গার্ড অব অনারে নারীর বিকল্প রাখার সুপারিশ সংবিধান পরিপন্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:১৫ পিএম, ১৪ জুন ২০২১

মৃত্যুর পর বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গার্ড অব অনার দেয়ার সময় যেসব এলাকায় নারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রয়েছেন সেখানে বিকল্প খোঁজার সুপারিশ করেছিল সংসদীয় কমিটি। সেই সুপারিশের বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ।

সোমবার (১৪জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে মহিলা পরিষদ বলেছে, আমরা তীব্র ক্ষোভ ও গভীর বিস্ময়ের সাথে জানতে পারলাম, মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মৃত্যুর পর গার্ড অব অনার দেয়ার ক্ষেত্রে নারী ইউএনওর বিকল্প ব্যক্তি নির্ধারণের সুপারিশ করেছে। এই সুপারিশে মহিলা পরিষদ তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভ জানাচ্ছে। এই ধরনের সুপারিশ স্বাধীন বাংলাদেশে একেবারেই অগ্রহণযোগ্য, সংবিধান, নারীর মানবাধিকার ও ক্ষমতায়নের পরিপন্থী।

বিবৃতে আরও বলা হয়েছে, এই ধরনের সুপারিশ একজন নারীর জন্য যেমন অবমাননাকর, ঠিক একইভাবে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার জন্যেও অপমানজনক। কারণ, একটি স্বাধীন সার্বভৌম নারী-পুরুষের সমতাপূর্ণ প্রগতিশীল সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের জন্যই বীর মুক্তিযোদ্ধারা তাদের জীবন বাজি রেখেই মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। সংসদীয় কমিটির এ ধরনের সুপারিশ গ্রহণ জাতির জন্য দুর্ভাগ্যজনক।

মহিলা পরিষদ দাবি করে, বাংলাদেশে নারী ইউএনও বলে কোনো পদ নেই। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় কৃতকার্য হওয়ার মাধ্যমে এই পদে নিয়োগ দেয়া হয়। সেখানে নারী-পুরুষ বিভাজন সংবিধান বিরোধী।

নারীর ক্ষমতায়নকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে এই ধরনের ধর্মীয় মৌলবাদী বিভিন্ন অজুহাতকে প্রতিহত করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানায় মহিলা পরিষদ। সেই সঙ্গে এই সুপারিশ বাতিল ঘোষণারও জোর দাবি জানায় সংগঠনটি।

এফএইচ/এমএসএইচ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]