আইনজীবীর সঙ্গে পুলিশের বাগবিতণ্ডা, ঢাকা বারের প্রতিবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:২২ পিএম, ২০ এপ্রিল ২০২১

চলমান লকডাউনে রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে চিকিৎসক, পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটের বাদানুবাদের ঘটনার পরের দিন সোমবার (১৯ এপ্রিল) ঢাকা বারের এক আইনজীবী নারগিস পারভীন মুক্তির সঙ্গে পুলিশের বাগবিতণ্ডা নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা আইনজীবী সমিতি।

মঙ্গলবার (২০ এপ্রিল) ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল বাতেন এবং সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার মোহাম্মদ হজরত আলী স্বাক্ষরিত প্রতিবাদ লিপি পাঠানো হয় গণমাধ্যমে। এতে তারা বলেন, আইনজীবীর আইডি কার্ড প্রদর্শনের পরেও পুলিশ তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছে। আইনজীবীরা ওই ঘটনার প্রতিবাদ জানায়।

সোমবার (১৯ এপ্রিল) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (সিএমএম) প্রবেশের সময় মূল ফটকের সামনে আইনজীবী নারগিস ও দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার মধ্যে এ বাগবিতণ্ডা হয়। ঘটনাটির ১ মিনিট ১৩ সেকেন্ডের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

এ ঘটনায় ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে প্রতিবাদলিপি দেয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়, গত ১৯ এপ্রিল ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক কার্যকরী পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট নারগিস পারভীন মুক্তি (সদস্য নং ১০২৮০) সিএমএম আদালতে প্রবেশের সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যকে পরিচয়পত্র দেখানো সত্ত্বেও তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়। ঢাকা আইনজীবী সমিতি উক্ত ঘটনার প্রতিবাদ জানাচ্ছে। ভবিষ্যতে যাতে আইনজীবীগণ এমন বিরূপ পরিস্থিতির সম্মুখীন না হন, এ ব্যাপারে সমিতির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সকল মহলের সহযোগিতা কামনা করছি।

ভিডিওতে দেখা যায়, ঢাকার সিএমএম আদালতের সামনের সড়কে পুলিশ-আইনজীবীর তর্ক-বিতর্কের ঘটনা ঘটে। এরপর আরেক আইনজীবী এসে বলেন, উনি এখানকার সিনিয়র আইনজীবী। আমাদের ভার্চুয়াল কোর্ট চলছে। এরপর একাধিক আইনজীবী এসে ঘটনার রেশ টানেন।

আইনজীবী নারগিস বলেন, আমাদের আদালত ভার্চুয়াল হলেও আদালতের পেপারস, ডকুমেন্টস শারীরিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে আদালতে জমা দিতে হয়। সে ক্ষেত্রে আমাদের আদালতে যেতে হয়। আমার প্রশ্ন, আইনজীবীদের আইডি কার্ড সঙ্গে থাকার পরেও পুলিশ কেন এত হয়রানি করবে?

এর আগে গত ১৮ এপ্রিল লকডাউনের পঞ্চম দিনে রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে মুভমেন্ট পাস নিয়ে বাগবিতণ্ডায় জড়ান চিকিৎসক, ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ কর্মকর্তা। ভিডিওতে দেখা যায়, দুপুরে এলিফ্যান্ট রোডের বাটা সিগন্যালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সাঈদা শওকত জেনি ভ্রাম্যমাণ আদালতের চেকে পড়েন।

সেখানে ঢাকা জেলা প্রশাসন অফিসের সহকারী কমিশনার শেখ মো. মামুনুর রশিদ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছিলেন। নিউমার্কেট থানার একজন পরিদর্শকের নেতৃত্বে একাধিক পুলিশ সদস্য সেখানে দায়িত্বরত ছিলেন। চেকপোস্টে পুলিশ সদস্যরা চিকিৎসকের কাছে তার আইডি কার্ড দেখতে চান। সঙ্গে আইডি কার্ড আনেননি বলে জানান ওই চিকিৎসক। এরপর তার কাছে মুভমেন্ট পাস দেখতে চাওয়া হয়। জেনি জানতে চান, ডাক্তারের মুভমেন্ট পাস লাগে?

এরপর জেনি তার গাড়িতে বিএসএমএমইউ স্টিকার ও হাসপাতাল থেকে পাওয়া তার লিখিত পাস দেখান। এরপরও পুলিশ তার কাছে আইডি কার্ড দেখতে চান। পরে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডার হয়। পরে এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

পরে ওই ঘটনায় গত ১৯ এপ্রিল বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন নিজ মন্ত্রণালয়ের বৈধ আদেশ লঙ্ঘন এবং ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়ে বিবৃতি দেয়। বিবৃতিতে সই করেন অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ও ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম এবং অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম।

অন্যদিকে চিকিৎসকদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে লেখা এক চিঠিতে এলিফ্যান্ট রোডে চিকিৎসককে হেনস্তায় জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে বিভাগীয় শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।

ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেয়ারও অনুরোধ জানায় সংগঠনটি। বিএমএ সভাপতি মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন এবং মহাসচিব মো. ইহতেশামুল হক চৌধুরী ওই চিঠিতে সই করেন।

এফএইচ/জেএ/এআরএ/এমকেএইচ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]