বেসিক ব্যাংকের ২১ মামলায় প্রতিবেদন দিতে সময় বেঁধে দিলেন হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:৫০ পিএম, ০৪ মার্চ ২০২১

দুই মাস ১৫ দিনের মধ্যে বেসিক ব্যাংকের চার হাজার কোটি টাকা ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় দায়ের হওয়া ২১ মামলার তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

নির্দেশনায় আদালত দুর্নীতি দমন কমিশন–দুদককে বলেছেন, আদেশ পাওয়ার দিন থেকে হিসাব করে ওই সময়ের মধ্যে ইকবাল হোসেন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ২১টি মামলার তদন্ত শেষ করে বিচারিক আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করতে হবে। দুদক যদি তা না পারে, তখন নিম্ন আদালতে ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া জামিন চেয়ে আবেদন করলে সেটি বিচারিক আদালতকে আবেদন বিবেচনা করতে বলেছেন হাইকোর্ট।

অর্থ আত্মসাৎ মামলায় সার্ভেয়ার (বেসিক ব্যাংকের এসডি সার্ভে ফার্মের ব্যবস্থাপনা অংশীদার) ইকবাল হোসেন ভূঁইয়ার জামিন প্রশ্নে জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে বৃহস্পতিবার (৪ মার্চ) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের ভার্চুয়াল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে এদিন শুনানিতে ছিলেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মাহজাবিন রাব্বানী দীপা ও আন্না খানম কলি। অন্যদিকে দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশিদ আলম খান, এ কে এম ফজলুল হক ও শাহীন আহমেদ। আবেদনকারী ইকবাল হোসেন ভূঁইয়ার পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মমতাজ পারভীন ও অ্যাডভোকেট স্নিগ্ধা সরকার।

আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘বেসিক ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় ১৯৬ কোটি টাকা আত্মসাতে ইকবাল হোসেন ভূঁইয়ার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। তার নামে এ সংক্রান্ত ২১টি মামলা রয়েছে। তিনি সার্ভে ফার্মের পরিচালক। তিনি একদিনের মধ্যে সম্পদের অতিমূল্যায়ন করে প্রতিবেদন দিয়েছিলেন, যে প্রতিবেদনের উপর নির্ভর করে বেসিক ব্যাংকের বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়।’

এদিকে আইনজীবী মমতাজ পারভীন সাংবাদিকদের বলেন, ‘ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৭ ধারার ৫ উপধারা অনুযায়ী যেকোনো মামলা ১২০ দিনের মধ্যে তদন্ত করে অভিযোগপত্র দিতে হয়। পরবর্তীতে দায়রা জজ আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে সে মেয়াদ আরও ৩০ দিন বাড়ানো যায়। এই মামলাগুলোর তদন্ত সাড়ে ৫ বছরের বেশি সময় ধরে চলছে। দুই হাজার দিনের বেশি হয়ে গেছে। তারপরও তদন্ত শেষ হচ্ছে না।’

‘দুদকের মামলার তদন্ত হয় সাধারণত টাকার উৎস ও গন্তব্যকে কেন্দ্র করে। এখন টাকার গন্তব্য নির্ণয় করতে গিয়ে যদি অনন্তকাল ধরে সেটি তদন্ত করতে থাকে, তাহলে তো আইন লঙ্ঘন করা হবে। যা এসব মামলার ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে করা হয়েছে। ১৫০ দিনের জায়গায় দুই হাজার দিনের বেশি সময় পার করে ফেলা হয়েছে। দুদকে যে মামলাগুলো হয়, সেগুলোর তো নথিভিত্তিক প্রমাণ থাকে। এখন নথি থাকার পরও যদি সাড়ে ৫ বছর লাগানো হয়, তার দায় তো আসামির না।’

এসব যুক্তি তুলে ধরেই জামিন চাওয়া হয়েছিল জানিয়ে এ আইনজীবী বলেন, ‘আদালত জামিন প্রশ্নে যে রুল জারি করেছিল, তা নিষ্পত্তি করে রায় দিয়েছে। বলেছে, আদেশ পাওয়ার আড়াই মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র দাখিল করতে হবে।’

২০১২ সালে জুন-জুলাই থেকে ২০১৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় ২০১৫ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মতিঝিল ও পল্টন থানায় মোট ২১টি মামলা করে দুদক। এসব মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে ৫০, ৬০ , ৭০ এবং ৮০ লাখ টাকার এমনকি ১৯৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

এর আগে ২০১৯ সালের ৪ মার্চ এসব মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইকবাল হোসেন ভূঁইয়াকে নোটিশ পাঠায় দর্নীতি দমণ কমিশন (দুদক)। সে নোটিসে হাজির না হয়ে ওই বছরের ৬ মে হাই কোর্ট থেকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন নেন তিনি।

আগাম জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ১৮ জুন নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে ২০১৯ সালের ১৪ জুলাই পর্যন্ত তার আগাম জামিন বহাল রাখে আদালত। পরে ১৪ জুলাই আদালতে গিয়ে ফের জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করেন ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া। কিন্তু আদালত জামিন বাতিল করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।

এরপর থেকে কারাগারেই আছেন ইকবাল। পরে বাকি ২০ মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। কারাগারে যাওয়ার পর গত বছর মার্চে হাই কোর্টে একটি মামলায় জামিন আবেদন করেন তিনি। তখন ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে হাই কোর্ট তাকে জামিন না দিয়ে তার জামিন প্রশ্নে রুল জারি করে।

পরে বাকি ২০ মামলায় বিভিন্ন সময় নিম্ন আদালতে জামিন চাইলে সেখানে তার জামিন আবেদন খারিজ হয়। সেসব খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে তিনি হাইকোর্টে আবেদন করলে আদালত তাকে একটি মামলায় জামিন দেয়। বাকি ২০ মামলায় জামিন প্রশ্নে রুল জারি করে। সে রুলের চূড়ান্ত শুনানির পর আজ নির্দেশনা দিয়ে রায় দিলেন হাইকোর্ট।

এফএইচ/এসএস/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]