বুড়িগঙ্গার ৭৪ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:৩৩ পিএম, ১৮ মার্চ ২০২১

বুড়িগঙ্গা নদীর আদি চ্যানেল হাজারীবাগ ও কামরাঙ্গীরচর এলাকায় নদীর জমি দখল করে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ৭৪টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

আগামী তিন মাসের মধ্যে উচ্ছেদ করতে বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান ও ঢাকা জেলা প্রশাসককে এ আদেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।

নদীর সিএস/আরএস জরিপ অনুসারে এই উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করতে বলা হয়েছে। এই উচ্ছেদ কার্যক্রমে সহযোগিতা করতে পুলিশের আইজি, র‌্যাব মহাপরিচালক এবং ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

তাদেরকে এ আদেশ বাস্তবায়ন করে আগামী ২৬ জুন হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিলেরও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বুড়িগঙ্গা নদী রক্ষায় পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) করা এক রিট মামলায় বৃহস্পতিবার (১৮ মার্চ) হাইকোর্টের বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে আজ রিট আবেদনকারী পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। পরিবেশ অধিদফতরের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আমাতুল করিম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অরবিন্দু রায়।

এর আগে এইচআরপিবির করা রিট মামলায় হাইকোর্ট ২০১১ সালে এক রায়ে বুড়িগঙ্গা নদীর তীর থেকে সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে ২০২০ সালের ১২ অক্টোবর পৃথক এক আদেশে বুড়িগঙ্গা নদীর আদি চ্যানেল (হাজারীবাগ ও কামরাঙ্গীরচর) এলাকায় নদীর জায়গা দখলকারীদের চিহ্নিত করার জন্য জরিপের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

একইসঙ্গে নদীর আদি চ্যানেলের সিএস/আরএস পর্চা অনুসারে জরিপ করে অবৈধ দখলকারীদের তালিকা দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়। এ নির্দেশনা অনুসারে নদীর জায়গা দখলকারীদের তালিকা হাইকোর্টে দাখিল করা হয়। এই তালিকা অনুযায়ী প্রায় ৭৪টি প্রতিষ্ঠান বুড়িগঙ্গা নদীর আদি চ্যানেলের জায়গা দখল করে রেখেছে।

দখল করে যেসব স্থাপনার গড়ে তোলা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে- টিনশেড বাড়ি, চারতলা ভবন, একতলা ভবন, মাটি ভরাট, মসজিদের আংশিক স্থাপনাসহ ব্যক্তি মালিকানাধীন বাড়ি, সরকারি হাসপাতাল, ইন্ডাস্ট্রি, সুপার মার্কেট প্রভৃতি। এ অবস্থায় এসব স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করে এইচআরপিবি।

নদীর অবৈধ দখল বন্ধ ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য এইচআরপিবির পক্ষ থেকে ২০০৯ সালে জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। ওই রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক ও বিচারপতি মো. মমতাজ উদ্দিন আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ নদীর সীমানা জরিপ ও দখলকারিদের উচ্ছেদসহ ৯ দফা নির্দেশনা দেন।

ওই রায় অনুসারে জরিপের সময় হাজারীবাগ ও কামরাঙ্গীরচর এলাকায় বুড়িগঙ্গা নদীর অংশ ‘‘আদি চ্যানেল’’ জরিপের বাইরে রাখা হয়। সেই জরিপ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, প্রায় ৭৪টি প্রতিষ্ঠান বুড়িগঙ্গা নদীর আদি চ্যানেলের জায়গা দখল করে রেখেছে এবং রায় অনুসারে তা উচ্ছেদ/অপসারণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তাই সেসব স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য নতুন করে হাইকোর্টে আবেদন দাখিল করে এইচআরপিবি।

এফএইচ/এআরএ/এমকেএইচ/ইএ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]