‘ডিএজির কথায় জামিন দেয়ার নজির নেই, অবৈধ সম্পদের অভিযোগ বানোয়াট’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:৪০ পিএম, ২০ জানুয়ারি ২০২১

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) জান্নাতুল ফেরদৌস রুপা বলেছেন, ‘ডিএজির কথায় আদালত জামিন দেন- সেটা কাল্পনিক ও বাস্তবতা বহির্ভূত। জামিন দেয়ার ক্ষমতা একমাত্র আদালতের। জামিন দেয়ার ব্যাপারে বিচারকগণ স্বাধীন। মামলার গুণাগুণ বিচার করে আদালত তার সিদ্ধান্ত দেন। ডিএজির কথায় জামিন দেয়ার নজির সুপ্রিম কোর্টের ইতিহাসে নেই।’

বুধবার (২০ জানুয়ারি) দুদকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

দুদক কেনো ডেকেছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘একটা অভিযোগে আছে। তার প্রেক্ষিতে ডাকা হয়েছে। আমার কোনো অবৈধ সম্পদ নেই। আমার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট। একটা প্রোপাগান্ডা।’

এর আগে কারাবন্দি ঠিকাদার জি কে শামীমসহ বিভিন্ন আসামির জামিন করিয়ে দিতে অর্থের লেনদেনসহ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ডিএজি রুপাকে আড়াই ঘণ্টাব্যাপী জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক।

দুপুর ১টা ৫৮ মিনিটে তিনি দুদক কার্যালয়ে হাজির হন। বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদকের উপপরিচালক ইব্রাহিমের নেতৃত্বাধীন একটি দল।

জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালীন দুদক সচিব ড. মু আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, ‘ডিএজি রুপার বিরুদ্ধে অবৈধ প্রক্রিয়ায় জামিনের অভিযোগ আছে। সেখানে ক্ষমতার অপব্যবহারের একটি বিষয় ছিল। তার অবৈধ সম্পদ আছে কিনা দুদক থেকে তার খোঁজ নেয়া হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তাকে ডাকা হয়েছিল। প্রথমে তিনি আসেননি, হাইকোর্টে একটা মামলা করেছিল যাতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা না হয়, হাইকোর্ট তাকে ২৬ জানুয়ারির মধ্যে এখানে হাজির হতে বলেছেন, জিজ্ঞাসাবাদের সম্মুখীন হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। তার প্রেক্ষিতে তিনি আজকে এসেছেন।’

তিনি কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, ‘এটা আসলে আমরা জানি না। এটা দুদক তদন্ত করবে, তদন্তে যদি সেরকম কিছু পাওয়া যায়, তখন সেটা বলা যাবে।’

গত বছরের ২৮ অক্টোবর দুদকের উপপরিচালক মো. ইব্রাহিম স্বাক্ষরিত নোটিশের মাধ্যমে দুদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয় ডিএজি রুপাকে। দুদকের ওই নোটিশে গত বছরের ৪ নভেম্বর হাজির হওয়ার কথা ছিল। তবে তিনি সেদিন হাজির না হয়ে উল্টো দুদকের তলব আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে রিট করেন।

পরে তলবি নোটিশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রুপার রিট আবেদনটি গত বছরের ৩ ডিসেম্বর বিচারপতি মো. মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি একেএম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টবেঞ্চ খারিজ করে দেন।

হাইকোর্ট তার রিটটি খারিজ করে দিলে ফের এই ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করে দুদক। দ্বিতীয়বারের তলবি নোটিশে ২৭ জানুয়ারি কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়। একইসঙ্গে তার ব্যাংক হিসাব অনুসন্ধানে দেশের ৫৬টি ব্যাংকে চিঠি পাঠায় দুদক।

এসএম/ইএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]