পোস্ট মাস্টারের দুর্নীতি : চার মাস জামিন চাইতে পারবেন না

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৩৬ পিএম, ২৪ জানুয়ারি ২০২১
ছবি : সংগৃহীত

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেফতার সাময়িক বরখাস্তকৃত চট্টগ্রাম জিপিও সঞ্চয় (সাধারণ হিসাব) সহকারী পোস্ট মাস্টার নূর মোহাম্মদের বিরুদ্ধে প্রায় ৩০ কোটি টাকা দুর্নীতির মামলায় তথ্য গোপন করায় আগামী চার মাস দেশের কোনো আদালতে জামিন চাইতে পারবেন না বলে আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

এ সংক্রান্ত বিষয়ে শুনানি নিয়ে তার জামিন প্রশ্নে জারি করা রুল খারিজ করে রোববার (২৪ জানুয়ারি) হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আদালতে আজ রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. সারওয়ার হোসেন বাপ্পী। তিনি জানান, চট্টগ্রাম জেনারেল পোস্ট অফিসের সহকারী পোস্ট মাস্টার নূর মোহাম্মদ আগামী চার মাস কোনো আদালতে জামিন চাইতে পারবেন না বলে আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই আদালত থেকে জামিন প্রশ্নে দ্বিতীয়বার রুল নেয়ার বিষয়টি নজরে আসার পর আদালত ওই আদেশ দেন।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. সারওয়ার হোসেন বাপ্পী বলেন, ডাক বিভাগের গ্রাহকদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে নূর মোহাম্মদ হাতেনাতে ধরা পড়েন। সে মামলায় হাইকোর্টে নূর মোহাম্মদের জামিন চেয়েছিলেন আইনজীবী ইফতাবুল কামাল। সে আবেদনের শুনানির পর ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর তার জামিন প্রশ্নে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।

গত ২১ জানুয়ারি এ রুলটি শুনানির জন্য দিন ঠিক ছিল। একইদিন নূর মোহাম্মদের আরেকটি জামিন আবেদন শুনানির জন্য কার্যতালিকায় আসে। সে আবেদনের আইনজীবী এ এস এম মোক্তার কবির খান। ওই আবেদনের শুনানির পর আদালত রুল জারি করেন।

একই বিষয়ে একটি রুল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় আরেকটি রুল জারির বিষয়টি নজরে আসার পর হাইকোর্ট এই আদেশ দেন। একটি রুল খারিজ এবং অপরটি প্রত্যাহার করে খারিজ করে দেন। একইসঙ্গে এই আসামি আগামী চার মাস বাংলাদেশের কোনো আদালতে জামিন চাইতে পারবেন না বলে আদেশ দিয়েছেন বলে জানান ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল।

গত বছরের ২৬ আগস্ট রাতে চট্টগ্রামের কোতোয়ালী থানার জিপিও কার্যালয়ে আকস্মিক অভিযান চালায় ডাক বিভাগের অভ্যন্তরীণ অডিট শাখার কর্মকর্তারা। ওই অভিযানে গ্রাহকের ৪৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চট্টগ্রাম জিপিও সঞ্চয় শাখার পোস্টমাস্টার-৬ নূর মোহাম্মদ ও একই শাখার কাউন্টার অপারেটর সরওয়ার আলম খানকে আটক করা হয়।

আটকের পর নূর মোহাম্মদের কাছ থেকে ২১ লাখ ৪৯ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে ওই রাতেই তাদের কোতয়ালী থানায় সোপর্দ করা হয়। পরবর্তীতে এ ঘটনায় ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর দুদকের সহকারী পরিচালক মো. শহীদুল ইসলাম মোড়ল ৪৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে মামলা করেন।

এফএইচ/এসজে/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]