জয় গোপাল সরকারের জামিন আবেদনের শুনানি ৮ ফেব্রুয়ারি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:৩৫ পিএম, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২১
ফাইল ছবি

ক্যাসিনোকাণ্ডসহ নানা অভিযোগে ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের সাবেক সেক্রেটারি জয় গোপাল সরকারের পৃথক ছয়টি মামলার জামিন চেয়ে করা আবেদনের ওপর দ্বিতীয় দিনের মতো শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ বিষয়ে আরও শুনানির জন্যে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী দিন ঠিক করেছেন হাইকোর্ট।

মঙ্গলবার (১ ফেব্রুয়ারি) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও মহি উদ্দিন শামীমের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চ এ দিন ধার্য করেন।

আদালতে আজ আসামি পক্ষে শুনানি করেন সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ও আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. কামরুল ইসলাম এবং তার সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট মুনমুন নাহার। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান ও শাহীন আহমেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মাহজাবিন রাব্বানী দীপা ও আন্নাখানম কলি।

এর আগে ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের সাবেক সেক্রেটারি জয় গোপাল সরকারের জামিন আবেদনের শুনানিতে ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের গঠনতন্ত্র, কমিটি ও অডিট রিপোর্ট চেয়েছিলেন হাইকোর্ট। এরই ধারাবাহিকতায় এসব নথিপত্র জমা দেন তার আইনজীবীরা।

নথিপত্রের তথ্য তুলে ধরে সাবেক খাদ্য মন্ত্রী ও আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. কামরুল ইসলাম আদালতে জানান ১৯৩০ সালে ওয়ান্ডারার্স ক্লাব প্রতিষ্ঠা হয়। সেখানে ফুটবল, ক্রিকেট, বলিবল, হ্যান্ডবলসহ বিভিন্ন খেলা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এই ক্লাবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ফুটবল খেলতেন। তিনি ফুটবল খেলতে গিয়ে একাই তিনটি গোল করেছিলেন। এ সময় ক্যাসিনো খেলা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন আদালত।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক বলেন, সোমবার কোর্টে ক্যাসিনোকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের সাবেক সেক্রেটারি জয় গোপাল সরকারের ছয় মামলার ছয়টি আবেদনের ওপর শুনানি হয়। শুনানিতে সোমবার (১ ফেব্রুয়ারি) আসামি পক্ষের আইনজীবীর কাছে ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের গঠনতন্ত্র, কমিটি ও অডিট রিপোর্ট চেয়েছিলেন। আদালতে এসব রিপোর্ট দাখিল করতে বলেছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় আসামিপক্ষের আইনজীবী সেটি আজ আদালতে দাখিল করেন। সেটির ওপর শুনানি নিয়ে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী শুনানির দিন ঠিক করেন।

জয় গোপাল ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের একজন ফুটবলার ছিলেন। অবসরে গিয়ে পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, পরে ক্যাশিয়ারের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৪ সালে ক্লাবটির সাধারণ সম্পাদক হন। তার হাত ধরেই গেন্ডারিয়ার আওয়ামী লীগ নেতা ক্যাসিনোকাণ্ডে জড়িত হওয়ার কথা জানায় সিআইডি।

গত বছরের ১৩ জানুয়ারি কেরানীগঞ্জের একটি ভবন থেকে এক সহযোগীসহ দুই ভাই এনু ও রুপনকে গ্রেফতার করে সিআইডি। এরপর গেন্ডারিয়া থানায় মানি লন্ডারিং আইনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

এনামুল হক এনু ও রুপন ভূঁইয়ার আদালতে দেয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে জয় গোপালের নাম উঠে এলে সিআইডি তাকে গত বছরের ১৩ জুলাই সোমবার লালবাগ থেকে গ্রেফতার করে। পরদিন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দেবব্রত বিশ্বাস তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এফএইচ/এসজে/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]