এমপিও প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার বিভাগে প্রার্থী নিয়োগাদেশ এনটিআরসিএতে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৫১ পিএম, ০৯ মে ২০২১

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত নিবন্ধনধারী কম্পিউটার শিক্ষকদের এনটিআরসিএর তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তিতে বিভাগীয় প্রার্থী হিসেবে আবেদনের সুযোগ দিতে হাইকোর্টের লিখিত আদেশ প্রকাশ হয়েছে। পরে ওই আদেশের অনুলিপিটি এনটিআরসিএতে পাঠানো হয়েছে।

রোববার (৯ মে) রিটকারীদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, কম্পিউটার শিক্ষকদের এনটিআরসিএর তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তিতে বিভাগীয় প্রার্থী হিসেবে আবেদনের সুযোগ দিতে হাইকোর্টের লিখিত আদেশ প্রকাশ হয়েছে। আজ লিখিত আদেশটি এনটিআরসিএর প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে গত ২ মে এনটিআরসিএর তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী বিভাগীয় প্রার্থী হিসেবে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত নিবন্ধনধারী তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বা কম্পিউটার বিষয়ের শিক্ষকদের আগামী ১০ দিনের মধ্যে আবেদনের সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। ওই আদেশের লিখিত অনুলিপি প্রকাশের পর সেটি আজ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হলো।

এই আদেশের ফলে এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বা কম্পিউটার বিষয়ে এমপিওভুক্ত নিবন্ধনধারী শিক্ষকদের এনটিআরসিএ প্রকাশিত তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তিতে বিভাগীয় প্রার্থী হিসেবে আবেদনের ক্ষেত্রে আর বাধা রইল না।

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত কম্পিউটার বিষয়ে নিবন্ধনধারী শিক্ষকদের এনটিআরসিএ’র অধীনে গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী বিভাগীয় প্রার্থী হিসেবে আবেদনের সুযোগ না দেয়া কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। একইসঙ্গে কেন তাদের বিভাগীয় প্রার্থী হিসেবে আবেদনের সুযোগ দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হবে না এই মর্মেও রুল জারি করেছিলেন আদালত।

রিটে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগ এবং কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব, এনটিআরসিএর চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছিল।

দেশের বিভিন্ন এলাকার ৬৩ জন কম্পিউটার বিষয়ের শিক্ষকের দায়ের করা রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ২ মে হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে ওই দিন রিটকারীদের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া, অপর দিকে রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অরবিন্দু কুমার রায়।

রিটকারীদের আইনজীবী মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া বলেন, গত ৩০ মার্চ এনটিআরসিএ এমপিওভুক্ত ও নন-এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোট ৫৪ হাজার ৩০৪ জন শিক্ষক নিয়োগের জন্য তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। ওই গণবিজ্ঞপ্তিতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি/কম্পিউটার বিষয়ে সারাদেশে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় সাত হাজার শূন্য পদ দেখানো হয়।

উল্লেখ যে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২১, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (মাদরাসা) জনবলকাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮, ও বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জনবলকাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮ অনুসারে ইনডেক্সধারী শিক্ষক-কর্মচারী সমপদ/সম স্কেলে প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এ নীতিমালার পরিশিষ্ট ‘ঘ’ তে বর্ণিত শিক্ষাগত যোগ্যতা (শ্রেণি/বিভাগ) প্রযোজ্য হবে না; সেক্ষেত্রে তাদের প্রথম নিয়োগকালীন শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রযোজ্য হবে। তবে এ নীতিমালা জারির তারিখ থেকে নতুনভাবে উচ্চতর পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে পরিশিষ্ট ‘ঘ’ তে বর্ণিত ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

নীতিমালার উক্ত শর্ত অনুযায়ী বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত কম্পিউটার বিষয়ের সনদধারী শিক্ষকদের বিভাগীয় প্রার্থী হিসেবে আবেদন করার সুযোগ থাকলেও এনটিআরসিএর অনলাইন আবেদনের অপশনে সে সুযোগ রাখা হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে সারাদেশের ৬৩ জন শিক্ষক এই রিট পিটিশনটি দায়ের করেন। সেটি শুনানি নিয়ে ওইদিন রুল জারিসহ আদেশ দেন আদালত।

আইনজীবী মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া আরও বলেন, হাইকোর্টের এই আদেশের ফলে এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি/কম্পিউটার বিষয়ে এমপিওভুক্ত নিবন্ধনধারী শিক্ষকদের এনটিআরসিএ কর্তৃক প্রকাশিত তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তিতে বিভাগীয়প্রার্থী হিসেবে আবেদনের আর বাধা রইল না।

রিটকারীরা হলেন- বিভিন্ন জেলার ওসমান গনি, সুদেব চন্দ্র পাল, গিতা, মোছা. রেখা খাতুন, মোছা. রিক্তা খাতুন, আরিফুল ইসলাম, মো. আব্দুল্লাহিল বাকী, মো. শাহিনুর রহমান, শারমিন মজুমদার, মন্টুলাল সরকার প্রমুখ।

এফএইচ/এমআরআর/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]