ট্রেনে নারীদের আলাদা কামরা বরাদ্দের রিট তালিকা থেকে বাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:২৯ এএম, ২৬ জানুয়ারি ২০২১

নারীদের নিরাপদে রেল ভ্রমণের জন্য যাত্রীবাহী প্রতিটি ট্রেনে তাদের জন্য আলাদা করে নির্দিষ্ট কামরা বরাদ্দ রাখার নির্দেশনা চেয়ে করা রিট আবেদনটি আপাতত কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

হাইকোর্টের বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রিটটি তালিকা থেকে বাদ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী অনীক আর হক ও আইনজীবী আজমল হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস।

সোমবার (২৫ জানুয়ারি) বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করে আইনজীবী আজমল হোসেন বলেন, রোববার (২৪ জানুয়ারি) তালিকা থেকে বাদ দেন আদালত। এখন এই রিটের শুনানির জন্য আবার নতুন কোনো বেঞ্চে যাবো বলেও জানান ‍আইনজীবী।

শুনানিতে ব্যারিস্টার অনীক আর হক বলেন, আইনের ৬৪ ধারা অনুসারে নারীদের জন্য নির্ধারিত কামরা রাখা বাধ্যতামূলক। ১১৯ ধারা অনুসারে কোনো পুরুষ ওই কামরায় বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করলে জরিমানা আরোপের কথা রয়েছে। আদালত এ পর্যায়ে আইনজীবীর উদ্দেশ্যে বলেন, মক্কেলের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে সময় দিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন (রিপ্রেজেন্টেশন) দিয়ে আসতে পারেন। আপাতত রিটটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দেয়া হলো।

আইনজীবীর তথ্যমতে, ১৮৯০ সালের রেলওয়ে আইনের ৬৪ ধারা অনুসারে প্রতিটি ট্রেনে নারীদের জন্য নির্দিষ্ট কামরা থাকার কথা। ৫০ মাইলের বেশি ভ্রমণকারী ট্রেনের ক্ষেত্রে ওই কামরার সঙ্গে একটি শৌচাগার সংযুক্ত থাকবে বলা আছে। সেখানে বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করলে জরিমানা আরোপের কথা উল্লেখ আছে ১১৯ ধারায়। ওই দুই ধারার বাস্তবায়ন না হওয়ার প্রেক্ষাপটে ওই রিট করা হয়।

এর আগে গত ১৩ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মমতাজ পারভীন নারীদের নিরাপদে রেল ভ্রমণের জন্য ট্রেনে তাদের জন্য আলাদা কামরা বরাদ্দের বাস্তবায়ন চেয়ে রিট আবেদনটি করেন। জনস্বার্থে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি করা হয় বলে জানান সুপ্রিম কোর্টের অপর আইনজীবী মো. আজমল হোসেন খোকন।

রিটে, নারীরা যাতে নিরাপদে ভ্রমণ করতে পারেন, সেজন্য ট্রেনে তাদের জন্য আলাদা কামরা বরাদ্দের বাস্তবায়ন চেয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতি নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

জাগো নিউজকে আইনজীবী মো. আজমল হোসেন খোকন বলেন, ‘বাংলাদেশ রেলওয়ের আইন অনুযায়ী নারীদের জন্য আলাদা কামরা বরাদ্দ দেয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। তারপরও তাদের জন্য আলাদা কোনো কামরা বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে না। রাতে কোনো নারী একা ট্রেনে ভ্রমণ করতে চাইলে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। তাই নারীদের জন্য আলাদা কামরা বরাদ্দ দিলে দিনে কিংবা রাতে নারীরা তাদের কামরায় নির্দ্বিধায় উঠে তাদের আসনে বসতে পারবেন। এতে তাদের নিরাপত্তা নিয়ে ঝুঁকিও কমবে। এছাড়া ট্রেনে ভ্রমণের সময় যদি নামাজের সময় হয়, তখন তারা নিয়মিত সেখানে নামাজও আদায় করতে পারবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিটি ট্রেনে নারীদের জন্য পৃথক একটি কামরার কথা বলা থাকলেও সেটি কোনো ট্রেনে বাস্তবায়ন না হওয়ায় এর আগে নারীদের জন্য আলাদা কামরা বরাদ্দ চেয়ে ২০২০ সালে ১৩ অক্টোবর রেল মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি একটি (আইনি) লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। নোটিশে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশ রেলওয়ে আইন, ১৮৯০’ এর ৬৪ ধারায় নারীদের জন্য একটি কামরা বরাদ্দ রাখার বিধান থাকলেও এখন পর্যন্ত আইনটি বাস্তবায়ন হয়নি। এজন্য লিগ্যাল নোটিশটি পাঠানো হলো।’

নোটিশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছিল। অন্যথায় বিষয়টির প্রতিকার চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট করা হবে বলেও উল্লেখ করেছিলেন এই আইনজীবী। লিগ্যাল নোটিশের পরও কোনো ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় হাইকোর্টে প্রতিকার চেয়ে রিট আবেদনটি করা হয়েছে।

এফএইচ/এমএইচআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]