ধর্ষণ মামলায় প্রডিউসারকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৩৩ পিএম, ২০ জানুয়ারি ২০২১

নাট্যকর্মী ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় এটিএন বাংলার প্রোগ্রাম প্রডিউসার আসলাম শিকদারের খালাসের বিরুদ্ধে করা আপিল আবেদন মঞ্জুর করেছেন হাইকোর্ট। সেইসঙ্গে তাকে বিচারিক (নিম্ন) আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি বিচারিক আদালতের নথিও তলব করেছেন উচ্চ আদালত।

খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল গ্রহণ করে বুধবার (২০ জানুয়ারি) বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আদালতে আজ রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সারওয়ার হোসেন বাপ্পী।

মামলার বিবরণে বলা হয়, গত ১৪ অক্টোবর ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সামছুন্নাহার আসামি আসলাম সিকদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাসের আদেশ দেন। মামলাটিতে আসলাম সিকদার পলাতক রয়েছেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ভিকটিম একজন নাট্যকর্মী। আসলাম সিকদার (৪২) এটিএন বাংলার প্রোগ্রাম ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেই সুবাদে তারা পরিচিত হন। পরিচয়ের এক পর্যায়ে আসলাম ভিকটিমকে ভালোবাসেন বলে জানান। পরবর্তীতে বিয়ে করার প্রস্তাব দেন। ভিকটিমকে আরো বড় শিল্পী হিসেবে নিজ হাতে তৈরি করবেন বলে আশ্বাস দেন। তিনি জানান নাটকের বিষয়ে তার ২০টি প্রশক্ষিণ নেয়া আছে। নাটকের বিষয়ে প্রশিক্ষণের জন্য প্রায়ই ভিকটিমকে দিলু রোডের নিজ অফিসে যেতে বলেন আসলাম শিকদার। ভিকটিম কর্মব্যস্ততার কারণে তার সব ডাকে সাড়া দিতে পারতেন না।

আদালত সূত্রে আরো জানা গেছে, ২০১৮ সালের ২৬ আগস্ট আসলাম শিকদারের সঙ্গে প্রথমবারের মতো তার অফিসে যান ভিকটিম। সেখানে গিয়ে ভিকটিম বুঝতে পারেন সেটা কোনো নাট্য প্রশিক্ষণের অফিস না। তিনি ওই অফিস থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু আসলাম শিকদার তাকে বাধা দেন এবং ধর্ষণ করেন। ভিকটিম আইনের আশ্রয় নিতে চাইলে আসলাম শিকদার তাকে বিয়ের আশ্বাস দেন। এভাবে অনেকবার তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। পরবর্তীতে ভিকটিম বিয়ের কথা বললে আসলাম তাকে বিয়ে করবেন না বলে জানান এবং হত্যার হুমকি দেন। এ ঘটনায় ২০১৮ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় মামলাটি দায়ের করেন ওই নাট্যকর্মী।

মামলাটি তদন্ত করে ২০১৮ সালের ১৪ নভেম্বর আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন হাতিরঝিল থানার ইন্সপেক্টর মো. ইকবাল। ২০১৯ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরু করেন আদালত। মামলাটির বিচার চলাকালে আদালত ১৩ সাক্ষীর মধ্যে ১২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন।

এফএইচ/ইএ/জিকেএস/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]