সভাপতি পদ নিয়ে হট্টগোল : আইনজীবীদের পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৪৫ পিএম, ০৫ মে ২০২১ | আপডেট: ০৯:৪৯ পিএম, ০৫ মে ২০২১
আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের সংবাদ সম্মেলন

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নির্বাচনের সময় হট্টগোলের ঘটনায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীরা পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

বুধবার (৫ মে) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলন হয়।

এদিন দুপুরে বিএনপি সমর্থিত আইনজীবী ও সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলের নেতৃত্বে প্রথম সংবাদ সম্মেলন হয়। সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচিত ১৪ জন কার্যনির্বাহী কমিটির ছয়জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

এরপর একই বিষয়ে আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীদের মধ্যে বারের কার্যনির্বাহী কমিটিতে নির্বাচিত অপর সাত সদস্য পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেন।

এ সময় ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ‘শূন্যপদে কে সভাপতি হবেন সে জন্য গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে শুরুর আগেই বিশেষ সাধারণ সভা স্থগিত করেন সম্পাদক। কোনো ধরনের আলোচনা কিংবা সেখানে সভাপতি পদে নির্বাচন হয়নি। এছাড়া বিশেষ সাধারণ সভা আহ্বান করা হয়েছিল সভাপতি পদ পূরণে করণীয় নির্ধারণের জন্য, নির্বাচনের জন্য নয়। এ ঘটনা প্রমাণ করে ভোটবিহীন ক্ষমতা দখলের যে চর্চা বর্তমান রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাসীনরা চালু করেছে গতকালের এ ঘটনা তারই ধারাবাহিকতা। এটা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিতে একটি কলঙ্কজনক অধ্যায় রচিত হলো। যেটি সর্বোচ্চ আদালতের আইনজীবী হিসেবে কখনই আমাদের কাম্য ছিল না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই প্রেক্ষিতে সমিতির সহ-সভাপতি মুহাম্মদ শফিক উল্লাহ যে ঘোষণা দিয়েছেন এটি সমিতির গঠনতন্ত্র বিরোধী। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সদস্যগণ আমাদেরকে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করেছেন। নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে অনির্বাচিত কোনো ব্যক্তির সঙ্গে আমরা কাজ করি কিংবা সমিতি পরিচালনায় সম্পৃক্ত হই এমনটি কেউ প্রত্যাশা করে না। এ পরিস্থিতিতে আমরা মনে করি, ভোটারদের ভোটের প্রতি সম্মান জানিয়ে আমরা আমাদের সিনিয়র আইনজীবী, সাবেক সভাপতি ও সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করব। আমরা সিনিয়রদেরকে অনুরোধ করব এই অচলাবস্থা নিরসনের জন্য তারাও এগিয়ে আসবেন। তারা সকলে গণতান্ত্রিক চর্চার মাধ্যমে আমাদের সভাপতির পদ পূরণসহ সমিতির কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে সহায়তা করবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন ব্যারিস্টার কাজল।’

jagonews24

বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের সংবাদ সম্মেলন

অন্যদিকে, পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সহ-সভাপতি মুহাম্মদ শফিক উল্লাহ বলেন, ‘গতকালের সাধারণ সভায় আমার সভাপতিত্ব করার সিদ্ধান্ত আগেই গৃহীত হয়েছিল। তার রেকর্ড আমাদের কাছে সংরক্ষিত আছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় এই যে, বিশেষ সাধারণ সভা পরিচালনার সময় সম্পাদক সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান না দেখিয়ে অগণতান্ত্রিক আচরণ করতে থাকেন। কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে বিশেষ সাধারণ সভাকে অবহিত করেন এবং মো. জালাল উদ্দিনকে সভাপতি করার অপচেষ্টা করছিলেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘তখন কার্যকরী কমিটি এ এম আমিন উদ্দিনকে সভাপতি হিসেবে হাউজে প্রস্তাব করার জন্য কোষাধ্যক্ষ ড. ইকবাল করিম প্রস্তাব করেন এবং সহ-সম্পাদক সাফাত সুলতানা রুমি সমর্থন করেন। সহ-সভাপতি মুহাম্মদ শফিক উল্লাহ, সদস্য মাহফুজুর রহমান, এবিএম শিবলী সাদেকীন, মিন্টু কুমার মণ্ডল এবং মুনতাসির উদ্দিন আহমেদ হাত তুলে সমর্থন করলেও সম্পাদক রেজুলেশনে তা অন্তর্ভুক্ত না করে দ্রুত সভাকক্ষ ত্যাগ করেন।’

‘আমরা গঠনতন্ত্রের ২১, ১২ এবং ১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিশেষ সাধারণ সভায় এবং হাউজে সভাপতির নাম প্রস্তাব করেছি এবং তা সর্ব সম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে। তাছাড়া অন্য কোনো পক্ষ সভাপতি হিসেবে অন্য কোনো নাম প্রস্তাব করেনি এবং সমর্থন করেনি।’

এমতাবস্থায় গণতান্ত্রিকভাবে এবং সর্বসম্মতিক্রমে এ এম আমিন উদ্দিন (অ্যাটর্নি জেনারেল) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বলে জানান শফিক উল্লাহ।

এর আগে, গত ১২ মার্চ অনানুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুসারে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (বার) কার্যনির্বাহী কমিটির (২০২১-২০২২ সেশনের) নির্বাচনে সভাপতি পদে সাবেক আইনমন্ত্রী ও সিনিয়র অ্যাডভোকেট প্রয়াত আবদুল মতিন খসরু এবং সম্পাদক পদে ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল পুনরায় নির্বাচিত হন।

আবদুল মতিন খসরু আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাদা প্যানেল থেকে এবং রুহুল কুদ্দুস কাজল বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত নীল প্যানেল থেকে নির্বাচিত হন। এছাড়াও সবকটি পদে মিলিয়ে এবার নীল প্যানেল ৬টি পদে (সম্পাদক, একজন সহ-সভাপতি, একটি সহ-সম্পাদক ও তিনজন সদস্য) এবং সাদা প্যানেল ৮টি পদে (সভাপতি, একজন সহ-সভাপতি, একজন সহ-সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষ এবং ৪ জন সদস্য) জয় পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। কিন্তু মতিন খসরুর মৃত্যুতে সভাপতির আসনটি শূন্য হয়ে পড়ে।

মতিন খসরু মারা যাওয়ার পরে সভাপতির শূন্য পদের নির্বাচনী প্রক্রিয়া কি হবে, কবে কিভাবে নির্বাচন হবে সে বিষয়ে ৪ মে বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বারের সভাপতি হিসেবে দুই বারের সাবেক সভাপতি ও অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিনের নাম ঘোষণা করেন আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরা। আর বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা এর বিরোধিতা করেন, তা নিয়ে শুরু হয় হট্টগোল হয়।

এফএইচ/জেডএইচ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]