বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তাদের তালিকাসহ তথ্য চেয়েছেন হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:০৩ পিএম, ২১ জানুয়ারি ২০২১

২০০৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকে কর্মরত কর্মকর্তাদের তালিকাসহ তথ্য চেয়েছেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি তারা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধে কেন ব্যর্থ, তা জানতে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছেন আদালত।

বাংলাদেশ ব্যাংকের অডিট বিভাগ, ফাইন্যান্সিয়াল ইনিস্টিটিউশন, মার্কেট ডিভিশনসহ সংশ্লিষ্টদের এ ব্যাখ্যা দিতে হবে। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এই প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারি) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মহি উদ্দীন শামীমের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চে এই আদেশ দেন। আদেশের বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক।

আদালতে এদিন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক। তার সঙ্গে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মাহজাবীন রব্বানী ও আন্না খানম কলি। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ব্যারিস্টার খান মোহাম্মদ শামীম আজিজ।

এছাড়া, পিপলস লিজিংয়ের সাবেক চেয়ারম্যান উজ্জ্বল কুমার নন্দীর পক্ষে আইনজীবী মোশারফ হোসেন ও পি কে হালদারের স্বজন এবং পিপলস লিজিংয়ের সাবেক পরিচালক অমিতাভ অধিকারীর পক্ষে আইনজীবী ছিলেন আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক। পিপলস লিজিংয়ের সাময়িক অবসায়ক আসাদুজ্জামান খানের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ব্যারিস্টার মেজবাহুর রহমান শুভ।

শুনানিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অবশ্যই মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ ব্যর্থতার বিষয়ে জবাবদিহিতা করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন হাইকোর্ট।

অর্থপাচার রোধ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তদারক-নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংকের আভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগে গত এক যুগে কোন কোন কর্মকর্তা দায়িত্বে ছিলেন, তাদের নাম, পদবি, ঠিকানাসহ বিস্তারিত জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট।

এই সময়ে (২০০৮ থেকে ২০২০ সাল) অর্থপাচার রোধে সংশ্লিষ্ট বিভাগের এসব কর্মকর্তার ব্যর্থতা আছে কিনা, ব্যর্থ হয়ে থাকলে কেন হলেন, অর্থপাচারের বিষয়টি তারা টের পেয়েছিলেন কিনা, পেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলেন কিনা, তাদের ইন্ধন বা যোগসাজশে অর্থপাচার হয়েছে কিনা, তাও জানাতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানাতে হবে।

পাশাপাশি, এ মামলায় পক্ষভুক্ত হতে পিপলস লিজিংয়ের সাময়িক অবসায়ক (প্রবেশনাল লিক্যুডেটর) মো. আসাদুজ্জামান খানের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।

এর আগে গত বছর ১৮ নভেম্বর একটি জাতীয় দৈনিকে ‘পিকে হালদারকে ধরতে ইন্টারপোলের সহায়তা চাইবে দুদক’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদন নজরে এলে সেটি আমলে নিয়ে গত ১৯ নভেম্বর স্বপ্রণোদিত রুল জারিসহ আদেশ দেন হাইকোর্ট।

একই সঙ্গে পিকে হালদারকে দেশে ফিরিয়ে আনা বা গ্রেফতারে কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, দুদক চেয়ারম্যানকে ১০ দিনের মধ্যে তা জানাতে বলা হয়।

এছাড়া পিকে হালদারকে দেশে ফিরিয়ে আনতে কিংবা গ্রেফতারে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে কিনা, সে ব্যাখ্যা জানাতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুলও জারি করেন আদালত। দুদক চেয়ারম্যান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব ও ঢাকা জেলা প্রশাসককে রুলের জবাব দিতে বলা হয়।

আদেশ অনুযায়ী, দুদক ২০২০ সালের ২ ডিসেম্বর এক প্রতিবেদন দাখিল করে। এরপর ওই ৯ ডিসেম্বর পিকে হালদারের আত্মীয় পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের সাবেক পরিচালক অমিতাভ অধিকারী ও পিকে হালদারের সাবেক সহকর্মী পিপলস লিজিংয়ের সাবেক চেয়ারম্যান উজ্জ্বল কুমার নন্দীকে মামলায় পক্ষভুক্ত করা হয়।

পাশাপাশি, ইন্টারপোলে পিকে হালদারের গ্রেফতারি পরোয়ানা এবং তার বিরুদ্ধে মামলার তদন্তের অগ্রগতি জানাতে বলে গত ৩ জানুয়ারি পরবর্তী আদেশের জন্য রাখে। ওই দিন শুনানি শুরু হলে দুদক আইনজীবী আদালতে পাঁচ আমানতকারীর কথা বলে অনুমতি চান। আদালত অনুমতি দিলে এক এক করে তারা নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন।

এরপর চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি পাঁচ আমানতকারীকে এ মামলায় পক্ষভুক্ত করে নেয়ার পাশাপাশি তাদের আবেদনে পিকে হালদারের মা লীলাবতী হালদার, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী এবং সাবেক সচিব ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের চেয়ারম্যান এন আই খানসহ ২৫ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন হাইকোর্ট। এর ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার অগ্রগতি জানায় দুদক।

আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, ‘বাংলাদেশের ব্যাংকের যেসব কর্মকর্তারা ২০০৮ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ পর্যন্ত অর্থপাচার রোধ সংক্রান্ত বিষয় ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে ছিলেন তাদের নাম, ঠিকানা, অবস্থান জানাতে বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।’

‘এছাড়া পিপলস লিজিংয়ের সাময়িক অবসায়ক (প্রবেশনাল লিকুইডেটর) হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক আসাদুজ্জামান খানের পক্ষভুক্তির আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।’

দুদক আদালতে কী প্রতিবেদন দিয়েছে- জানতে চাইলে খুরশীদ আলম বলেন, ‘পিকে হালদারের ৮৩ সহযোগীর নাম-পরিচয়সহ একটি প্রতিবেদন সারসংক্ষেপ আকারে আদালতে উপস্থাপন করেছি। এই ৮৩ জনের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। এ বিষয়ে দুদকের অনুসন্ধান চলছে। তাছাড়া, আর্থিক খাতের দুর্নীতি নিয়ে আরও ১০টি মামলার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।’

পিপলস লিজিং থেকে শতশত কোটি টাকা বেহাতের সঙ্গে জড়িত পিকে হালদার ও তার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন পাঁচ আমানতকারী। পিপলস লিজিংয়ে অর্থ আমানত রেখে এখন ফেরত না পেয়ে তারা দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন। সেই জীবনযাপনের বর্ণনা এফিডেভিট আকারে হাইকোর্টে জমা দিয়ে নির্দেশনা চান সাবেক প্রধান বিচারপতি মোস্তফা কামালের মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক নাশিদ কামালসহ পাঁচ আমানতকারী।

ওই আবেদনের ওপর শুনানি করেন দুদকের আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান, রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক ও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা পাওয়া উজ্জ্বল কুমার নন্দী এবং অমিতাভ অধিকারীর পক্ষে মো. মোশাররফ হোসেন ও হারুন-অর রশিদ। এরপরে এই আদেশ দেন হাইকোর্ট।

এফএইচ/বিএ/এসএস/এমকেএইচ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]