‘চোরাচালানের মাধ্যমে লাভবান হয়েছেন আপন জুয়েলার্সের মালিক’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:৩৩ এএম, ০৩ মার্চ ২০২১
ফাইল ছবি

চোরাচালান ও শুল্কফাঁকি সংক্রান্ত অপরাধ সংঘটনের মাধ্যমে আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে মুদ্রা প্রেরণ এবং চোরাচালানের মাধ্যমে শুল্কফাঁকি দিয়ে লাভবান হয়েছে আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার হোসেন সেলিম।

মানি লন্ডারিং আইনে করা মামলায় আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার হোসেন সেলিমের বিরুদ্ধে দাখিল করা চার্জশিটে এসব কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

চার্জশিটে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আসামি বৈধভাবে তার মেসার্স আপন জুয়েলার্স নামের প্রতিষ্ঠানে স্বর্ণ সংগ্রহ ও মজুদ করেননি৷ এমনকি বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক এমন পণ্য আমদানি করার জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে কোনো অনুমোদন দেয়া হয়নি বা অনুমোদনের জন্য প্রতিষ্ঠানটি আবেদনও করেনি।’

তিনি আরও বলেছেন, কাস্টমস আইন ১৯৯৯ এর ধারা- ১৮, ৭৮, ৮০ অনুযায়ী কাস্টমস বিভাগ কর্তৃক শুল্কায়নের মাধ্যমে দেশে আমদানি হয়নি। আটককৃত স্বর্ণ, স্বর্ণবার ও ডায়মন্ড, ডায়মন্ড অলংকার ইত্যাদি স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত মর্মে কোনো প্রমাণ প্রদর্শিত না হওয়ায় এটা প্রমাণিত হয় যে, দি কাস্টমস আইন ১৯৬৯ ধারা ২ (এস) এর দফা বি ও ডি অনুযায়ী চোরাচালানের মাধ্যমে অবৈধভাবে আহরিত। উক্ত চোরাচালানকৃত পণ্যমূল্যের বিনিময়ে বৈদেশিক মুদ্রা দেশে বিদ্যমান আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে বিদেশে পাচার করেছে৷

ফলে আসামি ‘দেশি ও বিদেশি মুদ্রাপাচার এবং চোরাচালান ও শুল্ক সংক্রান্ত অপরাধ সংঘটনের মাধ্যমে দেশের বিদ্যমান আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে মুদ্রা প্রেরণ ও চোরাচালানের মাধ্যমে শুল্কফাঁকি দিয়ে লাভবান হয়েছেন। ফলে আসামি ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হয়েছে যা অপরাধলব্ধ অর্থ হিসেবে গণ্য।

মঙ্গলবার (২ মার্চ) রমনা থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক এল কে চৌধুরী চার্জশিটের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘আগামী ৭ মার্চ মামলাটির শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।’

২০১৭ সালের ১২ আগস্ট দিলদার হোসেন সেলিমের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে পাঁচটি মামলা দায়ের করে শুল্ক গোয়েন্দা। চোরাচালানের মাধ্যমে আনা প্রায় ১৫ মণ স্বর্ণ ও হীরা জব্দের ঘটনায় এবং এসব মূল্যবান ধাতু কর নথিতে অপ্রদর্শিত ও গোপন রাখার দায়ে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

এর মধ্যে গুলশান থানায় দুটি, ধানমন্ডি থানায় একটি, উত্তরা থানায় একটি ও রমনা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

জেএ/এমএইচআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]