কক্সবাজারে জমি ভরাট, বিচারিক অনুসন্ধানের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:০৪ পিএম, ১৫ জুন ২০২১

কক্সবাজার সদরের বাঁকখালী নদীর তীরবর্তী উত্তর মুহুরিপাড়ার প্রায় ৬০ একর উর্বর জমি ভরাটের অভিযোগের সার্বিক বিষয়ে বিচারিক অনুসন্ধান করার জন্যে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দিতে কক্সবাজারের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে এই নির্দেশ প্রতিপালন করে প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

একইসঙ্গে মাটি ভরাট কার্যক্রমের ওপর স্থিতাবস্থা জারি করে রুলও জারি করেছেন আদালত। রুলে মুহুরিপাড়ায় জমি অবৈধ দখলকারীদের প্রতিরোধে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতা কেন অবৈধ হবে না, অবৈধ দখলকারীদের থেকে উদ্ধার করে জমির মালিকদের ফিরিয়ে দিতে ব্যর্থত কেন অবৈধ হবে না এবং অবৈধ দখলকারীদের থেকে উদ্ধার করে জমির মালিকদের ফিরিয়ে দিতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট।

ভূমিসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, কক্সবাজার সদরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি), সদর থানার ওসি, কক্সবাজার পরিবেশ অফিসের সহকারী পরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পক্ষে করা এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার (১৫ জুন) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. মুজিবর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।

আদালতে আজ আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ড. সৈয়দা নাসরিন, সঙ্গে ছিলেন মো. শাহীনুজ্জামান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এমএমজি সরোয়ার পায়েল।

চলতি বছরের ১৪ মার্চ একটি জাতীয় দৈনিকে ‘কক্সবাজারে অবৈধভাবে ভরাট হচ্ছে ৬০ একর ফসলি জমি, জমির মালিকরা অসহায়, প্রশাসন নীরব’ শীর্ষক প্রকাশিত প্রতিবেদন সংযুক্ত করে রিট করা হয়। ওই রিটের শুনানি নিয়ে এই আদেশ দেন আদালত।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কক্সবাজার সদরের বাঁকখালী নদীর তীরবর্তী উত্তর মুহুরিপাড়ার তিন ফসলি প্রায় ৬০ একর উর্বর জমি ভরাট করে ফেলা হচ্ছে। দুই কিলোমিটার দূরত্বে গড়ে ওঠা রেলস্টেশনকে কেন্দ্র করে বাণিজ্যিক চিন্তায় আবাসন প্রকল্প গড়তেই আইন উপেক্ষা করে রাত-দিন এসব জমি ভরাট করছে ভূমিদস্যু চক্র। শতাধিক কৃষক পরিবারের ‘অন্ধের যষ্টি’ তিন ফসলি জমি ভরাট থেকে রক্ষায় জেলা প্রশাসক, কৃষি বিভাগ, পরিবেশ অধিদফতর ও কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন দিয়েও কোনো সুরাহা পাচ্ছে না বলে অভিযোগ ক্ষতিগ্রস্তদের। অথচ ‘কৃষি জমি সুরক্ষা ও ভূমি ব্যবহার’ আইনে ফসলি জমি ভরাট করে কোনো স্থাপনা বা আবাসন প্রকল্প বা শিল্পকারখানা গড়ে তোলার কোনো সুযোগ নেই। কক্সবাজার কৃষি বিভাগ, উপজেলা প্রশাসন মাটি ভরাট রোধে উপযুক্ত আইন পাচ্ছে না বলে দাবি করলেও বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জনিয়েছে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।

কক্সবাজার সদর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রমতে, মধ্য ঝিলংজা ব্লকের বাঁকখালী নদীর তীরবর্তী প্রায় ৬০ একর জমি পলি-দোআঁশ বেষ্টিত অতি উর্বর জমি। এসব জমিতে আমন ও বোরোর মৌসুমে প্রায় ১০ হাজার মণ ধান উৎপাদন হতো। এসব ধানের বিক্রি মূল্য দাঁড়াতো প্রায় ১ কোটি টাকা। পাশাপাশি আমন মৌসুমে ধানের পাশাপাশি শাকসবজি চাষ হতো।

এফএইচ/ইএ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]