ডা. রুপম হত্যা : আসামি মিল্টনের জামিন আপিলে বহাল

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:২৩ পিএম, ২০ এপ্রিল ২০২১

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে দুই ক্লিনিকের বিরোধের জেরে ডা. মো. মনিরুল হুদা রুপম হত্যা মামলার আসামি মির্জাপুরের বাশতৈল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আতিকুর রহমান মিল্টনের হাইকোর্টের দেয়া জামিন বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এর ফলে তার কারামুক্তিতে বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

মিল্টনের জামিন বাতিল চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদন খারিজ করে মঙ্গলবার (২০ এপ্রিল) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ভার্চুয়াল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে আজ রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিত দেবনাথ। অন্যদিকে আসামি মিল্টনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মুনসুরুল হক চৌধুরী ও এসএম শাহজাহান।

জানা গেছে, গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার যমুনা ক্লিনিকের চিকিৎসক ছিলেন ডা. রুপম। তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। যমুনা ক্লিনিক ছেড়ে একই এলাকার আল মদিনা ক্লিনিকে যোগ দিলে তা নিয়ে বিরোধের জেরে তাকে ২০১২ সালের ১৭ জুলাই হত্যা করা হয়। হত্যার দুইদিন পর নিজের গাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় গাজীপুরের জয়দেবপুর থানায় মামলা করেন নিহত রুপমের পরিবার।

মামলায় যমুনা ক্লিনিকের মালিক ডা. আনিসুর রহমান চৌধুরী নোমানকে আসামি করা হয়। এ ঘটনায় তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ৪ মে ফাইনাল রিপোর্ট দেয় পুলিশ। এর বিরুদ্ধে বাদীপক্ষ নারাজির আবেদন দিলে আদালত তা গ্রহণ করে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেয়। এরপর প্রিন্স হক নামে এক মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভকে গ্রেফতার করে পুলিশ। প্রিন্স আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। এরপর নিহত রুপমের গাড়িচালক শিপন মিয়াসহ বেশ কয়েকজনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করে ডিবি পুলিশ।

তবে এর বিরুদ্ধেও বাদীপক্ষ নারাজির আবেদন দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় পিবিআই এবং সর্বশেষ সিআইডি এ মামলায় তদন্ত করে।

যমুনা ক্লিনিকের মালিক ডা. আনিসুর রহমান চৌধুরী নোমান, গাড়িচালক শিপন, মির্জাপুরের বাশতৈল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আতিকুর রহমান মিল্টনসহ বেশ কয়েকজনকে আসামি করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করে সিআইডি।

এরপর মিল্টন ২০২০ সালের ২৭ ডিসেম্বর গাজীপুর মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। আদালত তাকে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে তিনি হাইকোর্টে জামিন আবেদন করলে গত ৩ ফেব্রুয়ারি তার জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দেন হাইকোর্ট।

কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে এই জামিন আদেশ স্থগিত করে দেন আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত। এরই ধারাবাহিকতায় আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের ওপর শুনানি হয়। শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন খারিজ করে দেন।

এফএইচ/এআরএ/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]