আঞ্জু কাপুরের টাকা উত্তোলনে তিন রকম তারিখ, ব্যাংকের ব্যাখ্যা তলব

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:৪৮ পিএম, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১
ফাইল ছবি

বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত পাইলট মোস্তফা জগলুল ওয়াহিদের পাওয়ার অব অ্যাটর্নি জালিয়াতি করে দ্বিতীয় স্ত্রী আঞ্জু কাপুর সিটি ব্যাংকের গুলশান এভিনিউ শাখা থেকে টাকা উত্তোলনের ঘটনায় সবগুলো তারিখ (তিন রকমের) সম্বলিত মূল নথি জমা দিতে সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্যে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি দিন ঠিক করা হয়েছে।

বুধবার (৩ ফেব্রুয়ারি) এ বিষয়ের শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে এদিন রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক। তার সঙ্গে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মাহজাবিন রাব্বানী দীপা ও আন্না খানম কলি। অন্যদিকে আঞ্জু কাপুরের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মাসুদ আর সুবহান।

মোস্তফা জগলুলের দুই মেয়ে মুশফেকা ও মুবাশ্বিরার পক্ষে ছিলেন মনজিল মোরসেদ। তাদের মা ড.মোমতাজের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। সিটি ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন মির্জা সুলতান আল রাজী। এদিন প্রয়াত মোস্তফা জগলুল ওয়াহিদের মেয়ে মুশফিকা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক সাংবাদিকদের বলেন, ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস সরকারি ছুটির দিনে আঞ্জু কাপুর কীভাবে ব্যাংকে উপস্থিত হয়ে জগলুলের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলেছেন তার ব্যাখ্যা দিতে সিটি ব্যাংক গুলশান শাখার ম্যানেজারকে নির্দেশ দিয়েছেন বলেছেন। এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি দিন ঠিক করেছেন।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, ‘প্রয়াত মোস্তফা জগলুল ওয়াহিদের দুই মেয়ে মুশফিকা ও মোবাশ্বেরের অভিযোগ অনুযায়ী ব্যাংক থেকে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা উত্তোলন এবং জালিয়াতির অভিযোগে করা মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

একেএম আমিন উদ্দিন মানিক বলেন, ‘মুশফিকা ও মোবাশ্বেরাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার ঘটনায় হাইকোর্ট স্বপ্রণোদিত হয়ে রাতে আদালত বসিয়ে আদেশ দিয়ে তাদের বাবার বাড়িতে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন। পরে পুলিশ তাদের বাড়িতে ওঠার ব্যবস্থা করেছিল।’

‘পরবর্তীতে আঞ্জু কাপুর আদালতে এফিডেভিট দিয়ে দাবি করেন যে, মোস্তফা জগলুল ওয়াহিদ তাকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দিয়েছিলেন। যেখানে দেখা যাচ্ছে ২০২০ সালের ১৫ আগস্ট অর্থাৎ জাতীয় শোক দিবস। ব্যাংক বন্ধের দিনে সিনিয়র কাস্টমার কেয়ার অফিসার স্বাক্ষরিত পাওয়ার অব অ্যাটর্নি তার হলফনামা আকারে জমা দিয়েছেন। আবার সিটি ব্যাংক গুলশান এভিনিউতে তারা একটা কমপ্লেইন দাখিল করেছেন, কিন্তু সেখানে ওই তারিখ ঘষামাজা করে তুলে ফেলা হয়েছে। আর এই পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দিয়ে তিনি (আঞ্জু কাপুর) এক কোটি ৪০ লাখ টাকা উঠিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘মোস্তফা জগলুল ওয়াহিদ মারা যান ২০২০ সালের ১০ অক্টোবর। এর পরের দিন ব্যাংক থেকে টাকা তোলা হয়। এটা স্পষ্ট একটা জালিয়াতি হয়েছে বলে মোস্তফা ওয়াহিদের বড় মেয়ে মুশফিকা গুলশান থানায় মামলা করেছেন। ওই মামলাটি দ্রুত তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সেটি আমি থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। এছাড়াও মোস্তফা ওয়াহিদের তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী মুশফিকা ও মোবাশ্বেরার জন্মদাত্রী মা ড. মোমতাজ আদালতে মামলার পক্ষভুক্ত হওয়ার আবেদন করেছেন।’

মামলার এজাহারে বাদী মুশফিকা মোস্তফা অভিযোগ করেন, ‘আমার বাবা ১০ অক্টোবর রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। এর আগে আঞ্জু কাপুর এক ভারতীয় নারীকে গৃহপরিচারিকা হিসেবে নিয়োগ দেন। বাবার মৃত্যুর পর ২০২০ সালের ১২ অক্টোবর সিটি ব্যাংকের গুলশান শাখায় গেলে ব্যাংক থেকে জানানো হয়, গতকাল অর্থাৎ ১১ অক্টোবর আঞ্জু কাপুর ব্যাংকে এসে টাকা তুলে নিয়ে গেছেন। বাবার মৃত্যুর বিষয়টি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানেন না।’

বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ালে গত ৩ নভেম্বর হাইকোর্ট দুই বোন এবং তাদের বাবার দ্বিতীয় স্ত্রী আঞ্জু কাপুরের সম্পত্তি দাবির সপক্ষে কাগজপত্র হলফনামা আকারে দাখিল করতে নির্দেশ দেন। পাশাপাশি মোস্তফা জগলুল ওয়াহিদের সব ব্যাংক হিসাবের লেনদেন পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে বলে আদেশ দেন। একইসঙ্গে গুলশানের (২-এ/৯৫ নম্বর) ওই বাড়িতে থাকা জিনিসপত্র কোনো পক্ষ বাইরে নিতে পারবে না এবং দুই বোনের নিরাপত্তা অব্যাহত রাখতে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেয়া হয়।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে বাবার মৃত্যুর পর মালিকানা নিয়ে বিরোধে গুলশান ২-এ/৯৫ নম্বর সড়কের ৪ নম্বর বাড়ির সামনে অবস্থান নেন দুই বোন। তাদের দাবি, বাড়ির দখল বাবার দ্বিতীয় স্ত্রী আঞ্জু কাপুরের হাতে। তিনি কিছুতেই ওই বাড়িতে তাদের ঢুকতে দিচ্ছেন না। পরে এই দুই বোনের বাড়ির সামনে অবস্থান নিয়ে গণমাধ্যমে একাধিক সংবাদ আসার পরে হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের ভার্চুয়াল বেঞ্চ বাড়িতে প্রবেশ ও সেখানে তাদের অবস্থান নিশ্চিতে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। গুলশান থানার ওসিকে নির্দেশনা বাস্তবায়ন বিষয়ে ওই দিন রাতেই আদালতকে জানাতে বলা হয়। আদেশ বাস্তবায়ন করার পরে তিনি তা আদালতে জানান।

এফএইচ/এসএস/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]