সিআইডির তদন্তে হস্তক্ষেপ করবে না হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৩০ পিএম, ২৭ জানুয়ারি ২০২১

মোস্তফা জগলুল ওয়াহিদের পাওয়ার অব অ্যাটর্নি জালিয়াতি করে দ্বিতীয় স্ত্রী আঞ্জু কাপুর সিটি ব্যাংকের গুলশান এভিনিউ শাখা থেকে টাকা উত্তোলনের ঘটনায় সিআইডির তদন্তের বিষয়ে কোনো হস্তক্ষেপ করবে না হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত বিষয়ে মৌখিক আর্জির শুনানি নিয়ে বুধবার (২৭ জানুয়ারি) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে এদিন রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক। তার সঙ্গে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মাহজাবিন রাব্বানী দীপা ও আন্না খানম কলি। অন্যদিকে আঞ্জু কাপুরের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মাসুদ আর সুবহান।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক সাংবাদিকদের বলেন, ‘হাইকোর্টে আজ প্রয়াত মোস্তফা জগলুল ওয়াহিদের দুই মেয়ে মুশফিকা ও মোবাশ্বেরের অভিযোগ অনুযায়ী গুলশান এভিনিউ শাখা থেকে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা উত্তোলনের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত। অভিযুক্ত আঞ্জু কাপুরকে এ বিষয়ে সিআইডি থেকে যেন জিজ্ঞাসাবাদ না করা হয় সেই মর্মে মৌখিক আবেদন করেন তার আইনজীবী। তখন আদালত বলেন, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি জালিয়াতি করে দ্বিতীয় স্ত্রী আঞ্জু কাপুর সিটি ব্যাংকের গুলশান এভিনিউ শাখা থেক টাকা উত্তোলনের ঘটনায় সিআইডির তদন্তে হাইকোর্ট কোনো হস্তক্ষেপ করবে না।’

এর আগে রাজধানীর গুলশানের বাসিন্দা প্রয়াত মোস্তফা জগলুল ওয়াহিদের দুই মেয়ের বাড়ির ঘটনায় তাদের আঞ্জু কাপুরের পাওয়ার অব অ্যাটর্নি জালিয়াতির অভিযোগে করা মামলার বিষয়ে পুলিশকে দ্রুত তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে সিটি ব্যাংকের গুলশান এভিনিউ শাখা থেকে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা উত্তোলনের বিষয়টিও গুলশান থানাকে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক বলেন, ‘রাজধানীর গুলশানের বাসিন্দা প্রয়াত মোস্তফা জগলুল ওয়াহিদের দুই মেয়ে মুশফিকা ও মোবাশ্বেরাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার ঘটনায় হাইকোর্ট স্বপ্রণোদিত হয়ে রাতে আদালত বসিয়ে আদেশ দিয়ে তাদের বাবার বাড়িতে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন। পরে পুলিশ তাদের বাড়িতে ওঠার ব্যবস্থা করেছিল।’

‘পরবর্তীতে আঞ্জু কাপুর আদালতে এফিডেভিট দিয়ে দাবি করেন যে, মোস্তফা জগলুল ওয়াহিদ তাকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দিয়েছিলেন। যেখানে দেখা যাচ্ছে ২০২০ সালের ১৫ আগস্ট অর্থাৎ জাতীয় শোক দিবস। ব্যাংক বন্ধের দিনে সিনিয়র কাস্টমার কেয়ার অফিসার স্বাক্ষরিত পাওয়ার অব অ্যাটর্নি তার হলফনামা আকারে জমা দিয়েছেন। আবার সিটি ব্যাংক গুলশান এভিনিওয়ে তারা একটা কমপ্লেইন দাখিল করেছেন, কিন্তু সেখানে ওই তারিখ ঘষামাজা করে তুলে ফেলা হয়েছে। আর এই পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দিয়ে তিনি (আঞ্জু কাপুর) এক কোটি ৪০ লাখ টাকা উঠিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘মোস্তফা জগলুল ওয়াহিদ মারা যান ২০২০ সালের ১০ অক্টোবর। এর পরের দিন ব্যাংক থেকে টাকা তোলা হয়। এটা স্পষ্ট একটা জালিয়াতি হয়েছে বলে মোস্তফা ওয়াহিদের বড় মেয়ে মুশফিকা গুলশান থানায় মামলা করেছেন। ওই মামলাটি দ্রুত তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সেটি আমি থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। এছাড়াও মোস্তফা ওয়াহিদের ডিভোর্সি স্ত্রী অর্থাৎ মুশফিকা ও মোবাশ্বেরার আপন মা (জন্মদাতা) ড. মোমতাজ আদালতে মামলার পক্ষভুক্ত হওয়ার আবেদন করেছেন।’

মামলার এজাহারে বাদী মুশফিকা মোস্তফা অভিযোগ করেন, ‘আমার বাবা ১০ অক্টোবর রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। বাবার মৃত্যুর আগে আঞ্জু কাপুর এক ভারতীয় নারীকে গৃহপরিচারিকা হিসেবে নিয়োগ দেন। বাবার মৃত্যুর পর ২০২০ সালের ১২ অক্টোবর সিটি ব্যাংকের গুলশান শাখায় গেলে ব্যাংক থেকে জানানো হয় গতকাল অর্থাৎ ১১ অক্টোবর আঞ্জু কাপুর ব্যাংকে এসে টাকা তুলে নিয়ে গেছেন। বাবার মৃত্যুর বিষয়টি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানেন না।’

বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ালে গত ৩ নভেম্বর হাইকোর্ট দুই বোন এবং তাদের বাবার দ্বিতীয় স্ত্রী আঞ্জু কাপুরের সম্পত্তি দাবির সপক্ষে কাগজপত্র হলফনামা আকারে দাখিল করতে নির্দেশ দেন। পাশাপাশি মোস্তফা জগলুল ওয়াহিদের সব ব্যাংক হিসাবের লেনদেন পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে বলে আদেশ দেন। একইসঙ্গে গুলশানের (২-এ/৯৫ নম্বর) ওই বাড়িতে থাকা জিনিসপত্র কোনও পক্ষ বাইরে নিতে পারবে না এবং দুই বোনের নিরাপত্তা অব্যাহত রাখতে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেয়া হয়।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে বাবার মৃত্যুর পর মালিকানা নিয়ে বিরোধে গুলশান ২-এ/৯৫ নম্বর সড়কের ৪ নম্বর বাড়ির সামনে অবস্থান নেন দুই বোন। তাদের দাবি, বাড়ির দখল বাবার দ্বিতীয় স্ত্রী আঞ্জু কাপুরের হাতে। তিনি কিছুতেই ওই বাড়িতে তাদের ঢুকতে দিচ্ছেন না। পরে এই দুই বোনের বাড়ির সামনে অবস্থান নিয়ে গণমাধ্যমে একাধিক সংবাদ আসার পরে হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের ভার্চুয়াল বেঞ্চ বাড়িতে প্রবেশ ও সেখানে তাদের অবস্থান নিশ্চিতে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশনা বাস্তবায়ন বিষয়ে ওই দিন রাতেই আদালতকে জানাতে বলা হয়। আদেশ বাস্তবায়ন করার পরে তিনি তা আদালতে জানান।

এফএইচ/ইএ/এএসএম/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]