সোহরাওয়ার্দীর গাছ কেটে কী বানানো হবে, জানতে চান ব্যারিস্টার সুমন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:০২ পিএম, ০৬ মে ২০২১

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গাছ কাটা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। বৃহস্পতিবার (৬ মে) উদ্যানের ভেতরে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লাইভে এসে গাছ কেটে সেখানে কী তৈরি করা হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ‘গাছ যখন লাগানো হয় একটা সময় গাছ কাটতে হয়। এটা হচ্ছে নিয়ম। গাছ কাটলে কিন্তু বেশিরভাগ মানুষের ব্যবসা হয়, ইনকাম হয়। কিন্তু কোন জায়গায় গাছ কাটবেন? কোন জায়গার গাছ কাটলে ব্যবসা হয় সেটাও কিন্তু দেখার বিষয়।’

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দাঁড়িয়ে লাল ক্রস চিহ্ন দেয়া গাছগুলো দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘কুরবানির পশু যেভাবে জবাই হয়, এই গাছগুলো কাটা হবে অল্পদিনের মধ্যে। এখানে বড় বড় বিল্ডিং স্ট্রাকচার হবে। এটা কোন জায়গাটা এটাও আপনাদের দেখার বিষয়। এটা হচ্ছে রেসকোর্স ময়দান, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। মানে হচ্ছে, আমাদের বঙ্গবন্ধু যেখানে ৭ মার্চের ভাষণ দিয়েছিলেন। এখন এই উন্নয়নের দায়িত্ব নিয়েছেন হলো মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় উন্নয়নের নামে শতবর্ষী গাছ কেটে, এগুলো রাতের আঁধারে কেটে রাখা হয় এবং যে জায়গায় কেটে রাখা হয় আপনারা দেখবেন মনের মধ্যে একটা চোর চোর ভাব আছে। গাছ দিয়ে লুকিয়ে যাতে কেউ যেন না দেখে।’

ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ‘গাছ কাটলে যে চিৎকার-চেঁচামেচি এটা না, পরিবেশের জন্য যদি কখনও কখনও ভয়ানক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, গাছ কাটতে হয়। কিন্তু সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গাছ কেটে এই ধরনের উন্নয়ন আসলে মেনে নেয়ার মতো না।

তিনি আরও বলেন, ‘পৃথিবীতে যেখানে একটা গাছে রেখে দেয়ার জন্য একটা বাড়ি রিফাইন করা হয়; গাছটা রেখে যেন বাড়িটা বানানো হয়। এখানে উত্থান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, চিন্তা করতে পারেন যে...কথায় কথায় খালি চেতনা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আর বঙ্গবন্ধুর এসব কথা বলে বলে, যারা বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসে তাদের মনেও। কারণ প্রকৃতিকে ভালবাসে সবাই। আর মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় সেই মন্ত্রণালয় যারা বঙ্গবন্ধুর নামে একটা বুক কর্ণার বানাবে, এজন্য ২০ কোটি টাকা আরেক দুই নম্বর লোককে দিয়ে এই টাকা ছাড় নেয়ার ধান্দায় আছে। এটা হাইকোর্টে আমি নিজে বাদী হয়ে করা রিট আবেদন পেন্ডিং অবস্থায় আছে।’

ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ‘বাংলাদেশে এই যে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা যাদেরকে বলা হয়, এর বেশিরভাগ... এরা যখন পুরো সৌরাওয়ার্দী উদ্যানের দায়িত্ব নিয়েছে। আপনারাই বোঝেন যে, কী পরিমাণ দায়িত্ব এদের। কী পরিমাণ কাজ করবে। আমি বলে যাচ্ছি, বঙ্গবন্ধুর বাড়ির ছাদের উপর একটা ফুটকোর্ড বানিয়ে দেন, এখানে ভালো ব্যবসা হবে। এরা ব্যবসা ছাড়া কিছু বোঝে না। এই মন্ত্রণালয় কিন্তু গাছগুলো লাগায়নি, এইসব গাছগুলোর বেশিরভাগই হলো বঙ্গবন্ধুর আমলের লাগানো।’

তিনি বলেন, ‘এই গাছ কেটে এরা কী প্রমাণ করতে চাচ্ছে আমি জানি না। আমরা যতই বলি এরা শুনবে না। কারণ বিজনেস সিন্ডিকেট, এতো বড়ো সিন্ডিকেট এটা ভাঙা অনেক কঠিন। বিজনেসের কারণে এখন কিছুই বলা যাচ্ছে না। আর করোনার এ সময়টাতে আমরা অক্সিজেন কিনে নেই। ইন্ডিয়াজুড়ে অক্সিজেন পাওয়া যাচ্ছে না। এই গাছগুলো থাকলে অন্তত কিছুটা হলেও অক্সিজেন পাওয়া যেত। এই শাহবাগের মতো জায়গায় অর্ধেক তো ভেঙে গেছে মেট্রোরেলের কারণে। উন্নয়নের কারণে মনে করলাম, মেট্রোরেল গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এখানে এই দেখুন রেস্টুরেন্ট বানিয়ে শতবর্ষী গাছগুলো কেটে আপনারা কী বানাতে চাচ্ছেন?’

ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ‘সবকিছুর একটা লিমিট আছে। আর বঙ্গবন্ধুকে আর এইভাবে নষ্ট করার চেষ্টা কইরেন না। আপনারা যারা বঙ্গবন্ধুর নামে এসব করছেন, আমি আপনাদেরকে বললাম, বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে জীবনেও এই সোহরাওয়ার্দীর গাছ কাটতে দিতেন না।’

এফএইচ/এমএসএইচ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]