মেয়র প্রার্থী হতে বাধা নেই নির্মাণশ্রমিক সাহাবুদ্দিনের

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:১৮ পিএম, ২০ জানুয়ারি ২০২১

বরগুনা সদর পৌরসভা নির্বাচনে মেয়রপদে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সাহাবুদ্দিনকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ দেয়ার পাশাপাশি তাকে নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দ দেয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সাহাবুদ্দিন পেশায় একজন নির্মাণশ্রমিক বলে জাগো নিউজকে জানিয়েছেন।

এ সংক্রান্ত এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ (১৭ জানুয়ারি) এ আদেশ দেন।

আদালতে ওই দিন রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুর্টি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায়, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল কালীপদ মৃধা, ফারহানা পারভীন বিথি ও মোহাম্মদ শাহ নেওয়াজ।

আদেশের অনুলিপি বুধবার (২০ জানুয়ারি) হাতে পান বলে জানান মেয়র প্রার্থী শাহাবুদ্দিনের পক্ষের আবেদনকারী আইনজীবী জাকির হোসেন।

তিনি জানান, আগামী ৩০ জানুয়ারি বরগুনা সদরের পৌরসভা নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে মেয়র পদে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন মো. সাহাবুদ্দিন। কিন্তু নির্বাচনী নথিপত্রে প্রার্থী সাহাবুদ্দিনের স্বাক্ষরের অমিল থাকার অভিযোগে নির্বাচন কমিশন (ইসি) তার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন। এরপর তিনি ৯ জানুয়ারি আপিল করেন। ওই দিনই তার আপিল খারিজ হয়। ফলে মনোনয়ন অবৈধ হয়ে যায় সেখানে।

এরপর ওই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্চ করে গত ১৩ জানুয়ারি হাইকোর্টে রিট আবেদন সাহাবুদ্দিনের আইনজীবী আতাউল্লাহ নুরুল কবির। ওই রিটের শুনানি নিয়ে সাহাবুদ্দিনকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগের পাশাপাশি তাকে প্রতীক বরাদ্দ দেয়ার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।একইসঙ্গে, সাহাবুদ্দিনের মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন আদালত।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি), জেলা প্রশাসক (ডিসি), জেলা নির্বাচনী অফিসার (রিটার্নিং), পুলিশ সুপার (এসপি) ও সংশ্লিষ্ট থানা নির্বাহী কর্মকর্তাকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়।

উল্লেখ্য, আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে চূড়ান্ত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। ৩০ জানুয়ারির পৌরসভা নির্বাচনে বরগুনা পৌরসভায় মেয়র পদে ১০ জন, সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ১৪ জন এবং সাধারণ সদস্য পদে ৩৫ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন।

গত ৩ জানুয়ারি সকাল ১০টা থেকে এসব প্রার্থীদের উপস্থিতিতে পর্যায়ক্রমে মনোনয়নপত্র বাছাই অনুষ্ঠিত হয়। বাছাইতে মেয়র পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী চারজনের কেউ ১০০ ভোটারের স্বাক্ষর জমা দিতে না পারায় তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন প্রার্থীর আয়কর রিটার্নের সঠিক কাগজ জমা দিতে না পারায় তারও মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া ৫ মেয়র প্রার্থী হলেন- ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা জালাল উদ্দীন, অ্যাডভোকেট সিদ্দিকুর রহমান, মো. শাহাবুদ্দিন, মো. জসিম উদ্দীন ও মো. নিজাম উদ্দীন।

সংরক্ষিত মহিলা আসনে আয়কর রিটার্নে ত্রুটি থাকায় ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী ইয়াসমিন সুলতানা এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ডে সাধারণ সদস্য প্রার্থী হুমায়ুন কবির ঋণ খেলাপি হওয়ায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

এফএইচ/ইএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]