লকডাউন নিয়ে খবরে মতামত, দুই বিশেষজ্ঞকে লিগ্যাল নোটিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৪৮ পিএম, ০৮ এপ্রিল ২০২১

‘লকডাউন অকার্যকর হলে বিকল্প কী? সেনাবাহিনী ও কারফিউর কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা’, এমন খবরে মতামত দেয়ায় ‘গণমাধ্যমে ভুল, অবৈজ্ঞানিক ও বিভ্রান্তিকর তথ্য’ পরিবেশন করা হয়েছে দাবি করে এ জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করতে দুই বিশেষজ্ঞকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

যাদের বিরুদ্ধে নোটিশ পাঠানো হয়েছে তারা হলেন, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও ব্র্যাকের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা কর্মসূচির পরিচালক কাওসার আফসানা এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. মুশতাক হোসেন।

নোটিশ হাতে পাওয়ার তিন দিনের মধ্যে এ বিষয়ে পদক্ষেপ না নিলে এর প্রতিকার চেয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

দৈনিক আল ইহসান ও মাসিক আল বাইয়্যিনাত সম্পাদক মুহম্মদ মাহবুব আলমের পক্ষে বৃহস্পতিবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে ডাকযোগে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এবিএম গোলাম মোস্তফা তাজ নোটিশটি পাঠান। নোটিশ পাঠানোর বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন আইনজীবী নিজে।

নোটিশে বলা হয়েছে, সুস্পষ্ট বিবৃতি দিয়ে বিবিসিতে প্রকাশিত আপনাদের উল্লেখিত মতামতসমূহ প্রত্যাহার করুন এবং গণমাধ্যমে ভুল, অবৈজ্ঞানিক ও বিভ্রান্তিকর তথ্য পরিবেশনের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। ভবিষ্যতে এমন বিভ্রান্তিকর মন্তব্য আর করবেন না এমন প্রতিশ্রুতিও প্রদান করুন। তা না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয় হবে।

বুধবার (৭ এপ্রিল) বিবিসি বাংলায় এ বিষয়ে প্রকাশিত খবরের বরাত দিয়ে আইনজীবী এবিএম গোলাম মোস্তফা তাজ নোটিশের বিষয়ে বলেন, উনারা মতামত দেয়ার কারণে অহেতুক জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি হতে পারে। সাধারণ মানুষ ব্যাপক বিভ্রান্তির শিকার হতে পারেন। এ ধরনের ভুল, অতিরঞ্জিত ও অসমর্থিত তথ্য বা মতামত তারা গণমাধ্যমে দিয়ে দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছেন।

নোটিশে আরো বলা হয়, করোনা পরিস্থিতিতে গুজব কিংবা অতিরঞ্জিত তথ্য প্রকাশ না করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বার বার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ অবস্থায় আপনাদের মতামত দেশের পরিস্থিতিকে অহেতুক ঘোলাটে করতে পারে।

নোটিশে বলা হয়, বাংলাদেশে প্রচলিত ‘সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮’-এর ২৬ ধারা অনুযায়ী ‘সংক্রামক রোগ সম্পর্কে সঠিক তথ্য জ্ঞাত থাকা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বা ভুল তথ্য প্রদান’ করা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ।

নোটিশে আরও বলা হয়, দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে মূল্যায়ন বাস্তবতা বর্জিত, অবৈজ্ঞানিক ও বিভ্রান্তিকর। লকডাউন বা কারফিউ করোনার মৃত্যুহার থামাতে পারে, এমন মন্তব্যের কোনো প্রমাণিত বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। কারণ সারা বিশ্বে যেসব দেশে করোনায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে, (মিলিয়ন জনসংখ্যা মৃত্যুহার), তার প্রথম ১০টিতেই লকডাউন হয়েছে। অপরদিকে লকডাউন না হয়েও সুইডেন মৃত্যুহারে ২৫তম অবস্থানে আছে।

আবার অনেক দেশে লকডাউন তুলে নেয়ার পর আক্রান্তের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। এ ব্যাপারে গত বছরের ২২ মে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য সান পত্রিকায় বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়, রসায়নে নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী ও স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির প্রফেসর মাইকেল লেভিট বহু আগেই বলেছেন, করোনাভাইরাস মহামারি রোধে বিশ্বব্যাপী জারিকৃত লকডাউন ‘বিশাল ভুল’ ছিল। এতে সমাজের বড় ক্ষতির পাশাপাশি কোনো ধরনের হার্ড ইমিউনিটি প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

আনহার্ড ডটকমে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে প্রফেসর লেভিট মন্তব্য করেন, ‘চীন করোনার হুমকি কিভাবে মোকাবিলা করেছে তা যদি বিশ্ব ভালোভাবে খেয়াল করত, তবে সরকারগুলো ভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নিত। বিশেষ করে অর্থনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ করত না।’

তিনি বলেন, ‘যদি আবারও একই কাজ করতে হয়, সেক্ষেত্রে আমাদের অনুরোধ হবে মুখের মাস্ক, হাত জীবাণুমুক্তকরণ, এমন পরিশোধ ব্যবস্থা চালু যেখানে স্পর্শের দরকার হয় না এবং শুধু বয়স্কদের আইসোলেশনে রাখা।'

যে খবরের সূত্র ধরে এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে সেখানে বলা হয়, বাংলাদেশে চলমান লকডাউন কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়লেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে ‘কার্যকর’ লকডাউনের কোনো বিকল্প নেই এবং এটি কার্যকর করতে সরকার প্রয়োজনে সেনাবাহিনীর সহায়তা নিতে পারে এবং জারি করতে পারে রাত্রীকালীন কারফিউ।

ওই খবরে কাওসার আফসানা বলেন, ‘পুলিশ বা আর্মি যাদের দিয়ে অন্য দেশে কন্ট্রোল করা হয়েছে, আমাদের দেশেও তা করতে হবে। দুই সপ্তাহ কঠোর লকডাউন করেন। লকডাউন মানে সব বন্ধ থাকবে। একটু আস্থা দিতে হবে যে তুমি ঘরে থাকলে কি করবো। কিন্তু লকডাউনের কোনো বিকল্প নেই। যে কোন ধরনের জমায়েত বন্ধে কঠোরতার পাশাপাশি লকডাউনে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে তাদের সরাসরি সহায়তা নিশ্চিত করে আগ্রহী করতে হবে।’

সেখানে ড. মুশতাক হোসেন বলেন, কোভিড -১৯ সংক্রমণের গতি ঠেকাতে লকডাউনই বিশ্বজুড়ে স্বীকৃতি উপায়।

তিনি আরও বলেন, ‘ওপর থেকে ঘোষণা করলাম, বা আইন শৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে করলে হবে না। শুরুর দিকে যা করা হয়েছিলো তা এখন করলে হবে না। ব্যবস্থা এটাই যে যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ, বিভিন্ন জায়গায় সীমিত করণ ও কোন কোন জায়গা খুলে দেয়া। কিন্তু এটি কার্যকরে মনোযোগী হতে হবে।’

এফএইচ/এমএইচআর/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]