বেদের ছদ্মবেশে ইয়াবা পাচার : রিমান্ডে পাঁচজন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:২৭ পিএম, ০৬ মে ২০২১ | আপডেট: ০৬:৫০ পিএম, ০৬ মে ২০২১

বেদের ছদ্মবেশে ৭৭ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার পাঁচজনের দুইদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৬ মে) ঢাকা মহানগর হাকিম দেবদাস চন্দ্র অধিকারী তাদের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আসামিরা হলেন-মো. তারিকুল ইসলাম (২৩), মো. সিনবাদ (২৩), মো. মিম মিয়া (২২), মো. ইমন (১৯) ও মো. মনির (২৮)।

আজ তাদের ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে প্রত্যেকের পাঁচদিন করে রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। পরে আদালত তাদের দুইদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে গত মঙ্গলবার রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বসিলা ব্রিজ এলাকা থেকে র‌্যাব-২ এর একটি দল তাদের গ্রেফতার করে। এসময় তাদের কাছ থেকে ছদ্মবেশ ধারণের সরঞ্জাম, রান্নার হাঁড়ি-পাতিল, বালতি, বহনযোগ্য ডিসপ্লে র‌্যাক এবং নানা ধরনের ইমিটেশন গহনা, কড়ি, তাবিজসহ বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় মাদকদ্রব্য আইনে একটি মামলা করা হয়। মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতার আসামিদের পূর্বপুরুষরা ছিলেন বেদে। বাপ-দাদারা বেদে জীবন থেকে চলে আসেন অন্যান্য পেশায়। ইয়াবা ব্যবসায়ীদের খপ্পরে পড়ে লাভের আশায় ফের ভাসমান বেদের পরিচয় কাজে লাগান তারা। বেদের ছদ্মবেশ নিয়ে ইয়াবার কারবার শুরু করেন পাঁচ তরুণ।

গ্রেফতাররা পারস্পরিক যোগসাজশে নিয়মিত কক্সবাজারের সীমান্ত এলাকা ও সমুদ্রপথে বাংলাদেশে আসা ইয়াবা রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করে আসছিলেন। তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে অভিনব কায়দা হিসেবে বেদের ছদ্মবেশ ধারণ করে মাদক বহন করে নিয়ে আসতেন। মাদক পরিবহনের জন্য টিনের তৈরি সহজে বহনযোগ্য রান্নার চুলার মধ্যে বিশেষ কায়দায় ইয়াবা লুকিয়ে তা আবার ঝালাই করে জোড়া লাগিয়ে দিতেন।

তারা মাদকের চালান কক্সবাজার এলাকা থেকে রাজধানী ঢাকায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে কখনই মহাসড়ক ব্যবহার করতেন না। কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত আসার ক্ষেত্রে তারা মহাসড়ক ব্যবহার না করে বিকল্প হিসেবে গ্রামের ভেতরের রাস্তা দিয়ে বিভিন্ন ইজিবাইক, সিএনজি, টেম্পো  ব্যবহার করে পথ পাড়ি দিতেন। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা আসার ক্ষেত্রে তারা চট্টগ্রাম সিটি গেটসহ বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চেকপোস্ট এড়ানোর চেষ্টা করতেন। প্রথম ধাপে চট্টগ্রামের আনোয়ারা থেকে হাটহাজারী-মানিকছড়ি-গুইমারা-রামগড় হয়ে ফেনী আসতো। সেখান থেকে তারা নোয়াখালীর চৌমুহনী, সোনাইমুড়ি এবং চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ হয়ে মতলব লঞ্চঘাট পর্যন্ত আসতো। দ্বিতীয় ধাপে তারা সেখান থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় মুন্সিগঞ্জ হয়ে বুড়িগঙ্গা নদী দিয়ে ঢাকার প্রবেশ করতো। এতে তাদের চার-পাঁচদিন অথবা কোনও কোনও সময় এক সপ্তাহ পর্যন্ত লেগে যেত। এই দীর্ঘ সময় তারা বেদের মতোই জীবনযাপন করতো। সাধারণ মানুষের সন্দেহ দূর করতে পথের মাঝে বিভিন্ন মনোহারি পণ্য বিক্রি করতো।

জেএ/ইএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]