জাল টাকা তৈরি : ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারসহ তিনজন কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৫৫ পিএম, ০৬ মে ২০২১

৪৬ লাখ জাল টাকা উদ্ধারের ঘটনায় দুই ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারসহ তিনজনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

কারাগারে যাওয়া আসামিরা হলেন- জীবন হোসেন, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ ইমাম হোসেন ও পিয়াস করিম।

বৃহস্পতিবার (৬ মে) তাদের ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ। এ সময় মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন পুলিশ। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর হাকিম মোর্শেদ আল মামুন ভূঁইয়া তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

গত সোমবার (৩ মে) তাদের ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ। এ সময় কামরাঙ্গীরচর থানায় করা মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য সাতদিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম রাজেশ চৌধুরী তাদের প্রত্যেকের দুইদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে রোববার (২ মে) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের নোয়াগাঁও এলাকার একটি ছয়তলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় জাল টাকা তৈরির মিনি কারখানার সন্ধান পায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গুলশানের গোয়েন্দা বিভাগ।

সেখান থেকে ওই তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় দুইটি ল্যাপটপ, দুইটি প্রিন্টার, হিট মেশিন, বিভিন্ন ধরনের স্ক্রিন, ডাইস, জাল টাকার নিরাপত্তা সূতা, বিভিন্ন ধরনের কালি, আঠা এবং স্কেল কাটারসহ আরও অনেক সামগ্রী। যা দিয়ে আরও কম করে হলেও দেড় কোটি জাল টাকা তৈরি করা সম্ভব ছিল।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে আসামি পিয়াস ও ইমাম হোসেন বরিশাল পলিটেকনিক্যাল থেকে নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ারিং ও কম্পিউটার সায়েন্স বিষয়ে ডিপ্লোমা ডিগ্রি অর্জন করে। এর আগে তারা গ্রামীনফোনে নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করতেন। বেশি টাকা প্রাপ্তির লোভে তারা বৈধ চাকরি ছেড়ে জাল টাকা তৈরির অবৈধ কাজে জড়িয়ে পড়ে।

আসন্ন ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহাকে লক্ষ্য করে জাল টাকা তৈরি করার বড় ধরনের পরিকল্পনা ছিল তাদের। চক্রটি প্রথমদিকে সাভারের গেন্ডা এলাকায় জাল টাকা তৈরি করত। ঈদকে কেন্দ্র করে গত তিনমাস ধরে তারা কামরাঙ্গীরচরে জাল টাকা তৈরির ব্যবসা শুরু করে।

চক্রটির দলনেতা জীবন। এর আগেও জাল টাকা তৈরির সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে তার একাধিকবার জেল হয়েছে। জেল থেকে বেরিয়ে আবার জাল টাকা বানানোর কাজ শুরু করে। জীবনকে বেশ কিছুদিন ধরে পুলিশ অনুসরণ করছিল। অবশেষে তিনি ধরা পড়েন। এ ঘটনায় রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর থানায় আসামিদের বিরুদ্ধে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হয়।

জেএ/এএএইচ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]