নির্দোষ আরমানকে গ্রেফতারে ৭ পুলিশ কর্মকর্তা দায়ী : পিবিআই

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৫৩ পিএম, ১৪ জুন ২০২১ | আপডেট: ১০:৩৪ পিএম, ১৪ জুন ২০২১

মাদক মামলায় ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত শাহাবুদ্দিন বিহারির পরিবর্তে রাজধানীর পল্লবীর নিরপরাধ যুবক মো. আরমানকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় সাত পুলিশ কর্মকর্তাকে দায়ী করে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্ত কমিটি।

তদন্ত কমিটির প্রধান পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খোরশেদ আলমের নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটির দেয়া এ প্রতিবেদন সোমবার আদালতে দাখিল করা হয়েছে। আগামীকাল মঙ্গলবার এ বিষয়ে বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানি হতে পারে বলে জানিয়েছেন আরমানের আইনজীবী ব্যারিস্টার হুমায়ুন কবির পল্লব।

প্রতিবেদনে যাদেরকে দায়ী করা হয়েছে তারা হলেন- পল্লবী থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পরিদর্শক মো. নজরুল ইসলাম, আরেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক মো. দাদন ফকির, মামলার প্রথম তদন্তকারী কর্মকর্তা সাবেক এসআই বর্তমানে পরিদর্শক সিরাজুল ইসলাম খান, আরমানকে গ্রেফতারে অভিযান পরিচালনাকারী টিম প্রধান সাবেক এসআই (বর্তমানে পরিদর্শক) মো. রাসেল, সাবেক এএসআই (বর্তমানে এসআই) হযরত আলী, তৎকালীন ডিউটি অফিসার সাবেক এসআই (বর্তমানে পরিদর্শক) মনিয়ারা আক্তার এবং সাবেক এএসআই (বর্তমানে অবসরে) খান ইমদাদুল হক। তারা কে কীভাবে দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেছেন তা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে ভবিষ্যতে এরকম পরিস্থিতি এড়াতে চার দফা সুপারিশ করা হয়েছে। সুপারিশগুলো হলো- (১) আসামির নামের সঙ্গে তার পিতা-মাতার নাম সঠিকভাবে লিখতে হবে। (২) আসামিকে গ্রেফতারের পর তার ছবি ধারণ করতে হবে। (৩) আসামির সঠিক নাম-ঠিকানা যাচাইয়ের জন্য অনুসন্ধান স্লিপের(ই/এস) সঙ্গে আসামির ছবি সংযুক্ত করতে হবে। বর্তমানে প্রচলিত অনুসন্ধান স্লিপের পরিবর্তে তদন্ত কমিটির প্রস্তাবিত ফরম ব্যবহার করতে হবে। এজন্য ওই ফরম ছাপিয়ে সকল থানায় সরবরাহ করতে হবে। এবং (৪) আসামির জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট (যদি থাকে), ড্রাইভিং লাইসেন্স (যদি থাকে) এবং জন্মনিবন্ধন সংযুক্ত করতে হবে।

হাইকোর্ট গত বছর ৩১ ডিসেম্বর এক রায়ে আরমানকে বেআইনিভাবে আটকের ঘটনায় দায় নিরূপণে তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দিতে পিবিআইয়ের উপ-মহাপরিদর্শককে (ডিআইজি) নির্দেশ দেয়া হয়। এই নির্দেশে পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খোরশেদ আলমের নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির প্রতিবেদন আজ হাইকোর্টে দাখিল করা হয়েছে।

ব্যারিস্টার হুমায়ন কবির পল্লব জানান, এই প্রতিবেদনের ওপর হাইকোর্টের বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

মাদক মামলায় নিরপরাধ আরমানকে কারাগারে বন্দি রাখা নিয়ে ‘কারাগারে আরেক জাহালম’ শিরোনামে ২০১৯ সালের ১৮ এপ্রিল একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এই প্রতিবেদন যুক্ত করে ল’ অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশন একটি রিট আবেদন করে। এই রিট উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করেন আদালত।

পরবর্তীতে এ নিয়ে প্রতিবেদনটি যুক্ত করে আরমানকে বেআইনিভাবে আটক রাখার বৈধতা নিয়ে আরমানের মা পৃথক একটি রিট আবেদন করেন। এর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত বছরের ৯ জুলাই হাইকোর্ট রুল দেন। আরমানকে ভুলভাবে আটক রাখা ও ক্ষতিপূরণ দেয়ার বিষয়ে রুলে জানতে চাওয়া হয়। রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে এই রিট আবেদনে হাইকোর্ট ৩১ ডিসেম্বর রায় ঘোষণা করা হয়। আদালতে ওই দিন রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী হুমায়ন কবির পল্লব। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী।

পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৫ সালের ৩০ আগস্ট রাতে পল্লবীর ৬ নম্বর সেকশনের সি ব্লকের ৮ নম্বর লেনের ৭ নম্বর ভবনের নিচতলার একটি ফ্ল্যাট থেকে ৪০ বোতল ফেনসিডিলসহ শাহাবুদ্দিন এবং তার দুই সহযোগী সোহেল মোল্লা ও মামুন ওরফে সাগরকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। এরপর তাদের বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়। এ মামলায় দুইবছর কারাগারে থাকার পর জামিনে মুক্তি পান শাহাবুদ্দিন।

মামলায় বিচার শেষে ২০১২ সালের ১ অক্টোবর রায় দেয় ঢাকার একটি আদালত। রায়ে শাহাবুদ্দিনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। কিন্তু রায়ের দিন শাহাবুদ্দিন পলাতক থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এ মামলায় ২০১৬ সালের ২৭ জানুয়ারি পুলিশ বেনারসি কারিগর মো. আরমানকে গ্রেফতার করে। সেই থেকে কারাবন্দি আরমান। মূল আসামি শাহাবুদ্দিনের বাবার নাম ইয়াসিন ওরফে মহিউদ্দিন। আর আরমানের বাবার নামও ইয়াসিন। দুই ইয়াসিনই মৃত।

এফএইচ/এমএসএইচ/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]