ২৩ লাখ ৯৯ হাজার ৪০৩ টাকা জমা করেন। বর্তমানে হিসাবের দুই হাজার ৬৫১টাকা রয়েছে।

দুদকের অসুসন্ধান প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, রেকর্ডপত্র ও সাক্ষ্য-প্রমাণে এটা স্পষ্টত প্রতীয়মান হয়েছে সিলভিয়া আক্তার রিনিই এককভাবে উক্ত ৪ কোটি ৪৫ লাখ ৯৯ হাজার ৫২০ টাকা আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত।

অসৎ উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধমূলক অসদাচারণ ও অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের এই অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা এবং আত্মসাতকৃত উক্ত অর্থ স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের দায়ে দণ্ডবিধির ৪০৯/৫১১ এবং দুর্নীতি প্রতিরােধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরােধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ও (৩) ধারায় দুদক একটি মামলা দায়ের করেন।

এসএম/ইএ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]